মশিউরের খেরোখাতা

আমরা কি সত্যিই স্বাধীন? (২০২৩)

তারিখ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৩

২০১২ সনের আগে আমার ধারণা ছিল আমার প্রতিটা প্রাণী ও মানুষ আমরা সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাধীনভাবে বিভিন্ন ধরনের কাজ করি। কিন্তু ২০১২ তে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তে গবেষণা করতে যেয়ে প্রথম ধাক্কা টা খেলাম ।

আমাদের সমস্ত আচার-আচরণ সবই জিন এর বহিঃপ্রকাশ। অর্থাৎ কারো মধ্যে যদি বিশেষ ধরনের জিন এর আধিক্য বেশি থাকে, তবে সেটা দিয়ে তার আচরণ প্রভাবিত হতে পারে।

যেমন মনে করা যাক রাগী মানুষের এক ধরনের জিন থাকে। আবার শান্ত সৃষ্ট মানুষের ও আরেক ধরনের জিন থাকে।

মজার ব্যাপার হলো আত্মহত্যা প্রচেষ্টাও এক ধরনের জিন দ্বারা প্রভাবিত হয়। যেমন মনে করা যাক জাপানিজদের মধ্যে অনেক সময় এই আত্মহত্যার জিনটি বেশি পাওয়া যায়।

আমরা গবেষণাগারে মাছি এর একটি জিন পরিবর্তন করে , তাকে উল্টো দিকে হাঁটতে বাধ্য করেছিলাম। অর্থাৎ সামান্য জিনকে পরিবর্তন করে জীবজগতের আচার-আচরণ কে পরিবর্তন করা সম্ভব। (এটা নিয়ে একটা চমৎকার বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ রয়েছে)

আপনারা শুনলে অবাক হবেন যে ভালবাসারও এক ধরনের জিন রয়েছে। মানুষ , ডলফিন সহ এমন কিছু জীবের মধ্যে এই ভালোবাসার জিন টা দেখা যায়। আবার এই জিন'টার আধিক্য কিংবা কম এর কারণে , মানুষ ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে কিংবা ভালোবাসার ক্ষমতা আলাদা হতে পারে।

অর্থাৎ আমাদের সবকিছুই পরিবর্তিত হচ্ছে একটি ব্লু প্রিন্ট এর মাধ্যমে। একটু বড় আঙ্গিকে দেখলে দেখা যায় যে , আমাদের মহাবিশ্বের সবই কিন্তু পরিবর্তন পরিচালিত হচ্ছে একটি মহাজাগতিক ব্লু প্রিন্ট এর মাধ্যমে।

ভাবতেই শিহরিত হযই , সৃষ্টিকর্তা কত সুন্দর করে এই বিশ্বটাকে তৈরি করেছেন।

তখন মনে হয় , আমাদের এই সমস্ত অহংকার , সম্পদ, গৌরব , ধন দৌলত কিছুই নয়। ভীষণ রকমের প্রকৃতির কাছে কিংবা সৃষ্টিকর্তার কাছে সমর্পণ করতে হয় আমাদেরকে।

সিঙ্গাপুর, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩