মশিউরের খেরোখাতা

স্বপ্নিল চোখ

২০০৮ এর শুরুর দিকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাশের পরে সবাইকে আমার আমেরিকা জাপানের ছবিগুলি দেখাচ্ছিলাম। সবাই বেশ স্বপ্নিল চোখে সেই ছবিগুলি দেখছিল। ক্লাশের পরে অনেক ছেলেমেয়েরা বলছিল, স্যার কোনদিন কি আপনার মতন বিদেশে পড়তে যেতে পারবে? অনেকেই তাদের স্বপ্নের কথা বলছিল। আমি বরবরাই স্বপ্নীল মানুষ, আর তাদের খুব উৎসাহ দিতাম। বলেছিলাম, "কেন নয়? একদিন তোমরাই ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বজগতে। জীবনটা তোমাদের আর তোমারই এই স্থপতি।" এর পরের কয়েক বছর ধরে অনেক রেফার লেটার লিখে দিয়েছি। মজার ব্যাপার হল সেই ক্লাশের বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরাই এখন বিদেশে পড়ছে। তারা সবাই যে আলালের ঘরের দুলাল তা নয়, কেউ কেউ ছিল একেবারেই মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়ে। অনেকেই ভালো ফলাফল করে বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়ছে। ফেসবুকে এখন বিদেশের ক্যাম্পাসগুলিতে তাদের পদচারণার ছবি দেখি। দেখলে এমনিতেই চোখে পানি চলে আসে, আবেগে আক্রান্ত হয়ে পড়ি। আমার বিশ্বাস একদিন তাদের মধ্যেই কেই হয়তোবা বদলে দিবে সব কিছু। কে না জানে শত্রুকে বধ করতে একটি বুলেটিই যথেষ্ঠ, আর একটি জাতিকে বদলাবার জন্য একজন নেতাই যথেষ্ট।

৩১ জুলাই ২০১৩