মশিউরের খেরোখাতা

আজব রোগ

তারিখ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আমার সোনার দেশে এক আজব রোগ ঢুকছে, জানেন! বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যারেরা বিদেশি জার্নালে লেখার জন্য দিনকে রাইত আর রাইতকে দিন বানান। কিন্তু যেই না দেশের মানুষরে কিছু জ্ঞান দেওয়ার কথা আসে, অমনি কলমগুলা যেন বিড়ি ধরাইয়া বইসা থাকে। এ যেন সেই পণ্ডিতের মতো হাল, যে দেবভাষায় মন্ত্র বলতে পারে, কিন্তু পাশের বাড়ির কদমতলায় কী হচ্ছে তা জানতে চাইলে আমতা আমতা করে! পশ্চিমে নাকি শিক্ষকেরা ল্যাব থেকে বাইর হইয়া খবরের কাগজে লেখেন, টিভিতে বিজ্ঞানের প্যাঁচাল সহজ কইরা বুঝান। সেখানে সাধারণ মানুষও বুঝে কেন বিজ্ঞানীর মাথায় টাক পড়ে। আর আমাদের দ্যাশের স্যারেরা? রাজনীতি লইয়া পাঁচ কলাম লিখবে, কিন্তু নিজের সাবজেক্ট লইয়া কথা কইতে গেলে মনে হয় যেন পেটে বিদ্যার বদহজম হইছে! এই নীরবতার কারণে বিপদ হয় সাংবাদিকদের। সাংবাদিকরা তো আর বিজ্ঞানী না, তাই একটা ছোটখাটো গবেষণারেও এমনভাবে লেখে, যেন নিউটনের মাথায় আপেল না পইরা চাঁদ পড়ছিল। এতে গবেষকের হয় অযথা প্রচারের জ্বালা, আর পাবলিক হয় কনফিউজড। কিন্তু এই নীরবতার কারণডা কী? কুনো কুনো স্যার দেখি কয়, "বাংলায় লিখতে পারি না।" এ যেন সেই নবাবের পোলা, যে বাংলা বলতে শরম পায়, কারণ তার বউ বিদেশি! যেই লোক সারা জীবন জ্ঞান বিতরণের কাজ করছে, সে কি তার নিজের ভাষায় কিছু লেখে পাবলিকরে বুঝাইতে পারে না? নাকি উনারা ভাবেন, উনাদের জ্ঞান শুধু উনাদের নিজস্ব সম্পত্তি, যেইডার মধ্যে সাধারণ মানুষের ঢোকার অনুমতি নাই? এইডা তো জ্ঞানের ফটক আটকাইয়া রাখার মতো। আমার মনে হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যারেরা নিজেদের পাবলিক থেইকা একটু দূরেই রাখতে চায়। বিদেশি স্বীকৃতি উনাদের কাছে বেশি দামি। জ্ঞান যদি আলো হয়, তাইলে সেই আলোডা কেন কুয়ার মধ্যে লুকাইয়া রাখছেন? জ্ঞান তো কোনো ভুতের ধন না! আমি কইতাছি, এইডা শুধু সাংবাদিক বা প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব না। এইডা স্যারেগো নৈতিক দায়িত্ব। আপনারা যদি জ্ঞানের সত্যতা আর মূল্য বিশ্বাস করেন, তাইলে এই নীরবতা কেন? আপনেগো নীরবতা দেশের ভবিষ্যতের লাইগা বড় বাধা। তাই শেষে একটাই কতা—স্যারেরা, আপনেগো কলম কি চিরতরে বন্ধ থাকবো, নাকি এবার পাবলিকের লাইগা গর্জে উঠবো?