আমরা কি চাই? (২০২৪)
তারিখ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
একনায়কতন্ত্র এবং বিকেন্দ্রীকরণের মধ্যে পার্থক্য সমাজের শাসন কাঠামোতে গভীর প্রভাব ফেলে। একনায়কতন্ত্রের অধীনে সমাজে আপাত দৃষ্টিতে শৃঙ্খলা দেখা যায়, কারণ এক ব্যক্তি বা নেতা কেন্দ্র থেকে সব নিয়ন্ত্রণ করে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগ তার নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং ব্যবসায়ীরা সুবিধাজনকভাবে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে কাজ করতে পারে। নিয়মকানুন কার্যকর করার ক্ষেত্রেও একনায়কতন্ত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।
কিন্তু এই ধরনের শাসনব্যবস্থা আদতে একটি বড় ফাঁক তৈরি করে। একনায়কতন্ত্র সাধারণত মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করে এবং গুম-খুনের মতো অপরাধের দিকে প্রবণ হয়। বিচারবহির্ভূত শাস্তি প্রদান এবং আয়না ঘর পদ্ধতির মতো নিষ্ঠুর কার্যক্রম এই ধরনের শাসনব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য। এর ফলে খুব অল্প কিছু লোক, যারা একনায়কতন্ত্রের ঘনিষ্ঠ, বিশেষ সুবিধা পায়। সাধারণ জনগণ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে, কারণ শাসনব্যবস্থার সবকিছু একটি ব্যক্তির ওপর কেন্দ্রীভূত হয়।
একজন একনায়কের হাতে সীমিত সময় থাকে, তাই তাকে পুরো দেশ পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এজন্য তিনি তার বিশ্বাসযোগ্য একটি টিম তৈরি করেন যারা তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে। এইভাবে শাসন কাঠামোর মধ্যে আরও কিছু ক্ষুদ্র একনায়কতন্ত্র তৈরি হয় এবং একটি এলিট শ্রেণী সমাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। সাধারণ মানুষের সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়, কারণ একটি কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা সবসময়ই সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে, যদি শাসনব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয় এবং সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা যায়, গণতন্ত্র বা সমাজতন্ত্রের মত শাসনব্যবস্থায়, তখন সমাজে একটি সাম্যতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে। বিকেন্দ্রীকৃত শাসনব্যবস্থায় শাসকশ্রেণীর একনায়কতন্ত্রের অনুপস্থিতি থাকে, ফলে সব মানুষ সমানভাবে অংশ নিতে পারে।
তবে এই ধরনের শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সময় লাগে, বিশেষ করে যদি রাষ্ট্রটি দীর্ঘদিন ধরে একনায়কতন্ত্রের অধীনে পরিচালিত হয়ে থাকে। জনগণ ও ব্যবসায়ীরা এমন শাসনব্যবস্থার সাথে অভ্যস্ত না হলে সেখানে শুরুতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি চিন্তায় এই বিশৃঙ্খলা ধীরে ধীরে কমে আসে এবং সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
তাই আমাদের এখনকার অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে শাসন ব্যবস্থার উন্নতির জন্য কাজ করতে হবে। অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা থেকে আমাদের সরে আসতে হবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন নিজেদের উন্নতি করা এবং শিক্ষার প্রসার ঘটানো।
শিক্ষাই হল সমাজের মূল ভিত্তি। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে উন্নতি সম্ভব নয়। যেখানে ভারত একটি শক্তিশালী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, সেখানে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে আছি। একনায়কতন্ত্রের শাসকরা আমাদের অশিক্ষিত রাখার মাধ্যমে আমাদের ওপর শাসন করেছে, কারণ শিক্ষিত সমাজ তাদের শাসনের জন্য হুমকিস্বরূপ।
অতএব, আমাদের ভাবতে হবে আমরা কি একনায়কতন্ত্রের শাসনে থাকবো নাকি একটি সাম্যতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলবো। এই সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, সমগ্র সমাজের চাওয়া হতে হবে। আপনি কি চান ? কমেন্টে লিখতে ভুলবেন না।