শুনতেছেন নাকি?
তারিখ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
শুনতেছেন নাকি? ডিপমাইন্ডের সেই নামজাদা ভাইজান—ডেমিস হাসাবিস—গত ১২ সেপ্টেম্বর গ্রীসের এথেন্সে গিয়ে একখান মজার ধামাকা কইরা দিলেন। কইলেন, “আরে ভাই! আপনে যতই আইটি কোর্স, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শেখেন না কেন, কয়দিন পরই এইসব স্কিল পুরা বাসি, বাসি!” এই কথা শুইনা আপনের চায়ের কাপ যদি হাত থাইকা না পড়ে, তাইলে আপনে আসল খবরটা এখনো ধরেন নাই। আর যদি পড়েও যায়, তাইলে সেই চায়ে আর চুমুক দিয়া লাভ নাই, কারণ সেইটাও বাসি হইয়া গেছে!
ভাইজান কইতেছেন, এআই এখন প্রতি সপ্তাহে নতুন নতুন খেলা দেখাইতাছে। আজ যে জিনিস শিখতেছেন, কালই সেটার গায়ে ধুলা পড়ব, আর পরশু আপনে মনে করবেন এইটা আবার কোন প্রাগৈতিহাসিক কাহিনি! আপনে ভার্সিটি থাইকা বাইর হইবার আগেই আপনের চার বছরের পড়া পুরা মিউজিয়ামের আইটেম হইয়া যাইব, আর আপনের সার্টিফিকেটটা মনে হইব কোনো প্রাচীন পুঁথি! আমাগো দাদারা কইত, “বিদ্যা হইল গরুর গাড়ি—আস্তে আস্তে গেলেও ঠিকমতো যায়।” ভাইজান ডেমিস কইলেন, “আরে মিয়া! সেই গরুর গাড়ির আমল শেষ, এখন রকেটের লগে পাল্লা দেওনের সময়। আপনেরা যদি এখন গরুর গাড়ি নিয়া রকেটের লগে দৌড়ান, তাইলে তো অবস্থা পুরা কেরোসিন!”
এইজন্যই তিনি জোর কইরা কইতেছেন— “মেটা-স্কিল” ধরেন। মানে কেমনে শিখতে হয়, সেই কৌশল। আজ বায়োলজি, কাল কম্পিউটার, পরশু কে জানে কোন নতুন ঝামেলা—সবখানে লাফ দেওনের ক্ষমতা রাখতে হইব। যে আপনে নতুন নতুন জিনিসের লগে কানেকশন ধরতে পারতেছেন, নতুন আইডিয়ার লগে পুরানা আইডিয়া মিলাইয়া নতুন খিচুড়ি রানতে পারতেছেন, সেই আপনেরই চলবে রাজত্ব। শুধু সঠিক উত্তর মুখস্থ কইরা পরীক্ষার খাতা ভরাইলেই হইব না; শেখার খেলায় মজা নিতে হইব, আর সেই মজার ঠেলায় পাশের লোকের চায়েও যদি ফেনা ওঠে, তাইলে বুঝবেন আপনি লাইনে আছেন!
কাজের বাজারও নাকি এখন পুরা রোলারকোস্টার। যারা একখান সার্টিফিকেট নিয়া বাসায় কম্বল মুড়ি দিয়া গুমাইয়া আছেন, তাদের জন্য খবর মন্দ। আর যারা নতুন নতুন জিনিস শেখার নেশা পোষেন, এআইরে বন্ধু বানাইয়া তারাই অনেকদূর উড়াল দিতে পারব। মুশকিলটা হইল—আমাগো শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো সেই পরীক্ষার খাতায় নাম্বার তোলার চিন্তায় বইসা আছে। ভুল করলে মাস্টার মাইর, আর যদি কৌতূহল দেখান, তাইলে মাস্টার কইব “এইটা আবার কেমন প্যাঁচাল, এইটা কোর্সের বাইরে!” যেন কৌতূহল দেখাইলে আপনের ঘাড়ের ওপর দিয়া শয়তান ভর করছে!
ডেমিস ভাইজান কইলেন, “স্কুল-কলেজেরে বদলাইতে হইব। শেখাইতে হইব কেমনে শেখা যায়। পরীক্ষা নিতেই হইব কে কত তাড়াতাড়ি নতুন কিছু ধরতে পারে, কে কেমন মানাইতে পারে। আর এই শেখার নেশা রাখতে হইব জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত, যত দিন দাঁত একটাও না থাকে, আর সেই দাঁত না থাকা মুখেও হাসি থাকে।”
ঢাকার ভাইজানরা-আপারা, এই খবর আপনেরাই ধরেন। শুধু একখান আইটি কোর্সের ভরসায় থাকলে এআইর যুগে অবস্থা হইব গরুর গাড়ি নিয়া রকেটের লগে দৌড়ানোর মতো। আর রকেট তো আর গরুর গাড়ির জন্য থামব না, তাই না? আমাগো বিজ্ঞানী অর্গ তো বহুদিন ধইরা কইতেছে—কৌতূহলই আসল পুঁজি। ডেমিস ভাইজান সেই একই কথা মাইকে চিৎকার কইরা মনে করাইলেন। তাই ভাইজানরা, স্কিলের পিছে দৌড়াইতে গিয়া গরুর গাড়ি হইবেন না—আগে শেখতে শেখেন, তারপর এআইর রকেটের লগে দৌড়ের মজা লুটেন!
