নতুন এক সিঙ্গাপুরকে আবিষ্কার করুন এর দ্বীপগুলি ভ্রমণ করে (২০২৩)
তারিখ: ১৪ জানুয়ারী ২০২৩
দেশ বিদেশ থেকে অনেক পর্যটক সিঙ্গাপুরে ঘুরতে আসেন। কোভিডের আগে ২০১৯ সনে এক বছরে সিঙ্গাপুরে ১৮ মিলিয়ন পর্যটক এসেছিল। কোভিড পরবর্তীতে অন্যসকল দেশের আগে সিঙ্গাপুর পর্যটকদের জন্য কোয়ারেন্টাইনের বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে নেয়। তাই বর্তমানে প্রচুর পর্যটক সিঙ্গাপুরে ঘুরতে আসেন। সিঙ্গাপুরে ভ্রমণ করতে আসলে পর্যটকরা মূলত মেরিনা-বে এবং সেন্তোসা, চিড়িয়াখানা এবং বোটানিক গার্ডেন ঘুরতে আসেন।
তবে আমি রেকমেন্ড করবো সিঙ্গাপুরের কিছু দ্বীপ ঘুরতে যাওয়ার। সিঙ্গাপুরের এই প্রাকৃতিক দ্বীপগুলির নৈসর্গিক দৃশ্য সত্যিই অতুলনীয় এবং একটি নতুন সিঙ্গাপুরকে আপনি আবিষ্কার করতে পারেন সেই জায়গাগুলিতে গিয়ে। এই দ্বীপগুলিতে কোন মানুষ বসবাস করে না, তাই সন্ধ্যার আগেই শেষ ফেরিতেই চলে আসতে হয়। দ্বীপগুলিতে ময়লা ফেলার কোন ব্যবস্থা নেই। নিজের ময়লা বা আবর্জনা নিজেকেই নিয়ে ফিরে আসতে হয়। তবে টয়লেট ও বিশ্রাম নেবার ভালো ব্যবস্থা আছে।
আমি আপনাদের জন্যে সিঙ্গাপুরের আশেপাশের দ্বীপগুলিতে একটি দিনের ভ্রমণের একটা প্ল্যান দাঁড় করিয়েছি।
-
খুব সকালেই মেরিনা সাউথ পিয়ার (Marina South Pier, 31 Marina Coastal Drive, Singapore 018988)-এ চলে যাবেন। সেখানে ফেরির টিকেট কিনে নিবেন। ফেরির সিডিউল আপনি এইখানে পাবেন: https://islandcruise.com.sg/ferry-schedule/ । ফেরি যাত্রায় প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগে এবং একটি রাউন্ড-ট্রিপ টিকিটের জন্য জনপ্রতি প্রায় S$১৮ খরচ হয়। অর্থাৎ, একটি টিকেট কাটলেই সারাদিন ধরে সমস্ত দ্বীপ ঘুরে আবার ফিরে আসতে পারবেন। যদি আপনি আগেই প্ল্যান করে থাকেন তবে অনলাইনে টিকেট কাটতে পারবেন। তাদের সাইট হল https://islandcruise.com.sg/ । তবে ফেরি টার্মিনালে গিয়েও টিকেট কাটতে পারেন।
-
ফেরিতে বড় কোন ব্যাগ বা মালপত্র নিয়ে ভ্রমণ করা বেশ কঠিন, তাই ব্যাকপ্যাক নিয়ে নেবার অনুরোধ করবো। সাথের বড় ব্যাগ হোটেলেই রেখে আসুন কিংবা ফেরি টার্মিনালে লকারে রাখবার ব্যবস্থা আছে। সিঙ্গাপুরে যখন তখন বৃষ্টি হয় বলে সাথে ছাতা রাখতে ভুলবেন না। দ্বীপগুলি সিঙ্গাপুর দেশের মধ্যেই তাই আলাদা করে ভিসার প্রয়োজন নেই। তবে পরিচয় কনফার্মের জন্য পর্যটকদের সাথে তাদের পাসপোর্ট রাখতে বলা হয়।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে টিপস: দ্বীপের ভ্রমণে পাসপোর্ট ভিজে যাবার সম্ভাবনা থাকে, তাই একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়িয়ে নিতে পারেন। বাংলাদেশের পাসপোর্টে এক ধরনের আঠা ব্যবহার করা হয়, যা একটু সিক্ত হলেই কাগজগুলি নষ্ট হয়ে পড়ে সমস্যায় পড়তে হয়।
-
একটি বড়সড় ফেরিতে ৫০ জনের মতন ওঠে। বমি করে ফেলার মতন খুব বেশি ঝাঁকুনি হয় না, তবে একেবারেই যে হয় না, তা বলা যাবে না। ফেরির নিচের সাধারণ ডকে এয়ারকুলার লাগানো, যেখানে অনেক সিট থাকে। সিটগুলি নির্দিষ্ট নয়, তাই পছন্দমত যেকোন সিটে বসে পড়ুন। উপরের ডকে বসে আপনি সমুদ্রের বাতাস উপভোগ করতে পারেন। উপরের ডকে বসলে আমার প্রিয় গান "ওরে নীল দরিয়া" শুনতে পারেন। (https://www.youtube.com/watch?v=EyFzC5RYJic) ১৯৭৮-এ এমন একটা চমৎকার সিনেমা আবদুল্লাহ আল মামুন আমাদের উপহার দিয়েছিল। গানের কথা মুকুল চৌধুরীর, সুর আলম খানের এবং কণ্ঠ আব্দুল জব্বারের।
-
Island Cruise ফেরিতে করে প্রথমে কুসু দ্বীপে যাবেন। সেখানে সকালটা কাটান। সেখানে রয়েছে মন্দির এবং উপাসনালয়। তবে আমার কাছে সবথেকে ভালো লেগেছে সেই সমুদ্রের পানি। সমুদ্রের পাশেই বসার জায়গা আছে, সেখানে বসে সমুদ্রের বাতাসে সারাটা দিন কাটিয়ে দিতে পারবেন।
-
এরপরে ফেরিতে করে সেন্ট জনস দ্বীপে যাবেন। ফেরি যাত্রায় প্রায় ১৫ মিনিট সময় লাগে। সেন্ট জনস দ্বীপে দুপুরটা কাটান। সেখানে দুপুরের খাবার পাওয়া যায় না বলে, ফেরিতে ওঠার আগে কিছু খাবার কিনে নিতে পারেন। সিঙ্গাপুরে ভাত, সবজি ও মাছ-মাংস সহ খাবারের প্যাকেট পাওয়া যায়, যা আপনি যেকোন ফুড কোর্টে কিনতে পাবেন। সাথে পানি নিতে ভুলবেন না। ভ্রমণে বের হলে আমি ব্যাগে কিছু খেজুর ও চিড়া রেখে দিই। কোন খাবার না পেলে এগুলি দিয়েই খাবার সেরে ফেলি। সাথে বাচ্চা থাকলে তার নিজের খাবার নিতে ভুলবেন না। দ্বীপে কোন রেস্টুরেন্ট বা দোকান নেই।
-
সেন্ট জনস দ্বীপের সমুদ্র সৈকতে সাঁতার কাটতে পারেন। সেখানে একটি পার্ক রয়েছে, তবে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। সাঁতার কাটার প্ল্যান থাকলে একটি অতিরিক্ত পোশাক সাথে নিয়ে নেবেন এবং সেক্ষেত্রে জুতার পরিবর্তে স্যান্ডেল পরে ভ্রমণ করতে পারেন।
-
দুপুরটা কাটিয়ে ফেরিতে লাজারাস দ্বীপে যাবার জন্য আরেকটি ফেরি নিন। ফেরি যাত্রায় প্রায় ১৫ মিনিট সময় লাগে।
-
লাজারাস দ্বীপে সন্ধ্যা কাটান, সুন্দর সূর্যাস্ত এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ উপভোগ করুন। দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য দ্বীপের চারপাশে ঘুরে বেড়াতে পারেন।
-
সেখানে সূর্যাস্ত হবার আগে ফেরি নিয়ে মেরিনা সাউথ পিয়ারে ফিরে যান। এইখানে উল্লেখ্য যে, শেষ ফেরিটি কখন আছে তা নোট করে নিন। আমার যতদূর মনে পড়ে, বিকেল ৫টায় শেষ ফেরি, তাই সূর্যাস্ত না দেখেই ফিরে আসতে হয়েছিল। সেই শেষ ফেরিটি মিস করলে আর আপনি ফিরে আসতে পারবেন না। তাই গুরুত্বপূর্ণ হল শেষ ফেরির সময়টি নোট করে রাখা এবং তার দশ-পনের মিনিট আগেই মোবাইলে অ্যালার্ম দিয়ে রাখা।
-
ফেরিতে করে মেরিনা বে-তে একটি ডিনার করে দিনটি শেষ করুন।
দ্বীপগুলিতে মানুষ বসবাস না করলেও ফেরিঘাটে ফেরির লোকজন থাকে এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক আছে। টিপস হিসেবে খাবারের পাশাপাশি mosquito repeller নেবার উপদেশ দিব, কেননা অনেক সময়ই মশার কামড় খেতে হয়। এছাড়া সমুদ্রে নামবার আগে সানস্ক্রীন নিতে পারেন। উপরের লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন যিনি সিঙ্গাপুরে বেড়াতে আসবেন। একটা নতুন সিঙ্গাপুরকে আবিষ্কার করবেন বলেই আমার বিশ্বাস।
উপরের তথ্য ও প্ল্যানটি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা।