লেখক হবার গল্প
ছেলেবেলায় কখনই মনে হয়নি লেখালেখি করব। কালে ভাদ্রে বাবা-কে দেখতাম লিখতে। আমার বাবা রাজশাহী সমিতি ও রসায়ন সমিতির সাথে যুক্ত ছিলেন। আর এই দুটি সমিতি থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলিতে তিনি অনিয়মিত ভাবে লিখতেন। তবে মনে হয় সমিতির পক্ষ থেকে সবার চাপেই লিখতেন। অনেকদিন পরে হটাৎ বাবার কিছু লেখা পেলাম, এবং বেশ অবাক হলাম আমার আর বাবার বিজ্ঞানের প্রবন্ধগুলি লেখার কৌশল একদমই একই রকম। কেউ যদি আমাদের দুজনের প্রবন্ধ পড়েন, তবে ভাবতে পারেন যে হয়তো একই লেখকই দুটি লিখেছেন। এইরকম অদ্ভূত মিল কিভাবে হলো তা জানি না। আমার বাবার লেখাগুলি আমার কখনই পড়া হয়নি। কিংবা হয়তো পড়েছি আমি মনে করতে পারছিনা এবং নিজের অজান্তেই সেই স্টাইলটি আমি মেনে চলেছি আমার লেখার মধ্যে।
কেন একজন লেখক লিখেন? আমার লেখাগুলি পাঠক মহলে খুবই সমাদৃত হবে এবং তা হৈ চৈ ফেলে দিবে তেমন কখনই মনে হয়না। এই ব্লগ ছাড়া আমার লেখা মূলত বিজ্ঞানের প্রবন্ধ, বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকাগুলিতে কিংবা বিজ্ঞানী.org সাইটে। সেই সমস্ত লেখা মোাটামুটি কাটখোট্ট ধরনের। নিরস লেখা বলা যায়। যারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভালোবাসে তারা হয়তো তাতে আনন্দ খুজে পেতে পারে কিন্তু সাধারণ পাঠক (কিভাবে সাধারণ পাঠককে সজ্ঞায়িত করব?) তাতে রস খুজে যে পাবেননা তা দিব্যি বলা যায়। তবে লিখি কেন? সেটাই বসে বসে ভাবছিলাম। আসলে আমি মনে হয় লিখি আমার মনের তাড়নায়। লিখার পড়ে একটি সৃষ্টি করার আনন্দ আমাকে আপ্লুত করে রাখে। যেহেতু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমার পেশা তাই পেশাগত কারণে অনেক নতুন নতুন ভাবনা ও তথ্য এর সাথে পরিচিত হয় আমার আর তাই সেই নতুন জানা তথ্যগুলিই পাঠকদের সাথে শেয়ার করি।
২৪ আগষ্ট ২০১১