স্টার্টআপ জার্নি (২০২৪)
তারিখ: ২ মে ২০২৪
তমাল মাঝরাতে এক অদ্ভুত স্টার্ট আপ এর আইডিয়া নিয়ে সকালে উঠে। উঠেই তার মনে হয় এমন আইডিয়া নিয়ে আর কেউই কখনও ভাবেনা। এতটাই উত্তেজিত যে সকালেই সেই নামে একটি ডোমেইন কিনে ফেলে। দুপুরের নাগাদ নিজের নামে সিইও লেখা একটি বিজনেস কার্ড বানিয়ে ফেলে। বিকালে সবাইকে দেখায় তার কার্ড। কার্ডের উপর হাত বুলিয়ে নিজের নামের পাশে সিইও লেখাটিতে হাত বুলিয়ে কি যে শান্তি পায়। নিলিমার বুকের উষ্ণ স্থানের পরশেও এমন শিহরণ হয়নি। তারপরের কয়দিন সে ব্যাস্ত থাকে ফেসবুকে লাইভে আর টিভিতে। সবাইকে বলে বেড়ায় কি চমৎকার তার আইডিয়া। মিডিয়াতে সবাই তাকে নিয়ে ব্যস্ত। তার স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। সে বুঝতে পারে যে একটা ছক্কা মারতে যাচ্ছে। মার্ক জাকারবার্গ ও মনে হয় এমন দাও মারতে পারেনি।
সবার এত আগ্রহ দেখে মা-কে বুঝিয়ে তার গয়নাগুলি বিক্রি করে সে গুলশানে বিশাল একটি অফিস নেয়। তার ডেকোরেশন নিয়ে সে মহা ব্যাস্ত। তার অফিসে আনাগোনা করতে লাগলো মিডিয়ার লোকজন ও চাকুরিপ্রার্থিরা। যে চাকুরির জন্য সে এতদিন হন্য হয়ে ঘুড়ছিল। না চাকুরি পেলে নিলিমা বিয়ে করবে না, সেই চাকুরি আজকে তার হাতে। পরিচিতরা সবাই তার কাছে পাঠাতে লাগলো সিভি। তাদের ইন্টারভিও নিতে তমালের বেশ লাগে। তমালের যে কোন কথায় সবাই হাসে। খুব ভালো লাগে তমালের।
এইভাবে তার স্বপ্নের দিনগুলি ভালোই যাচ্ছিল। মিডিয়ায় কখন কোন জায়গায় ইন্টারভিউ দিবে তার জন্য একজন ব্যক্তিগত সেক্রেটারিও রেখে দেয়। বিদেশে সে যোগাযোগ শুরু করে দেয়। অনেক কষ্টে একজন ইনভেস্টরের সাথে একটা সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেয় তার একজন পরিচিত। তাকে সেজন্য কিছু হাতখরচও দিতে হয়েছিল। সে যাককে কিছু দিলে তো কিছু পাওয়া যায়।
কিন্তু কোনই কাস্টোমার তার জুটে না। আস্তে আস্তে মিডিয়ার লোকজন সরে যায়। সরে যায় নিলিমা।
তমাল কি ভুুল করেছিল?