মশিউরের খেরোখাতা

জীবনটাই একটা মাস্টার! (২০২৫)

তারিখ: ২৯ আগষ্ট ২০২৫

আরে ভাই, জীবনরে দেখি একেকটা পাগলা মাস্টার। এই বদমাইশের না আছে বই-খাতা, না আছে চক-ডাস্টার, কিন্তু শেখায় এমন স্টাইলে যে মনে হয়—"রে পাগল, তুরে লাইসেন্স দিলো কেডা?"

স্কুলের মাস্টার ভদ্র ছিল—আগে প্রশ্ন, পরে উত্তর। কিন্তু জীবন? এই হারামি উল্টা সিস্টেম চালু করছে। আগে জবাব দে, পরে প্রশ্ন শুনবি। আজকে হুজুরের সামনে "আমি কার বাপ" ভাব দেখাইলি? কালকেই প্রশ্ন আসবে—"ভদ্রতা কাকে বলে?" তখন তুই খালি মাথা চুলকাবি!

প্রকৃতিও এই স্কুলের শিক্ষক। সকালে সূর্য মামা জানালা দিয়া ধাক্কা দিয়া কয়—"কি রে, এখনো ঘুম?" রাইতে তারারা কয়—"একা ভাবিস না।" বাতাস কানে কানে কয়—"সব কিছু উড়ে যাবে।"

কিন্তু আমরা কি শুনি? নাহ! আমরা তো ইয়ারপড গুঁজে টিকটক দেখি। জীবন আকাশ থেকে সিগন্যাল দেয়, আমরা খালি ওয়াইফাই ধরি!

আজকাল আমরা এত ব্যস্ত যে জীবনের প্রশ্ন শুনি না। সারাদিন ইনস্টাগ্রাম ঘাঁটতে ঘাঁটতে বুঝি না, জীবন কখন পাশ কাটাইয়া গেছে। পরে ধাক্কা খেয়ে বলি—"আগে জানতাম না!" জীবন হাসে—"আরে পাগল, আমি তো কতবার বললাম!"

জীবন নাম্বার ওয়ান কুট্টি মাস্টার। গম্ভীর কথা হাসি-ঠাট্টায় শেখায়। কখনো ধাপ্পড় দেয়, কখনো পিঠ চাপড়ে দিয়া কয়—"বুঝলি?" আমরা না বুঝলে চোখ পাকায়—"তোরা এত জ্ঞানী হলে এত বিপদে পড়স ক্যান?"

তাই ঢাকাইয়া কবি মশিউর কয়, জীবন একটা কমেডি শো, আমরা অনিচ্ছুক কমেডিয়ান। শো চলবেই, তাই হেসেই উপভোগ কর!

আইজ শুক্রবার ১৪ই ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দতে এই মনের কথাটি লিখিত হইলো। ভালো লাগলে শেয়ার দিয়া দিয়েন।

(লিখতে লিখতে জানালা দিয়া সিংগাপুরের একখান সুন্দর দৃশ্য দেখলাম বইলা, এটাতে লাগাইয়া দিলাম)