মশিউরের খেরোখাতা

এস এম মুর্শেদ এর লেখার সংগ্রহ

সম্পাদকের নিবেদন

একজন মানুষের মৃত্যুর সাথে সাথে তার নিজস্ব ভাবনা, স্মৃতি এবং অভিজ্ঞতা সবই চলে যায় সৃষ্টিকর্তার সমর্পে। শুধু মাত্র থেকে যায় সেই মানুষটার রচিত লেখাগুলি। সেই লেখাগুলির মাধ্যমে আমরা পাই সেই মানুষটির নিজম্ব চিন্তাভাবনা। তার স্মৃতিগুলি রয়ে যায় তার পরিচিতজনের মধ্যে।

এস এম মুর্শেদ এমনই একজন মানুষ যিনি থাকতেন সবার মাঝে। তার বাসাতে সব সময়ই মানুষের ভিড় লেগে থাকতো, যেনো সব সময়ই একটি উৎসব উৎসব ভাব।

মানুষ ধর মানুষ ভজ // শোন বলিরে পাগল মন // মানুষের ভিতরে মানুষ // করিতেছে বিরাজন** - **এই আদর্শে তিনি সবসময়ই মানুষে সাথে মিশেছেন, তাদের খোঁজ খবর রেখেছেন। ভীষন রকমের পরোপকারি এবং বন্ধুত্বমূলক, অতিথিপরায়ণ যা আজকের যুগে একেবারেই বেমানান। মানুষ যেখানে ভীষণ রকমের আত্মকেন্দ্রীক সেখানে তিনি সবার কথা বলতেন। সমাজের কথা বলতেন। এস এম মুর্শেদ এর রচনাসমগ্রীতে তার লিখিত রচনা, কবিতা ও ভ্রমণ কাহিনিগুলি একত্রিত করার প্রয়াস করা হল। এই লেখাগুলি সংগ্রহের জন্য তার সহধর্মিনি মাইমুননেসা প্রতি কৃতজ্ঞা।

তোমাকেই চাই

কেন যে এলোমেলো চিন্তাগুলো আমাতে

উদাস করে তোলে শুধু শুধু ভাবনা

নয় ভাবলেই হয় তবুও ভাবি হয়তো

একাকী বৈকালে আমাতে ভাবছো

আর যত আকাশের সোনালী রঙ মেখে

ক্লেওপেটরা অপ্সরীর মতো মনলিশীর হাসি হাসছো

কুয়াসার মেঘ ডিঙিয়ে ঋদ্ধ শিশিরের মতো

মনি মানিচ্যের মতো ঝিকমিক করে আলো ছড়াচ্ছো

অন্ধকার রাত্রিতে জোনাকীরা যেমন আলোর দেখা দেয়

তুমি আছো নীল নঙ্গ হয়ে আমি নয়নে রেখেছি সাগরের জল

কেন কাঁদে প্রাণ কি বেদনায় তোমার খুঁজি

হয়তো পূজার মÐপে হাই হিল আর সিলসিলা পড়ে

ইতি উতি চাওয়া চাইছি করছো

বড্ড হিংসা আর ইর্ষা জাগছে পর পুরুষের বুঝি

গায়ের ঋদ্ধ কড়া গন্ধের পারফিউমের ঘ্রানে মাতোয়ারা হচ্ছো

জানি না এত সব উদ্ভট খেয়ালত কোথা থেকে আসো

ইচ্ছে করলেও ঝেড়ে মুছে ফেলে দিতে পারি না

চাঁদকে চশমা চাঁদনী ছড়াপড়ে দেখেছি নাম এখন দেখি না

আমি কি করি কোন পথে যাই রক্ত প্রবাহ

ছুটযছে কিনকি দিয়ে আর বিড় বিড় করে লেছো

শুধু তোমাতে... তোমাকেই চাই... তোমাকেই চাই ।

বৈশাখের তরঙ্গে

বৈশাখের কঝড়ে তাÐব লীলা তচনচ

জ্যোষ্টের গরমে তাপদাহ উষ্ণ ধূলো

আষাড়ে মেঘ গুড় গুড় বৃষ্টির ছটা

শ্রাবনে অঝড় ধরেয়ে বৃষ্টি নামলে ।

ভাদ্রের ভরা গাঙ্গের নৌকার দাপা দাপি

অশ্বিনের ভেলা ভাসে

কার্ত্তিকের শিরশির বাতাসের ছোয়া

অঘ্রহনে মরা গাঙ্গের পাশে ।

পৌষের আগমনে নতুন ধানের ঘ্রাণ

মাঘের রাতে শীতে কাঁপে প্রাণ

ফাগুনের সুরে শিশ দেয় কোকীল

চৈত্রে ঝড়া পাতার শব্দে যায় যেন জানা ।

গ্রীষ্মের দানদাহে দরদর করে ঝড়ে ঘাস

বর্ষার রিম ঝিম শব্দে মতোন মন

শরতের কাসবন পেজাতুলোর মেঘ

হৈমন্তে দেখা মেলে হৈমান্তিক ধান ।

শীতের সোনালী রোদে

বসন্তের সূর্য ¯œান

বারো মাসে ছয় ঋতু ।

বাংলার ঘড়ে ঘড়ে

নববর্ষ সঞ্চৎসর

সব দিনে বলে হেসে

শুভেচ্ছা কী খবর \

প্রতীক্ষার দিন

প্রবাসে দিন গুনেছি প্রতি ক্ষণে

কখন ফিরবো স্বদেশে

ফিরোজ নামাজ শেষে আল্লার

দরবারে রেখেছি ফরিয়াদ \

শেষে বকুল করেছেন মহান আল্লাহ্

পেয়েছি নিজ দেশেরস্বাদ।

তাই তো পশ্চিম আকাশে দেকা মিললো

রমজানের কাখিত বাঁকা চাঁ^দ

সবাই মিলে সারা রমজান কাটালাম

রোজা, সিয়াম সাধনা আর জিকির বন্দনায়।

বড় অপেক্ষা সারা দিনে সেই সন্ধ্যায়

মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনির আশায়

কি অফুরন্ত প্রশান্তি সবাইকে নিয়ে ইফতারিতে

তৃপ্তির ঢেকুর তুলে আল্লার দরবারে মাগরিবের

নামাজের ফরিয়াদ করি পবিত্র ঈ যেন

এনে দেয় হিংসা বিদ্বেষ ভুলে কাঙ্খিত যত সাধ।

রমজান শেষে পশ্চিম আকাশে উদিত হলো চাঁদ

সিয়াম সাধনা নিয়ম নীতি শৃঙ্খলার

কঠিন বাধনে বেঁধে জমে সাধনার পথে

আল্লাহার মহাদান নেমে আসে শেষে।

রোজার শেষে ঈদের চাদ দেখে

সবাই যখন আনন্দে আত্মহার া

আমার তখন মনে পড়ে যায় ছেলেবেলার

ঈদের দিনের স্মৃতি কথা \

রক্ত ক্ষরণ

আমার তখন মস্তিস্কে রক্ত ক্ষরণ হয়

যখন দেখি বছরের ৩৬৪ দিন

বাদ দিয়ে ঘটা করে ১টি দিনে শহীদ মিনারের বেদাতে

ফুলের স্তরেকের অর্পন নিয়ে হুড়াহুড়া।

আমার মস্তিস্কে রক্ষ ক্ষরণ হয় যখন দেখি

নিজ শহরে অর্ধ নমিত কালো পতাকা হীন ইমারত

আর প্রতিষ্ঠান সমূহ দেখে।

আমার মস্তিকে রক্ত ক্ষরণ হয় যখন দেখি

কালো ভাষা ভাষি মানুষের মাঝে

সাহিত্য সাংস্কৃতি চর্চা বাদে

ঙ খধষধ ঙষধষধ আর জড়পশ ্ জড়ষষ এর দৃশ্য

একটি দিন ২১ শে ফেব্রæয়ারি কাছে ৩৬৪ দিনই

আমাকে পঙ্কিলতার মাঝে বসবাস

আর আবর্জনা সরাতে সরাতে ক্লান্ত হতে হয়

রাস্তাঘাট শহর বন্দরে ইংরেজী অক্ষরে

বড় বড় ঊঘঙঘ ঝওএঘ ইঙঅজউ< ইওখখ ইঙঅজউ

ইঅঘঘঊজ এমন কি ঊঘএখওঝঐ

গঊডঠগ কওঘঝঊজ এঅজঞঊঘ ঝঈঐঙঙখ এর ইংলিশ

হরফে বিজ্ঞঅপন আদালতে ইংরেজীতে রায় দিলেও

বাংলা অনুবাদের নিশ্চয়তা নেই,

ইংরেজ প্রাতি দোষের কিছু না

কিন্তু তা বাংলা নিধন করে নয়।

আমার মস্তিকে রক্ত ক্ষরণ হয়

নির্দিষ্ট একটি দিনেই \

রক্ত ক্ষরণ

পল্কিলতার মাঝ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে

আর আবর্জ্জনা সরাতে সরাতে আমি ক্লান্ত।

আরো বেশি ক্লান্তি বোধ করি যখন দেখি

আমরা বিশ্বে ২৫ কোটির ও অধিক বাঙালী কথা

বলি বাংলায়, লিখা লিখি করি বাংলায়

স্বপ্ন দেখি, মনের ভাব প্রকাশ করি

তবে কেন আমার সোনার বাংলায় একুশের চেতনা ভুলাইতে,

রাস্তা ঘাটে চোখ ফেরালে কেন এৎধহফ ঝধষব

আর দোকানের বড় বড় সাইন বোর্ডে ইংরেজী

অক্ষরে জ্বল জ্বল করছে ঙ খধষধ ঙষধষধ

হিন্দীর উচ্চারনে ইংরেজী হরফে লিখা ঝরষংরষধ

ঋধংরড়হ আরো উপমা ভরপুর। গাড়ীর নেম প্লেট।

ভাষা আন্দোলনের জন্য সালাম বরকত রফিক

জব্বারের আত্মহূতির মর্যদা জলাঞ্জলী দিয়ে যে রাষ্ট্রে

অফিস আদালতে ইংরেজীতে রায় দিলে ও

তার বাংলা অনুবাদের নিশ্চয়তা বিধান করতে

পারে না। এ গুলো আমাদের দাবি নয় আমাদের অধিকার।

ইংরেজী প্রীতি দোসের কিছু নয় কিন্তু তা কখনো

বাংলা নিধন করে নয়।

আমার মাস্তিস্কে রক্ত ক্ষরণ হতে থাকে কি বছর

যখন দেখি ঘটা করে একুশের পদক প্রদান

আর শহীদ মিনারের বেদীতে পুস্প স্ববক রাষ্ট্রীয়ভাবে

এবং সাংগঠনিক ভাবে অথচ

২৬ কোটি জনগণের সঞ্জমতা হন+++ আর জারির জন্য

লজ্বাসকর অর্ধনমিত কালো পতাকা উত্তোলন

বিহীন ঘড়বাড়ি প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি দেখে।

একুশ এলেই আমার রক্তক্ষরণ হয়।

সোনালী দিনের শপথ

আর ভালো লাগে না

এসব দেখতে দেখতে

জ্বালা যন্ত্রণা সইতে সইতে

শুধু কি জ্বালা রয়েছে গঞ্জনা

যে দিকে তাকাই শুধু বিড়ম্বনা

বড় বিশ্বাস আর মনের জোর নিয়ে

বেঁধেছিলাম কমর লড়াকুবেশে

হঠাশে যত জঞ্জাল যন্ত্রণা।

পেরে উঠতে পারছিনা।

এসব দৈত্যদানব বেশি পিশাচদের

কাছ থেকে পালিয়ে পালিয়ে

তাইতো চেয়ে আছি দূর করতে

একটা সময়ের কাছে

যা এনে দেবে সব হতাশা

জঞ্জাল গøানি দুদর্শা ভেঙ্গে

আনন্দ উচ্ছাস স্বাধীনতার স্বাদ

গড়ে তোলার প্রত্যাশা

ফিরে পাবো হারানো শক্তি

আবার নতুন করে জাগার

বিশ্বাস পথ চলার নিরাপদ ঠাঁই

দূর হবে গøানি উদিত হবে সোনালী সূর্য্য

দেশ গড়ায় ইতিহাস

তা হলো ঝরা পাতা ঝরে পড়ার মাস

চৈত্র শেষে এসো হে বৈশাখ।

সেই সব ছিল

স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠে

সেই সব দিন।

যে দিনের কথা মনে হলো

মনের পটে জেগে উঠে

ফেলে আসা দিনগুলির কথা

মুখে ছিলো শুধু হাসি

বুকে ছিলো উদ্দাম উচ্ছাস

কোথা থেকে কি ভাবে কেটে যেতো

দিন গুলি

বন্ধুদের সাথে চুটিয়ে আস্তা দিয়ে

ডানগুলি খেলা রমজান শেষে শাওয়ালের চাঁদ দেখা

¯্রােতাবহ নদীতে উচ্ছাস ভাটিতে

সাঁতার কাটো

চৈত্রের দুপুরে গাছের ছায়ায়

মা কে ফাঁকি কদিয়ে

গাছে উঠে ফল ফালারীর শ্রাদ্ধ করা

আর অভিভাবকের কাছে পড়শীর

নালিশ করা দুরু দুরু বুকে পা টিপে ঘড়ে ফেরা।

বর্ষার দিনে চুপি চুপি খলয় নিয়ে

মাছ ধরা, ডিঙ্গি নৌকায় বৈঠা ঠেলা

কখন ও বা কাগজের নৌকা বানিয়ে

পানিতে ভাসিয়ে দিয়ে

সেই দৃশ্য দেকা

আর বাড়ি ফিরে রাস্তায় কাপতে কাঁপতে

মায়ের বকুনী খ াওয়া, গামছা দিয়ে মাথা মুড়িয়ে দেয়া

হয়ে কোথায় হারিয়ে গেল সেই সব দিন।

নীলাভ আকাশে নীলিমার ছটা

গ্রীষ্ম কÐলীয় ঝড়ের আঘাতে

যেমন দূরন্ত হয়ে উঠেছিলো

ক্যঅটরিনা আর আইজাক

ঠিক তেমনই নাতিষ্ঠমতলীয় অবহাওয়ায়

শিশিরের ফোটাতে শান্ত ¯œীগ্ধ পরশ

বুলিয়ে দিয়েছিলো শান্তির ছোয়া।

মন যখন ভগ্ন ও বিষণœ তখন ইচ্ছে করে

দূর নলিমায় পাড়ি জমাতে

তাতেও কি শান্তি। না-লু হাওয়ার মত

উত্তপ্ত রোদের ছটা

জীবন এক বিচিত্র সৃষ্টির গড়া

বড় কাঠি রূঢ় এবং বাস্তায়

ভরা সুখ দুঃখ আবেগ আর সমৃদ্ধিতে

গড়া রোদ ছায়ার আলাপন

যা সহজে খÐনো যায় না।

বিধাতার ভাগ্যের লিখন।

যৌবনের অনির্বাণ

আমার নাক বন্ধ হয়ে এলেও

মনে হয়েছে তোমার ঘামের গন্ধই আমার সুখ

তোমাতে ¯øান করতে মন চাইলেও

সংযত করেছি আমার হাত দুটো

আমার ভাল বাসার কথা বলতে গিয়ে

আভেষ্ঠ হয়েছে আমার জিহŸা

তবুও তোমাকে শব্দ তুলে অন্য মাধ্যমে

শুনিয়ে দিয়েছি আমার আহŸানে\

তোমার খোলা চুলে হাত বুলাতে ইচ্ছা জাগে

কাঁঠের উপর পড়ে থাকা এলো মেলো

শরীরে কালœত জাগে, রক্তের গোপন আদেশে

তোমার হাত দুটো দাও, পাচ্ছো?

টের পাচ্ছো না অস্তিত্ব

তোমার জন্মান্ধ চোখে শুধু ভুল অন্ধকার

এবার আমাকে স্পর্শ করো

ঘামের গন্ধে জাগবে শিহরণ

খোলা চুলে দেখবে তাÐব ঝড়

বুক দুরু দুরু, তবুও প্রেমের সিস্ফনি

তুমি কি হতে চাও নাটোরের বনলতা সেন?

স্পর্শ যে কত শক্তি শালি

বোঝাতে লাগে ান কোনো উপমা

তুমি যখন আমার বুকে দুরন্ত কড়

তখন পরিপূর্ণ হৃদয় সঁপিয়া

পেমের দুর্বল লোভে

সেই নগ্ন হাতে ডেকেছি তোমাকে