মশিউরের খেরোখাতা

নানোটেকনলজি কি?

নানোটেকনলজি নিয়ে যত কথা শুনা যাচ্ছে, তা সত্যিই অবাক হতে হয়। জাপান এর জাতীয় গবেষণা বাজেট এর অধিকাংশই ব্যবহৃত হচ্ছে নানোটেকনলজি কিংবা নানো এর সাথে সম্পর্কযুক্ত গবেষনার জন্য। শুধু মাত্র জাপান এর নয় ইউরোপ ও আমেরিকার গবেষকরা এখন নানোটেকনলজি নিয়ে মহাব্যস্ত। গবেষকদের মধ্যে হিড়িক পড়ে গেছে এই নানোটেকনলজি নিয়ে। এই দিকে কিন্তু এশিয়া পিছিয়ে নেই। চীন, কোরিয়া ও তাইওয়ানে প্রতিষ্ঠীত হয়েছে নানো গবেষনাকেন্দ্র। কেন এই নানোটেকনলজি কে নিয়ে সবার আগ্রহ। তার একটা সহজ উত্তর হল, যে সামনের যুগ হচ্ছে নানোটেকনলজি এর যুগ। তাই প্রতিটি জাতিই এই নানোটেকনলজি এর অগ্রদূত হতে চায়। তাই এত প্রতিযোগীতা। আর এই প্রতিযোগীতা আছে বলে বিজ্ঞান এগিয়ে চলছে দ্রুতবেগে।

নানোটেকনজি কি?

নানোটেকনজির ক্ষেত্রে দুটি প্রক্রিয়া বেশ পরিচিত। একটি হল উপর থেকে নীচে ও নীচ থেকে উপরে। টপডাউন এর ক্ষেত্রে বড় কোন জিনিস কে কেটে, যা সাধারণত ঊঃপযরহম নামে পরিচিত। আর ডাউনটুটপ হল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকারের কোন জিনিস দিয়ে বড় কিছু তৈরী করা। আমাদের বর্তমান ইলেক্ট্রনিক্স টপডাউন টেকনলজি। নানোটেকনলজি হল বটম টপ। নানো মাপের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিস দিয়ে কোন বড় জিনিস তৈরী করা হবে এই নানোটেকনলজিতে। মনে করা যাক, আপনার একটা বিশেষ ডিএনএ দরকার। তখন সেই ডিএনএ এর উপাদান গুলিকে মিশ্রন করে সেই কাঙ্খিত ডিএনএ টি তৈরী করা হবে। তবে শুধু মাত্র বটম টু টপই নয় বরং বর্তমানে ব্যবহৃত টপটুবটম টেকনলজিও ব্যবহৃত হবে।

আমরা যারা কম্পিউটার ব্যবহার করি তারা জানি যে প্রতি বছরই কম্পিউটার এর দাম কমছে। আর প্রতিবছরই সস্তায় আগের থেকে আরো ভালো কার্যক্ষমতার কম্পিউটার পাওয়া যাচ্ছে। আসলে এই কম্পিউটার এর সাথেও নানোটেকনলজি এর সম্পর্ক রয়েছে। মূলত কম্পিউটার এর যে প্রসসর আছে, সাধারণত ইন্টেল এর প্রসেসর এর নাম আপনারা অনেকেই শুনে থাকতে পারেন। এই প্রসেসর এর ভিতরে রয়েছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নানোমিটার স্কেলের সার্কিট। আর তাতেও ব্যবহৃত হচ্ছে নানোটেকনলজি। ইন্টেল এর প্রসেসর এ যে সিলিকন এর উপর প্যাটার্ণ করে সার্কিট বানান হয় তার বর্তমান সাইজ হল ১০০ নানোমিটার। সামনের তিন বছর পরে এর আকার আসবে ৭০ নানোমিটাও ও সাত বছর পরে হবে ৫০ নানোমিটার। ইন্টেল আশা করছে যে ২০১০ সনের মধ্যে তারা ৩০ নানোমিটার এর সাইজে নিয়ে আনতে পারে। আর আজকের থেকে তখন এই প্রসেসর এর আকার আরো অর্ধেক ছোট হয়ে আসবে। সেই দিনটা আর বেশী দূরে নেই যখন আপনার মোবাইলটি কাজ করবে কম্পিউটারের মত। এছাড়াও রয়েছে কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক। এই হার্ডডিস্কের তথ্যসংগ্র্রহের ক্ষমতা দিনদিন বাড়ছে। এই হার্ডডিস্কেও ব্যবহৃত হয় নানোটেকনলজি। এখন বাজারে ১২০ গিগাবাইট এর হার্ডডিস্ক পাওয়া যায়। অথছ আজ থেকে বছর পাচেক আগে এটা কল্পনা করা অসম্ভব।

স্থির বিদ্যূত ভূত:

নানোটেকনলজি দিয়ে সার্কিট বানান যতটা সোজা বলে মনে করা হচ্ছে ব্যপারটা কিন্তু তেমন সহজ নয়। সেইখানে যে জিনিসটা সব থেকে সমস্যা সৃষ্টি করবে তা হল স্থির বিদ্যুত। শীতের সময় অন্ধকারে শুয়েটার খুলার সময় যে আলোর ছটা দেখা যায় তাই এই স্থির বিদ্যুত। ইলেকট্রিক সাকিটটের মধ্যে সাধারণত এই স্থিরবিদ্যুত থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু নানোটেকনলজির ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক সার্কিট কল্পনাতীত ছোট হয়ে যাবার কারনে, আমাদের গতানুগতিক পদ্ধতিতে সম্ভব নয়। স্থিরবিদ্যুত সমস্যা হবার কারণ হল তাপ। খুব ছোট জায়গাতে হলেও এই স্থিরবিদ্যুতের কারণে সার্কিটের ভিতরে ১৫০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেট এর মত তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এই তাপে সার্কিট তৈরীর উপকরণ গলে যেতে পারে। সেই কারণে ১৯৯৭ এর পরে ওঈ তে গতানুগতিক ভাবে ব্যবহৃত এলুমিনিয়ামের পরিবর্তে তামা ব্যবহৃত হয়। কেননা তামা গলনাঙ্গ ১০৮৩ যেখানে এলুমিনিয়ামের ৬৬০। ফলে অধিক তাপমাত্রাতেও তামা এলুমিনিয়ামের তুলনায় ভাল কাজ করবে।

চিকিৎসা এর জগতেও নানোটেকনলজি একটা বড় প্রভাব ফেলেছে। প্রথমেই বলতে হয় ডিএনএ এর কথা। এই ডিএনএ এর আকার নানোমিটার। আর তাই ডিএনএ সংক্রান— গবেষনাকেও অনেকে নানোটেকনলজি এর মধ্যে ফেলে। যদিও তা বায়োটেকনলজি এর মধ্যে পড়ে, কিন্তু ডিএনএ এর ভিতরে কর্মকান্ড হয় নানোস্কেলে।

তারিখ: ২৩ এপ্রিল ২০০৩