ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে ফেসবুকে প্রতিরোধ করবেন কিভাবে?
তারিখ: ১৭ আগষ্ট ২০২৫
ফেসবুক আজ আর শুধু ব্যক্তিগত ছবি বা অনুভূতি শেয়ারের জায়গা নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে আমাদের সমাজের তথ্য প্রবাহের প্রধান প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু এই সুবিধার সাথে এসেছে এক ভয়ঙ্কর সমস্যা—ভুয়া তথ্য বা misinformation। বিশেষত সংবেদনশীল দিনগুলোতে, যেমন ১৫ আগস্টের মতো ঐতিহাসিক ঘটনায়, কিছু গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। ইতিহাসকে তারা একপাক্ষিকভাবে তুলে ধরে, যেখানে নেতার সাফল্যকে বাড়িয়ে বলা হয়, অথচ ব্যর্থতা বা সীমাবদ্ধতাকে অস্বীকার করা হয়। অথচ বাস্তবতা হলো—প্রত্যেক নেতারই আলোকিত দিক যেমন আছে, তেমনি আছে অন্ধকার দিকও। এই সত্য মেনে নেওয়া মানেই ইতিহাসকে বিকৃত না করে একটি পূর্ণাঙ্গ আলোচনার সুযোগ তৈরি করা।

গবেষণা বলছে, মিথ্যা তথ্যের বিস্তার গতি ভয়াবহ। ফেসবুকে ছড়ানো রাজনৈতিক ভুয়া খবর ৭০% ক্ষেত্রে বেশি “এনগেজমেন্ট” পায়—অর্থাৎ মানুষ বেশি লাইক, শেয়ার ও কমেন্ট করে। এর পেছনে মূল চালিকা শক্তি হলো "অ্যালগরিদম"। ফেসবুকের অ্যালগরিদম এমনভাবে তৈরি যে, যেসব কনটেন্টে মানুষ বেশি প্রতিক্রিয়া জানায় সেগুলোই অন্যদের কাছে বেশি করে পৌঁছায়। ফলে আমরা ভুলকে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে যখন কমেন্ট করি বা শেয়ার করি, তখন অজান্তেই সেই ভুয়া তথ্যকেই আরও শক্তিশালী করে দিই।
এই পরিস্থিতিতে করণীয় কী? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—অ্যালগরিদমকে বুঝে অ্যালগরিদমকেই ব্যবহার করা। ভুল তথ্য দেখলে লাইক বা কমেন্ট করার প্রলোভন এড়াতে হবে। শেয়ার করে প্রতিবাদ করার পরিবর্তে সরাসরি “Report” বাটনে ক্লিক করতে হবে। ফেসবুকের নিয়ম অনুযায়ী, যত বেশি মানুষ একটি পোস্টকে ভুয়া তথ্য, ঘৃণাত্মক বক্তব্য বা সন্ত্রাসবাদী প্রচারণা হিসেবে রিপোর্ট করবে, তত দ্রুত সেটি অ্যালগরিদমের মাধ্যমে চিহ্নিত হয়ে মানব-পর্যবেক্ষক দলের কাছে পৌঁছাবে। অনেক সময় এটি পোস্ট মুছে ফেলতেও পারে, আবার কখনও “false information” লেবেল জুড়ে দেওয়া হয়।
তবে এটাও মনে রাখতে হবে, মিথ্যা তথ্যের মোকাবিলা শুধু প্রযুক্তিগত পদক্ষেপে সম্ভব নয়। প্রয়োজন একটি সামাজিক সংস্কৃতি, যেখানে মতবিরোধ থাকলেও তথ্য বিকৃতি নয়, বরং তথ্যনির্ভর আলোচনাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একজন নেতার সমালোচনা মানেই তাঁর অবদান অস্বীকার নয়, আবার প্রশংসা মানেই অন্ধ আনুগত্য নয়। ব্যর্থতা নেতৃত্বের স্বাভাবিক অংশ, তা অস্বীকার করলে ইতিহাস বিকৃত হয়।
ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই আসলে অ্যালগরিদমের বিরুদ্ধে লড়াই নয়, বরং আমাদের নিজেদের অভ্যাসের বিরুদ্ধে লড়াই। আমরা যদি শিখে যাই সঠিক বোতাম টিপতে, তবে মিথ্যা তথ্য যতই ছড়ানোর চেষ্টা করুক, তার প্রভাব ধীরে ধীরে কমে যাবে।