অনলাইনে ফ্রি গান ন্যাপ্সটার ও ফাইল শেয়ার
আপনারা যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ও গান শুনতে ভালবাসেন, তারা ন্যাপ্সটার (Napster)এর নাম শুনে থাকবেন। ইন্টারনেটের জগতে এই ন্যাপস্টার বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। এই ন্যাপস্টার একটি ফাইল শেয়ার ব্যবস্থা যাতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা কোন গান, ছবি কিংবা সফট অন্য কম্পিউটার থেকে নিজের কম্পিউটারে ডাউনলোড করতে পারি। আজ তেমন ফাইলশেয়ার সমন্ধে বলব। বর্তমানে ন্যাপস্টার অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় তা বন্ধ হয়ে গেলেও এই জাতীয় ফাইল শেয়ার এর অনেক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, আজ সেই ধরনের কিছু সফট নিয়ে আলোচনা করব, কিভাবে তা কাজ করে এবং তা দিয়ে কিভাবে সহজেই অনেক দূস্পাপ্য গান আপনি সহজেই পেতে পারেন। আর ফাইল শেয়ার দিয়ে শুধুমাত্র গানই নয় বর্তমানে খুব সহজে ছবি, সিনেমা, গেম সফট, কম্পিউটার সফটও খুজে পাওয়া যায়। ন্যাপস্টার কিংবা এইধরনের ফাইলশেয়ার মূলত গানের mp3 ফাইলকে ভিত্তি করে গড়ে উঠে তাই প্রথমেই তা নিয়ে আলোচনা করব।
গানের mp3 ফাইল
mp3 ফাইল হল একটি বিশেষ ধরনের শব্দের ফাইল। এর মাধ্যমে খুব ছোট জায়গাতে একটি গানকে রাখা সম্ভব। বিস্তারিত এর জন্য “কিভাবে গানের mp3 ফাইল কাজ করে” প্রবন্ধটি পড়ুন এবং প্রবন্ধটি অনলাইনে এ পাবেন। mp3 ফাইল হল বিশেষ গানের ফাইল ফরম্যাট এর মাধ্যমে, একটি সাধারণ গানের সিডি এর গানকে আমরা খুব সহজে mp3 ফাইলে রুপান—রিত করতে পারি ও সিডির গানকে কমপিউটারে সংরক্ষিত করতে পারি। mp3 এর ক্ষেত্রে খুব কম মেমরি এর প্রয়োজন হয়। যেমন, একটি সাধারণ সিডিতে ১৫টি কিংবা তার থেকে কিছুটা কম বেশী গান থাকতে পারে, কিন্তু এই mp3 এর মাধ্যমে গানগুলিকে সংকোচন করে আপনি একটি সিডিতে ২০০ টির মত গান সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। এইভাবে সংকোচন করতে পারার মূল রহস্য হল, mp3 তে গানের অপ্রয়োজনীয় তথ্য যেগুলি আমরা কানে শুনতে পারি না তা বাদ দিয়ে সংকোচন করে হয় এবং সঢ়বম ষধুবৎ ৩ নামে বিশেষ সংকোচন প্রণালী ব্যবহৃত হয়। এটি বর্তমানে ফাইল সংকোচন করে রাখার বিশেষ প্রণালী, যা ভিসিডি, ডিভিডি তে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ইন্টারনেটে অনেক সাইটে আপনারা এই গানের mp3 ফাইল পেতে পারেন ও ইন্টারনেট থেকে আপনাদের কম্পিউটারে ডাউনলোড করতে পারেন। ণধযড়ড় কিংবা এড়ড়মষব জাতীয় সার্চ ইঞ্জিন দিয়ে আপনার পরিচিত কোন গায়কের গান খুঁজে তা ডাউনলোড করতে পারেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বেশীরভাগই সেই সাইটগুলির লিংক বা ঠিকানা ভুল কিংবা কাজ করে না। তার প্রধান কারণ হল স্বত্বাধিকার বা কপিরাইট। গানের কম্পানি কিংবা গায়কের অনুমতি ছাড়াই হোমপেজে কিংবা কোন পাবলিক সার্ভার এইভাবে কোন গান রাখা ও সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া আইনত অবৈধ। কেউ যদিও বা কোন গান তার হোমপেজে রাখে কিন্তু পরবর্তিতে কপিরাইটের কারণে তা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। কিংবা সেই সার্ভারটি জোরপূর্বক সেই সাইটটি বন্ধ করে দেয়। তাই বেশীরভাগই ক্ষেত্রেই সাধারণ সার্চ ইঞ্চিন দিয়ে কোন গানের mp3 ফাইল খুঁজলে সেই সমস্ত লিংকগুলি আপনারা ভুল পাবেন। এই সমস্ত সমস্যা থেকে সমাধান পাবার জন্য ঝযধহি ঋধহহরহম নিয়ে এনেছিল তার বিখ্যাত সফটওয়ার ন্যাপস্টার। ন্যাপস্টার নিয়ে ইন্টারনেটের জগতে কিংবা পত্রপত্রিকায় এত বেশী হৈ চৈ হয়েছে যে আর কোন সফট নিয়ে এতটা হৈ চৈ হয়নি।

চিত্র : ফ্যানিং তার ন্যাপস্টার নিয়ে
ঝযধহি ঋধহহরহম কিভাবে সাড়া জাগাল ? ১৯৯৯ সনের দিকে ফ্যানিং তার বন্ধুদের সাথে আলোচনা করছিল যে ইন্টারনেটে কিভাবে আরো সহজে গানের ফাইলগুলি খুঁজে পাওয়া যায় যেখানে এইরকমভাবে ভূল ঠিকানা আসবেনা। গানগুলির ফাইল সত্যিকারে যেখানে আছে শুধু সেই ঠিকানাই আসবে কিন্তু কোন ভুল ঠিকানা আসবে না। এবং সহজেই সেখান থেকে ডাউনলোড করা যাবে। ফ্যানিং তেমন একটি সিসটেম তৈরী করতে চাইছিল যাতে এই সমস্যাটি সমাধান করা যাবে। ফ্যানিং তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবার জন্য নিজেই প্রোগ্রামের কোড লিখতে বসে। মাত্র কয়েকমাসের পরিশ্রমে ফ্যানিং একটা নতুন সফট তৈরী করতে সক্ষম হয়। তার নতুন পদ্ধতির নাম রাখল ন্যাপস্টার। নামকরণের ব্যাপারে বলতে হয়, তার বন্ধুরা তাকে ঠাট্টা করে এই নামে ডাকত, তার উদ্ভুত চুলের কারণে। সে কোন গান ইন্টারনেটের কোন সার্ভারে আপলোড করলনা। গানগুলি থাকবে ব্যবহারকারিদের নিজস্ব কম্পিউটারে। ফ্যানিং এর তখন বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। সে প্রথমে তার প্রোগ্রামটি ফড়হিষড়ধফ.পড়স সাইটে রাখে। এই সাইটটি ফ্রিওয়্যার১ ও শেয়ারওয়্যার২ এর জন্য বিখ্যাত। ফ্যানিং তার ন্যাপস্টার এর ঘোষনা দেবার পরপরই অনেকেই তার সফট ইন্সটল করে ও ব্যবহার করে। তার সফটটি রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যায়। আলোচিত হয় বিখ্যাত পত্রপত্রিকাতে। যতই দিন যেতে থাকে ন্যাপস্টার এর ব্যবহারকারী বাড়তেই থাকে। আর যতি ব্যবহারকারী বড়তে থাকে ততই ন্যাপস্টার এর মাধ্যমে গান সহজলভ্য হয়ে উঠে। পৃথিবীর আনাচে কানাচে সবাই এই সফটটি ব্যবহার করে এবং গান আদান প্রদান করে। ফ্যানিং বুঝতে পারে সে আলোড়ন করার মত কিছু একটা করেছে।
ন্যাপস্টার কিভাবে কাজ করত? ন্যাপস্টার দিয়ে গান শেয়ার করবার জন্য আপনার প্রয়োজন হবে ন্যাপস্টার সফটটি এবং ইন্টারনেট সংযোগ। যখন আপনি ন্যাপস্টার সফটটি চালু করবেন তখন কম্পিউটারে আপনি যে ফাইলগুলি শেয়ার করতে চান সেসব গানের ফাইলগুলি একটি লিস্ট তৈরী করবে যাকে ওহফবী ঋরষব বলে। এরপরে আপনার পছন্দমত একটা নামে (ঘরপশ হধসব) ন্যাপস্টার সার্ভার এ লগ করবে ও আপনার ইনডেক্স ফাইলটি সার্ভার এ পাঠাবে। ফলে ন্যাপস্টারের সার্ভার জানবে আপনার অবস্থান ও আপনার কাছে কি কি গান আছে। মনে করুন পৃথিবীর অপরপ্রানে— আরেকজন এই ন্যাপস্টার ব্যবহার করে একইভাবে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েছে ও তার লিস্টে আপনি যে গানটি খুঁজছেন তা আছে। ন্যাপস্টার সফটের ঝবধৎপয অংশে, আপনি যে গানটি খুঁজছেন তার নাম, এলবাম এর নাম কিংবা গায়কের নাম দিয়ে সার্চ করবেন, তখন আপনার ন্যাপস্টারটি সার্ভার এ সব লগ করা ব্যবহারকারিদের লিস্ট ফাইলে খুঁজে দেখবে, সেই গানটি কোথায় আছে। মনেকরুন তারপর পৃথিবীর অপরপ্রানে— অন্য কারো কম্পিউটারে সেই গানটি খুঁজে পেলেন। ন্যাপস্টার তারপর নিুে চিত্রের মত আপনার কম্পিউটারের সাথে গান থাকা অন্য কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে, এবং সেই কাঙ্খিত গানটি ডাউনলোড করে নিয়ে আসবে। ন্যাপস্টার চববৎ ঃড় চববৎ (চ২চ) পদ্ধতিতে ফাইলগুলিকে আদান প্রদান করে। এই পদ্ধতিতে সরাসরি আপনার কম্পিউটারের সাথে অন্য কম্পিউটারের সংযোগ হবে। ন্যাপস্টার এর ব্যাপারটা অনেকটা আপনি আপনার বন্ধুকে যেভাবে গানের কোন সিডি কিংবা ক্যাসেট ধার দেন। হয়তোবা ইন্টানেট ব্যবহার করে পৃথিবীর অপরপারের কেউ আপনার কম্পিউটারে রাখা গানের ফাইলটি নিচ্ছে কিংবা হয়তো আপনার পাশের ঘরের কেউ নিচ্ছে। হয়তো আপনার পছন্দের গানটি পেয়ে যাবেন পৃথিবীর কোন না কোন ন্যাপস্টার ব্যবহারকারীর কাছ থেকে।

চিত্র : ন্যাপস্টার যেভাবে কাজ করে ফাইল আদান প্রদান করতো
আইনগত জটিলতা
ন্যাপস্টার এর মাধ্যমে খুব সহজে কপিরাইট গান বিনা মূল্যে যে কেউ কপি করে নিতে পারে। এবং এটা নিয়েই গানের ইন্ডাস্ট্রির যত মাথাব্যাথা। কেননা এইভাবে সবাই গান কপি করে নিলে কেউ সিডি না কিনলে কম্পানিগুলি সিডি তৈরীর অর্থ উপার্জন করতে পারতনা, ফলে গায়করা তার পারিশ্রমিক পাবেনা। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি কম্পানিগুলি সেজন্য উঠে পড়ে লেগে আছে এই ন্যাপস্টার জাতীয় সফটের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে ন্যাপস্টার এত বিখ্যাত হল যে সবাই ন্যাপস্টার দিয়েই গান ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডাউনলোড করে নিল। আর এই সমস্ত গানগুলি সাধারণত mp3 ফাইল। এই ফাইলটি দিয়ে পুনরায় সাধারণ সিডি তৈরী করে নেয়া যায়। কিংবা কোন mp3 পেয়ার দিয়ে শোনা যায়।
ন্যাপস্টার এর ব্যবহারকারিদের একটা বড় অংশই হল ছাত্র। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে ন্যাপস্টার সবথেকে বেশী সাড়া জাগিয়েছিল ছাত্রদের মাঝে। কেননা তারা বিনামূল্যে গান পাবার ব্যাপারে আগ্রহি। একটি গানের সিডি কিনতে যেখানে ১০০০ টাকার মত লাগবে সেখানে এই ন্যাপস্টার দিয়ে বিনামূল্যে গান পাওয়া যায়। শুধু প্রয়োজন হবে ইন্টারনেট সংযোগ। কিন্তু ছাত্ররা তাদের বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা স্কুল কলেজে অনেকসময় ইন্টারনেট সংযোগ বিনামূল্যে পেয়ে থাকে। ফলে তারাই বেশী ন্যাপস্টার ব্যবহার করে।
কপিরাইট এর গান কপি করে নেয়া আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ। ফ্যানিং এর সামান্য প্রোগ্রামটি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির জন্য হুমকি সরুপ হয়ে দাড়ায় তাই পরিশেষে তারা এই ন্যাপস্টার এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। পত্রপত্রিকাতে ন্যাপস্টার আলোচনার ঝড় তোলে। তার পরেই ন্যাপস্টার এর জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়। প্রথমে কোট ঘোষনা দেয় যে মামলার ফলাফল ঘোষনা না হওয়া পর্যন— ন্যাপস্টার চলতে পারবে। আর তারপরেই আরো সবাই ন্যাপস্টার এর দিতে ঝুকে পড়ে। কেউ কেই ন্যাপস্টার কে আইনত অবৈধ বলে আবার কেউ কেউ ন্যাপস্টার এর পক্ষে থাকে। পরিশেষে মামলার রায় ঘোষনা হয় এবং ন্যাপস্টার অবৈধ বলে ঘোষনা করে এবং জুন ২০০২ সনে ন্যাপস্টার বন্ধ করে দেয়া হয়। অবশ্য ন্যাপস্টার সবসময় বলে এসেছে, “কেউ যদি তাদের ব্যক্তিগত ফাইল অন্য কাউকে দেয় তবে তার জন্য ন্যাপস্টার দায়ি নয়”।
সার্ভার এ সরাসরি গান রাখে ও জনগনের জন্য উন্মুক্ত রাখে এমন অনেক সাইটই আছে, তার মধ্যে বিখ্যাত হল mp3.পড়স। কিন্তু মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি তাদের বিরুদ্ধে লাগেনি কেননা mp3.পড়স তে কম্পানিরাও গান রাখে সেই গানটি বিখ্যাত করবার জন্য। আবার অনেকক্ষেত্রে তা ডাউনলোড করবার জন্য অর্থ দিতে হয়। আর ফ্রি কিছু গান রাখে তা নতুন শিল্পীর গান জনগনের কাছে পরিচয় করে দেবার জন্য অনেকটা বিজ্ঞাপনের মতই ব্যবহার করে। আদালত শেষ পর্যন— ন্যাপস্টার বন্ধ করে দিল তার প্রধান কারণ হল, এটি একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেস রাখত যেখানে জানা যেত কার কার কাছে কি কি গান আছে। ন্যাপস্টারের এই কেন্দ্রীয় ডাটাবেস এর ব্যাপারেই আইনের আপত্তি ছিল। এই সংক্রান— সিদ্ধানে— আসা পর্যন— বেশ সময় লেগেছিল এবং এই সময়ের মধ্যে ন্যাপস্টার ব্যবহারকারি এর সংখ্যা ১০ কোটিতে পৌছেছিল। যখন ন্যাপস্টার এর কেন্দ্রীয় ডাটাবেস বন্ধ করে দেয়া হল তখন পৃথিবীতে এই ১০ কোটি ব্যবহারকারিরা এইরকম শেয়ার করবার সিস্টেম এর জন্য খোঁজ করতে লাগলো।
এল নতুন ফাইলশেয়ার সফট
ন্যাপস্টার যখন আদালতে উঠল তখন খুব শীঘ্রই ন্যাপস্টার এর বিপল্প অনেক ফাইলশেয়ার সফট বের হল যা আইন দিয়ে বন্ধ করা যাবেনা। অন্যান্য ফাইলশেয়ারের সফটগুলি ন্যাটস্টার এর মত ভুল করলনা। ন্যাপস্টার এর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ডাটবেস তৈরী করে ভুল করেছিল যা আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ। পরবর্তিতে যেসব ফাইল শেয়ার এর পোগ্রাম এল তা এই ভুলটি আর করেনি। এর মধ্যে বিখ্যাত কয়েকটি হল: Gnutella, ঢড়ষড়, বসঁষব ইত্যাদি। ন্যাপস্টার শুধু মাত্র গান শেয়ার করবার জন্যই ব্যবহৃত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এই ফাইলশেয়ারের সফটগুলিতে শুধু গানই নয় ছবি, সিনেমা, কম্পিউটার গেমস কিংবা সফট সহ যে কোন কিছুই শেয়ার করা যায়।
Gnutella কিভাবে কাজ করে?
Gnutella কোন একক সফট নয়। বরং অনেকেই একে Gnutella নেটওয়ার্ক বলে। ন্যাপস্টার এর ক্ষেত্রে একটিই সফট দরকার ছিল, তা দিয়েই গানের ফাইল খুজতে হত কিংবা শেয়ার করা যেত, কিন্তু Gnutella এর ক্ষেত্রে অনেকগুলি সফট দিয়ে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যায়। তার মধ্যে নামকরা কিছু হল:
• Bear Share (http://www.bearshare.com) • Gnucleus (http://www.gnucleus.com) • LimeWire (http://www.limewire.com) • Morpheus (http://www.morpheus.com) • WinMX (http://www.winmx.com) • XoloX (http://www.xolox.nl)
উপরের সমস্ত সফটই ফ্রি। Gnutella এর ক্ষেত্রে ন্যাপস্টার এর মত কোন কেন্দ্রীয় ডাটাবেস নেই যেখানে ব্যবহাকারিদের গানের লিস্ট থাকে। বরং Gnutella এর ক্ষেত্রে একটি কম্পিউটার আরেকটির সাথে সংযোগ করে এই Gnutella নেটওয়ার্কটি গড়ে তুলে। আপনি যখনই Gnutella এর কোন ক্লাইন্ট সফট চালু করবেন এবং ইন্টারনেটে সংযোগ দিবেন, তখনই আপনার কম্পিউটারটি এই নেটওয়ার্কের একটি অংশ হবে। মনে করুন আপনি প্রথমে যে কোন গান খুজতে শুরু করলেন, উদাহরণসরূপ নধনু মড় যড়সব.mp3 , তারপর তা আপনার Gnutella নেটওয়ার্কের তা নিুের মত আরো আটটির মত নেটওয়ার্কের কম্পিউটারে সেটা খুজবার কমান্ড দিবে, সে কম্পিউটারগুলি তার নেটওয়ার্কের আরো গভীরে খুজতে থাকবে।

চিত্র : Gnutella যেভাবে কাজ করে
এই পদ্ধতিকে ঞঞখ (ঞরসব ঃড় ষরাব) বলে। সাধারণত Gnutella ছয় কিংবা সাতটির মত গভীর লেভেলে সেটা খুঁজে। এবং তা যদি পাওয়া যায় তা জানাবে, এবং সেখান থেকে আপনার কাঙ্খিত সেই ফাইলটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এই সমস্ত ফাইলশেয়ার সফটগুলি ন্যাপস্টার এর মত হলেও এইসমস্ত সফটওয়ার আইনের ফাঁক ফোকর এর কারণে তার অস্তিত্ব বজায় রেখেছে ও অসংখ্য লোকেরা এটি দিয়ে অনেক গান, সিনেমা ও সফটওয়ার এইভাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসছে। বাজারে নতুন সফট বের হবার সাথে সাথেই এই ফাইলশেয়ার সিস্টেমগুলিতে তা সহজলভ্য হয়ে যাচ্ছে এবং অনেকেই মূল সফট কোন মূল্য না দিয়েই ফাইলশেয়ারের মাধ্যমে নিয়ে নিচ্ছে। আর এই নেটওয়ার্কগুলির অস্তিত্ব কোন একক সার্ভার এ না থাকায় তা বন্ধ করা আমাদের বর্তমান টেকনলজিতে অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

চিত্র : Xolox সফটের মাধ্যমে গান খোঁজা
লাভবান কে হয়? অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন - এই যে এত সব ফ্রি গানের কিংবা সফটের সিস্টেম তৈরী হচ্ছে কিন্তু লাভবান কে হয়? আপনাদের সরাসরিই উত্তর দিতে বলতে হয় - প্রকৃতপক্ষে কেউই লাভবান হয়না। ফ্যানিং তার ন্যাপস্টার দিয়ে লাভ করবার জন্য তা তৈরী করেননি। বরং সে দেখতে চেয়েছিল তার প্রোগ্রামটি কতটুকু কাজ করে, যদিও সে কল্পনাই করতে পারেনি যে সে এত বিখ্যাত হয়ে উঠবে। ন্যাপস্টার রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যাওয়ায় এই কম্পানিতে অনেকই টাকা ইনভেস্ট করে এবং এর শেয়ার এর মূল্য হটাৎ করে খুব মারাত্মক বেড়ে যায় কিন্তু পরিশেষে ন্যাপস্টার কম্পানি কোন লাভজনক কম্পানি হয়ে দাড়াতে পারেনি। বর্তমানে অন্যান্য যে সমস্ত ফাইলশেয়ারের প্রোগ্রাম বাহির হচ্ছে তার কোন কোনটিতে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দিয়ে কিছু অর্থ উপার্জন করে। যেমন ণধযড়ড় কিংবা অনেক হোমপেজের উপরে আপনারা বিজ্ঞাপন দেখতে পান। উদাহরণসরূপ চিত্রে ঢড়ষড়ঢ এর উপরের বারে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। এই ধরনের সফটকে অফধিৎব বলে। ফ্রিওয়্যার কিংবা শেয়ারওয়্যার থেকে এর পার্থক্য হল এডওয়্যারগুলি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে। যেখানে সাধারণত সফট কিনে ব্যবহার করতে হয় সেখানে এডওয়্যারের ক্ষেত্রে বিনামূল্যেই সফটটি পাওয়া যায়, কিন্তু যতক্ষন ব্যবহার করবেন ততক্ষন সফটের কোন অংশে বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন। এছাড়া কোন কোনটি ফ্রি সফট হলেও তার চৎড়ভবংংরড়হধষ ভার্সন এর জন্য তা অর্থ দিয়ে কিনতে হয়। উদাহরণ সরুপ ইবধৎঝযধৎব এর কথা বলা যায়। ইবধৎঝযধৎব এর ক্ষেত্রে তার দুটি সংস্করণ আছে, ফ্রি ভার্সন ও প্রফেশনাল ভার্সন। ফ্রি ভার্সনটি কম্পানির হোমপেজ থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায়। এই ফ্রি ভার্সন দিয়ে মোটামুটি ফাইল শেয়ার করা যায় ও ডাউনলোড করা যায় কিন্তু কিছু কিছু ডাউনলোড করবার জন্য ইবধৎঝযধৎব এর প্রোফেশনাল সংস্করণটির প্রয়োজন হয়। আর তা অর্থ দিয়ে কিনে নিতে হয়। প্রফেশনাল সংস্করণটি দ্রুত কাজ করে। এই সফটগুলি অটোমেটিক অনেকগুলি কম্পিউটার থেকে ফাইলটিকে ভাগ ভাগ করে ডাউনলোড করে। ফলে একটি ফাইল তুলনামূলকভাবে দ্রুত ডাউনলোড করা যায়। আবার কোন কারণে ডাউনলোড করতে করতে সেই কম্পিউটারটি বন্ধ করে ফেললে সেই অংশটি অন্য কোথাও থেকে ডাউনলোড করে।
আপনি যখন এই সমস্ত ফাইলশেয়ার দিয়ে কিছু ডাউনলোড করবেন তখন সেই ফাইলগুলি সাধারণত সবার সাথে শেয়ার হয়ে যায় এবং অন্যান্যরা আপনার কাছ থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারে। এইভাবেই দেয়া-নেয়ার মাধ্যমেই চলছে ফাইল শেয়ার সিস্টেম। আপনি যেমন ভাবে ফ্রি কিছু পাবেন তেমনি আপনার কাছে প্রয়োজনীয় কিছু থাকলে তা আপনি দিবেন। আর এটি আছে বলেই এই ফাইল সিস্টেম টি চলছে। ব্যাপারটা সহজে বলতে গেলে, মনে করুন আপনি ভিডিও সেন্টার থেকে কোন ভিডিও ভাড়া করে নিয়ে এনেছেন, তা আপনার কোন বন্ধুকে দিলেন। আবার বিপরীতে আপনার বন্ধুও কোন ভিডিও নিয়ে আনলে আপনাকে দিল। তাতে কে লাভবান হল? উত্তর হল, লাভবান হল আপনারা দুজনেই।
সতর্ক হোন এইভাবে অনলাইনে ফ্রি কোন কিছু ডাউনলোড করলে তাতে ভাইরাস কিংবা স্পাইওয়ার থাকার সম্ভাবনা থাকে। সেটি নিয়ে সতর্ক হোন। ডাউনলোড করার পরে অবশ্যই ভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য সফট (অহঃর ারৎঁং ংড়ভঃ) দিয়ে পরীক্ষা করে নিন যে তাতে কোন ভাইরাস আছে কিনা। অবার অনেকসময় এইসমস্ত ফাইলশেয়ার সিস্টেম আপনার নেটওয়ার্কের জন্য হুমকিসরূপ হয়ে দাড়ায় তাই আপনার মূল কম্পিউটারে যেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য আছে তাতে ব্যবহার না করে অন্য কোন কম্পিউটারে ব্যবহার করতে পারেন।
ফাইল শেয়ারের সফট দিয়ে ইন্টারনেট এর মাধ্যমে গান, ছবি, সিনেমা, সফট সবই আপনার হাতের নাগালে পাবেন। আপনার পছন্দের কোন গান রেকডিং এর দোকানে পাচ্ছেন না। কিংবা নতুন কোন এলবাম রিলিজ হয়েছে আপনার হাতে পৌছতে সময় নিচ্ছে কি? তাহলে এই ফাইলশেয়ার দিয়ে খুজে দেখুন। সৌভাগ্য হলে পেতেও পারেন। ইদানিং অনেক বাংলা গানও এই সমস্ত ফাইলশেয়ার সিস্টেমে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে।
❏ ৩রা সেপ্টেম্বর ২০০৩ ওকাজাকি, জাপান
লেখক পরিচয় : মো: মশিউর রহমান একজন তড়িৎ প্রকৌশলি। বর্তমানে জাপানের Okazaki National Research Institutes এ পিএইচডি করছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপরে লেখকের অন্যান্য প্রবন্ধের জন্য দেখুন biggani.org