মশিউরের খেরোখাতা

মাথাটা আজকাল কোথায় থাকে, বলুন তো?

তারিখ: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাঙালির জীবনে সমস্যার অভাব নেই, এ কথা সর্বজনবিদিত। কিন্তু আজকাল একটি নতুন বিপদ এসে জুটেছে — মাথাটা ঠিক মাথার জায়গায় থাকছে না। মানে, মাথাটা আছে ঠিকই, কাঁধের উপরেই আছে, তবু তার ভেতরে যা থাকার কথা, অর্থাৎ চিন্তাভাবনা, স্মৃতি, বুদ্ধিসুদ্ধি — সেসব যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। চাবিটা কোথায় রাখলেন, মনে নেই। কী করতে ঘরে ঢুকেছিলেন, ভুলে গেছেন। আর ফোনটা হাতে তুলে নিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু কেন তুলেছিলেন — সেটা জিজ্ঞেস করলে জবাব দিতে পারবেন না। এই অবস্থার একটি চমৎকার ইংরেজি নাম আছে — "ব্রেইন ফগ।" বাংলায় বলতে গেলে বলা যায়, মাথার ভেতরে ঘন কুয়াশা।

এখন কেউ কেউ ভাবছেন, "আরে, এটা তো আমার স্বভাবগত সমস্যা, এর আবার চিকিৎসা কী?" ভাইসাহেব, ভুল ভাবছেন। মনোযোগের এই বেহাল দশার পেছনে কারণ আছে, এবং কারণগুলো মোটেই তুচ্ছ নয়। মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, ঘুমের অভাব, বিষণ্নতা, শরীরের পুরনো ব্যথা, এমনকি প্রতিদিন গিলে খাওয়া কোনো ওষুধও আপনার মাথার এই দুর্দশার জন্য দায়ী হতে পারে। তার মানে দাঁড়াচ্ছে, আপনি ফাঁকিবাজ নন — আপনার শরীর ও মন কেবল বিনয়ের সাথে জানাচ্ছে যে, "মশাই, একটু থামুন। আমার যত্ন নেওয়ার সময় এসেছে।"

তো এই মহাসমস্যার সমাধান কোথায়? সমাধান আসলে খুব দূরে নয়, তবে একটু ধৈর্য চাই। কাজের সময় ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন — কারণ ফোন হলো মনোযোগের সবচেয়ে বড় শত্রু, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। চিনিযুক্ত মিষ্টি খাবার খেয়ে মাথা চাঙা করার যে চেষ্টা করেন, সেটা বন্ধ করুন — চিনি আপনাকে ক্ষণিকের উৎসাহ দিয়ে মুহূর্তেই আরও বেশি ক্লান্ত করে ফেলে। বরং একটা আপেল বা কলা খান। রাতে ঠিকমতো ঘুমান — এবং এই "ঠিকমতো" কথাটাকে অবহেলা করবেন না। আর দিনে অন্তত দশ মিনিট চুপচাপ বসে থাকুন, শুধু নিঃশ্বাস নিন। এটাকে পণ্ডিতেরা "মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন" বলেন, আমরা সহজ বাংলায় বলতে পারি — একটু নিজের সাথে থাকা।

কিন্তু এতকিছু করার পরেও যদি দেখেন মাথার কুয়াশা কাটছে না, কাজে বা পড়াশোনায় দিন দিন পিছিয়ে পড়ছেন, ঘুম হচ্ছে না, আর সারাক্ষণ এক অদ্ভুত ক্লান্তি শরীরে বাসা বেঁধেছে — তাহলে একজন ডাক্তারের কাছে যান। এতে সংকোচ করবেন না। পেটে ব্যথা হলে যেমন ডাক্তার দেখান, মাথার সমস্যায়ও ঠিক তেমনি দেখাবেন। মস্তিষ্কও তো শরীরেরই একটা অঙ্গ — তার অধিকার কি কম?

পোস্টটি পড়ে যদি মনে হয় কাজের কথা বলা হয়েছে, তাহলে একটু শেয়ার করুন। হয়তো আপনার পরিচিত কেউ এখন ঠিক এই সমস্যায় ভুগছেন এবং জানেনই না যে এর একটা সমাধান আছে। নিজের যত্ন নিন। ভালো থাকুন। ❤️