iMind
(প্রথম পর্ব)
আমাদের এই গল্টটি এখন থেকে ২০ বছর পরে কোন এক সময়ের। আমাদের গল্পের মূল চরিত্র হল জাভা নামের একজন ভদ্রলোক। সে একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং আমেরিকাতে পড়াশুনা করেছে। ছেলেবেলা থেকেই ইলেকট্রনিক্স খুব ভালো লাগতো এবং সে খুব ভালো সার্কিট তৈরী করতে পারতো এবং জটিল সমস্যাগুলি সে খুব সহজেই সমাধান করতে পারতো। আমেরিকার ইলেকট্রনিক্স এর প্রতিযোগীতাতে খুব অংশ নিয়েছিল এবং বেশ কয়েকবার সে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতাতে পুরষ্কার পেয়েছে। সে পরবর্তিতে কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে আমেরিকার এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে।
ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করে চাকুরির জন্য অনেক জায়গাতে চেষ্টা করার পরে জাপানের একটি তথ্যপ্রযুক্তির প্রতিষ্ঠানের ডাটা এনালাইটিকসে কাজ পেল। সেই চাকুরির পোস্টিংটি টোকিও শহরে। সে এর আগে কখনও জাপানে আসেনি। তার জন্য জাপান একেবারেই এক নতুন দেশ ছিল। সে অফিসে যোগ দিলে এবং অফিস থেকেই তাকে একটি সার্ভিস এপার্টমেন্টে থাকার ব্যবস্থা করে দিল।
প্রথম কিছুদিন অফিসের কাজ কম থাকায় সে টোকিও শহরে ঘুরে বেড়াল। অন্যান্য পর্যটকদের মতন সে উয়েনো নামে টোকিও এর বড় একটি পার্ক দেখল। চিড়িয়াখানা দেখলো, টোকিও টাওয়ার এবং অন্যান্য জায়গাগুলো দেখে বেড়াল। তবে তার সবথেকে ভালো লাগলো আকিহাবারা নামে একটি ইলেকট্রোনিক্স এর শহর। যদিও এখন ইলকট্রনিক্স অনেক কিছু রোবটি দিয়ে তৈরী করা হয়, তারপরেও তার মতন কিছু সৌখিন ইলকট্রনিক্স ভালো লাগা মানুষদের জন্য এই জায়গাটি অদ্ভুত। হরেক রকমের -নতুন পুরাতন - সব ধরনের ইলকট্রনিক্স এর পার্টস সেখানে পাওয়া যায়। যা অনেক সময়ই জাদুঘরে পাওয়া যায়, তাও সেখানে কিনতে পাওয়া গেল। জাভা তার পছন্দের কিছু মাইক্রোপ্রোসেসর ও টুকটাক কিছু ইলকট্রনিক্সের যন্ত্রপাতি কিনল। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকার পরে সে তেমন সার্কিট নিয়ে আর কাজ করেনি। তবে জাপানে এসে অবসর কাটানো যাবে ভেবে তার পুরান শখটি মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো।
টোকিও শহরে তার কাছে সবকিছু অন্যরকম মনে হল। আমেরিকার মানুষজন হাসি, ঠাট্টা, হৈ-হুল্লা, খোলামেলা কথা বার্তা বলতে পছন্দ করে। অপরপক্ষে জাপানিজরা খুবই কাজ পাগল। তারা অফিসে মাথা নিচু করে শুধু কাজ করে। কাজ করার সময় তারা কম কথা বলে। প্রথমে জাভা’র মনে হয়েছিল যে জাপানিজরা খুব স্বার্থপর মানুষ। কিন্তু জাভা একটি অদ্ভুত জিনিস দেখলো যে তারা খুব পরপকারী এবং সৎ। কাজে একজন আরেকজনকে আন্তরিকতার সাথেই সাহায্য করে।
জাভা সব কিছু মানিয়ে নিতে পারলেও জাপানিজদের খাবার তার ভাল লাগে না। প্রায় সব খাবারেই তারা সয়াসস দিয়ে খায়। এমনকি বার্গারেও সয়াসয় থাকে। তারপর সে চিন্তা করল নিজেই খাবার বানিয়ে খাবে। কিছুদিন রান্নায় তার খুব আগ্রহ হল এবং নিজে নিজের মতন করে পছন্দের খাবার রান্না শুরু করলো। জাভা ইংরেজীতে কথা বলার কারনে জাপানিজরা তার কথা বুঝতে পারতো না ফলে তার অনেক অসুবিধা হতো। কিছুদিনের মধ্যে জাভা টুকটাক কিছু জাপানিজ ভাষা শিখে ফেললো।
জাভা যে এপার্টমেন্টে থাকে তা বেশ অত্যাধুনিক। এখানে ক্যামেরা, মোবাইল দিয়ে এসি, রিমোর্ট কন্ট্রোল করা যায়। কিছুদিনের মধ্যে সে জাপানে সে নতুন জীবনের সাথে মানিয়ে নিতে পারলো। তবে একটি জিনিস সে খেয়াল করল যে সে যখনই সে দরজা নক করে অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হয় ঠিক তখনই লিফট’টা তার বাসার তলাতে চলে আসে। তার ম্যানসনের অনেকগুলি লিফট থাকলেও তার রুমের সামনে এই একটিই লিফট। অন্য আরেকটি লিফট আছে, তা একটু দূরে। তখন সে ভাবল এটা হয়তো কোন স্মার্ট লিফট। এখন তো দৈনন্দিন অনেক কিছুই স্মার্ট হচ্ছে, এটা নিশ্চয় সেরকম কোন স্মার্ট কিছু। আর জাপানে তো অনেক স্মার্ট জিনিসপত্র নতুন নতুন বাজারে আসছে।
২য় পর্ব
অন্যান্য দিনের মত জাভা একদিন সকালে অফিসে যাবার জন্য লিফটের জন্যে অপেক্ষা করছিল। ঠিক সেই সময় লিফটটি আরেকজনকে নিয়ে উপরে যাচ্ছিল এবং দরজার উপরের ড্যাশবোর্ডে সে দেখতে পাচ্ছিল। জাভা অপেক্ষা করতে লাগলো। কিন্তু অবাক বিষয় হলো লিফটি তার ৮ম ফ্লোরে এসে থেমে যায়। ভিতরে দুজন লোক ছিল। জাভা কি করবে বুঝতে পারেনা!
সে ইতস্তত করে লিফটে ঢুকে যায়। কিন্তু অবাক করা বিষয় হল লিফটটি উপরে না যেয়ে নিচে নামা শুরু করে। তখন সে অন্যলোকগুলোর দিকে তাকায় এবং তারাও বেশ অবাক হয়েছে ব্যাপারটাতে। জাভা বেরিয়ে যাবার পরে লিফটি অন্যলোকদের নিয়ে উপরে চলে যায়। জাভা বুঝতে পারে, লিফটি তাকে বিশেষ প্রাধান্য দিচ্ছে। তাকে নামানোর জন্যই প্রাধান্য দিয়ে উপরে না যেয়ে আগে তাকে নামিয়ে দেয়। কিন্তু কেন? এমনই বা হবে কেন?
একদিন রাতের বেলায় অফিস থেকে ফিরে আসার সময় সে একাই লিফটে করে উপরে আসছিল। সহকর্মীদের সাথে একটু ড্রিংক করে ফিরছিল বলে তার খুব একটা সেন্স ছিলনা। কি জানি মনে করে যাচ্ছে জাভা একাই নিজের সাথে কথা বলছিল। সে বলল, "হ্যালো লিফট।" সেই সময়ে lift টা বলে উঠলো "হ্যালো"।
লিফটটি যখন তার ৮ম তলায় আসে তখন লিফটি বলে,
- Good night. It was a nice day. ..
জাভা রুমে ফিরে এসে দেখে তার গোসল করার বাথটাবটি পানি দিয়ে ভরে আছে এবং পানিও গরম হয়ে আছে। সেই মুহুর্তে জাভা’এর খুব ইচ্ছে করছিল গরম পানিতে গোসল করতে। ব্যাপারটা কেমন করে হলে সে ঠিক খেয়াল করে নি।
এর পরে একদিন সে লিফটে ঢুকলে লিফটিটি বলল, "Today, It is a rainy day. You should take an umbrella".
তখন সে অবাক হল যে কিভাবে লিফটটি বুঝতে পারলো? সেদিন সত্যিই বৃষ্টি হয়েছিল এবং ছাতা না থাকার কারণে সেদিন তাকে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল।
একদিন সে ম্যানসনের অফিসে ফোন করে জিজ্ঞেস করলো,
- "আপনাদের লিফট টা কি স্মার্ট লিফট?"
অফিসের লোকটি বললেন, "নাহ….। এই লিফটা অনেক পুরাতন। এটা আমরা খুব শীঘ্রই পরিবর্তন করবো। পরিবর্তন করে আমরা এইখানে স্মার্ট লিফট লাগানো হবে। ফলে আপনাদের জন্য সুবিধা হবে।"
"কেন কোন অসুবিধা হয়েছে নাকি?" - অফিসের লোকটি জানতে চাইলো। জাভা বললো, "নাহ কিছুনা। এমনি জানতে চাইছিলাম।"
জাভা একটু যাচাই করার জন্য তার রুমে গুগল হোম এর মতন কোন স্মার্ট ডিভাইস আছে নাকি তা খুজে দেখলো। অবশ্য জাভা যে সময়ে বসবাস করছে, সেই সময়ে গুগল প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের প্রাইভেসি নিয়ে সমস্যা হবার কারণে সবাই গুগলের সার্ভিস ব্যবহার করা বন্ধ করে ফেলে, আর তাই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।
(তৃতীয় পর্ব)
জাভা একদিন লিফটে ঢুকে নিচে যাবার বাটোন চাপ দিলেও লিফটা যাচ্ছিল না। তখন সে বুঝতে পারলোনা কি করবে। সে খুব বিরক্ত হল এবং সে একা একা বলছিল, “লিফটা যাচ্ছে না কেন? “ তখন সে শুনতে পেল একটা মেয়ে কণ্ঠ বললো, I intentionally delayed for your safety এর একটু পরেই লিফটা চলা শুরু করলে এবং নিচতলায় যখন নামলো তখন দেখল ওখানে একটা দূর্ঘটনা হয়েছে। উপর থেকে একটা জিনিস এসে পড়েছে। সে আরও আশ্চর্য হলো। অন্তত সে বুঝতে পারলো, এই লিফটটি আর অন্যান্য লিফটের মতন নয়।
একদিন লিফটের সাথে জাভা কথা বলল, “Hello, hello, , তুমি কে? “ তখন লিফটের স্পিকার থেকে একজন উত্তর দিল, হ্যালো। তখন সে জিজ্ঞাস করলো, তুমি কি গুগল হোম এর মতন কিছু নাকি? উত্তরে লিফটটি বললো, “না, আমি একটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ইলেক্ট্রনিক্স দিয়ে তৈরী আমি iMind”
জাভা এর পরে ঠিক করলো লিফটির ভিতরে খুলে দেখবে সেখানে কিছু আছে কিনা। একদিন ছুটির দিনে খুব সকালে যখন কেউই লিফট-টি ব্যবহার করেনা তখন সে আকিহাবারা থেকে কেনা টুলসগুলি দিয়ে লিফটির সুইচবোর্ডটি খুলল। খোলার পর অবাক হয়ে সে দেখল আসলে লিফট এর সুইচবোর্ডের সাথে একটা অন্যরকম বোর্ড লাগানো আছে। মূল সার্কিট বোর্ড থেকে একটু আলাদা। কেননা বুঝা যাচ্ছে এটি হাতে দিয়ে তৈরী একটা সার্কিট বোর্ড। আকিহাবারা থেকে সে কিছু টুলস কিনেছিল, সে টুলসগুলো দিয়ে বোর্ডটা খোলার চেষ্টা করতেই খুব সহজেই খুলে গেল। কেননা এটিকে আলাদা ভাবে সংযুক্ত করে দেয়া হয়েছে। জাভা দেখলো বোর্ডের উপর লেখা আছে iMind beta version 2.0।
জাভা তখন ধারণা করলো যে এই বোর্ডের কারনেই এত সব কান্ড হয়েছে। বোর্ডটি খোলার পর সে দেখল যে এর পরে লিফট-টি আর দশটা লিফটের মতনই সাধারণ কাজ কাজ করছে। এই iMind নামের সার্কিট বোর্ডটিতে কোন ব্যাটারি বা নিজস্ব পাওয়ার নেই। এটি লিফটের সার্কিট বোর্ড থেকেই বিদ্যুত গ্রহণ করতো এবং তার সিস্টেম ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতো। এরপর কোন কথা বললে লিফট কোন কথা বলে না। সে ঐ iMind নামের বোর্ডটা তার টেবিলের ড্রয়ারে রেখে দিল। পরের দিন লিফটা তার জন্য আর অপেক্ষা করে না। এখন লিফটা সাধারণ লিফট এর মতো কাজ করছে।
(৪র্থ পর্ব)
অনেকদিন অতিবাহিত হওয়ার পর সে একদিন অফিসে জিজ্ঞাসা করলো জাভা যেই রুমে উঠেছে এর আগে সেই রুমে কেউ ছিল কিনা?
- আগে একজন বিজ্ঞানী ছিলেন।
অফিসের সহকর্মি তাকে জানাল।
"তার নাম ছিল রবার্টস। তিনি অনেক মজার মজার জিনিস আবিষ্কার করেছেন। তিনি কম্পিউটার সিষ্টেম নিয়ে কাজ করতেন।"
এর মধ্যে অফিসের কাজ নিয়ে জাভা ব্যস্ত হয়ে পড়লো। সে একটি নতুন এনালাইকটিস সিস্টেম নিয়ে কাজ করে যে সিস্টেমটি বিভিন্ন সিস্টেমের মধ্যে ভুল ত্রুটিকে বের করে দেয়। কোন সিকিউরিটির সমস্যা থাকলে তা জানিয়ে দেয়।
জাভা জানতে পারলে সে যে প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করছে সেই প্রোজেক্টটিতেই আগে রবার্টস কাজ করতেন। একদিন জাভা তার অফিসের ল্যাবের স্টোররুমে রবার্টস এর কাজ করা কিছু যন্ত্রপাতি দেখতে পেল। একদিন সেখানে একটি অদ্ভুত যন্ত্র দেখতে পেল যেখানে iMind এর মতনই একটি সার্কিটবোর্ড ছিল। জিনিসটি দেখে জাভা খুবই উত্তেজিত হল।
সেই বোর্ডে লেখা রয়েছে টেস্টিং ভার্সন। সুইচ অন করে সেটিকে অন করতে পারলোনা। একটু ভালোমতন পর্যবেক্ষন করে জাভা দেখতে পেল সেই বোর্ডের ভিতরটা পুড়ে যেয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তার মনে হল তার লিফটের ভিতরে যে বোর্ডটি রয়েছে তা হয়তো কাজ করতে পারে।
===
এর পরের দিন সে বাসা থেকে iMind বোর্ডটা নিয়ে এল। অফিসে ফিরে যেয়ে সে রবার্টের যন্ত্রপাতির রুমে গেল। সেখানে সে বোর্ডটা লাগিয়ে দেখলো যে তা কাজ করছে। বোর্ডটা ঠিক ভাবে বুট আপ হল এবং সাথে লাগান কম্পিউটারটি অন হয়ে গেল এবং কথা বলতে শুরু করল iMind
- "জাভা, কেমন আছো?"
জাভা বলল, "তুমি আমাকে কিভাবে চেন?"
- "হ্যা চিনি। তুমি আমাকে ইলাভেটর থেকে বের করে এখানে এনে লাগিয়েছে। - উত্তরে iMind বলল।
আরো বিস্তারিত বলল যে, বোর্ডটিতের তার সব কিছুই আছে। সেখানকার মেমরিতেই তার সব তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
- এই বোর্ডটার ভিতরে আমার ব্রেইন, মেমরি, বুদ্ধি সব আছে। কিন্তু পাওয়ার না থাকলে আমি চলতে পারব না।
এটা ঠিকমতন কাজ দেখে তার সহকর্মিরা জাভার খুবই প্রশংসা করল এটা তোমার আশ্চর্য আবিষ্কার। উত্তরে জাভা বলল,
- "না, এটা আমার আবিষ্কার নয়। এটা বিজ্ঞানী রবার্টস এর অবদান তাঁরই সৃষ্টি।"
কিন্তু জাভা ঠিক বুঝতে পারলোনা কেনই বা রবার্ট লিফটের ভিতরে বোর্ডটিকে লুকিয়ে রাখলো? আর রবার্ট-ই বা এখন কোথায়? সে রবার্ট সমন্ধে জানার চেষ্টা শুরু করলো।
(৫ম পর্ব)
জাভা, iMind নামের যে সার্কিটটা আছে তা নিয়ে এসে তার অফিসে সংযুক্ত করে দেখেছিল যে সেটা কাজ করছে। কিন্তু এই সিস্টেমটি সমন্ধে তার আরো জানতে কৌতুহল হল। যদিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষ অনেক আগেই বিভিন্ন জিনিসে প্রয়োগ করেছে এবং তা দিয়ে বিভিন্ন কাজ করান যায় কিন্তু এই iMind টি মনে হচ্ছে তার থেকেও আরো বেশী করছে। এটা সমন্ধে বিস্তারিত সে খুব একটা বেশী কিছু খুঁজে পেলনা। প্রোজেক্টের মূল ফাইলটি অফিসের কোথাও নেই। শুধু ছোট খাট কিছু নোট আছে কিন্তু তা খুবই সাধারণ কিছু কথা বার্তা। সিস্টেম সমন্ধে কোন তথ্য বা ইঞ্জিনিয়ারিং নোট কিছুই নেই। আপাতত জাভা এর জানা দরকার ডেভিড কোথায়? আর কেনই বা তিনি এই iMind কে ইলাভেটরে রাখলেন? অফিসের কলিগদের কাছে জানতে পারলো যে ডেভিড তার আগের বছরে কিছুদিনের জন্য ছুটি নিয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু তারপরে আর অফিসে ফিরে আসেননি। অফিসের সাথে কোন যোগাযোগ নেই। অফিস থেকে অনেকবার তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে কিন্তু তার পরিবারের লোকজনও জানে না উনি কোথায়। একটি প্রশ্ন জাভা’র মনে খুব ঘুরপাক খাচ্ছে তা হল কেন তিনি এই iMind সার্কিট টা লিফটে রাখলেন? অফিসের প্রজেক্ট হলে তো অফিসেই রাখতে পারতেন। কেন তিনি এটিকে লুকিয়ে রাখলেন? কিই বা তার প্রয়োজন হয়েছিল? একদিন জাভা iMind কে বলল তুমি ডেভিড কে খুঁজে দেখ, খুঁজে দেখ ডেভিড এর কোন তথ্য আছে কিনা? iMind এ ইন্টানেট সংযোগ দিয়ে তাকে যাচাই করতে বলল। iMind অনেকক্ষণ ধরে অনলাইনে বিভিন্ন জায়াগাতে সে অনেক খোজাখুঁজি করে জানাল যে ডেভিডের উপর কোন তথ্য নাই। সেই সময়ে iMind এত দ্রুত বিভিন্ন নেটওয়ার্কের ভিতরে ঢুকছিল যে তা দেখে সত্যিই জাভা অবাক হল। সেই সাথে যে সমস্ত নেটওয়ার্ক এ ফায়ারওয়াল বসান থাকে কিংবা ব্লক করা থাকে সেইগুলোতেও অবলিলায় হ্যাক করে ঢুকে যেতে পারছিল। এত লজিক কি ডেভিড তাকে শিখিয়েছে? অদ্ভুত তো। এই ডেভিড তো মারাত্মক একটা যন্ত্র তৈরী করেছে!
(৬ষ্ট পর্ব)
অনেক খোজাখুজি করেও জাভা যখন ডেভিডের কোন তথ্য খুজে পেলনা ব্যাপারটাতে সে খুব অবাক হল। আজকের যুগে সবাই অনলাইনে কোন না কোন ভাবে উপস্থিতি থাকে। সোসাল মিডিয়াতে তো আজকাল সবারই সরব উপস্থিতি। এটা ঠিক যে অনেকেই তা পছন্দ করে না, কিন্তু তারপরেও পেশাজীবনের জন্য হলেও কোন না কোন ভাবে তার তথ্য পাওয়াই যায়। এমনকি অনেক বিজ্ঞানীদের মতনও অন্তর্মুখী মানুষদেরও প্রোফাইল কোন না কোন ভাবে থাকে। কিন্তু কেনই বা ডেভিড সবকিছু থেকে লুকিয়ে ছিল? কোন গোপন প্রোজেক্টের সাথে কি তিনি যুক্ত ছিলেন? এই প্রশ্নটাই জাভাকে বার বার নাড়া দিচ্ছে। কলিকদের কাছেও ডেভিডের তেমন কোন তথ্যই পেলনা। তার প্রোজেক্টের সাথেও কেউ সংশ্লিস্ট ছিলনা। অনেকটা নিরাশয় হয়েই এর মধ্যে বেশ কিছুদিন কেটে গেল।
এর মধ্যে একদিন জাভা টোকিওর সবথেকে ব্যাস্ত জায়গা গিনজা তে একটি গাড়ির প্যারেড অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। গিনজাতে বেশ সুন্দর সুন্দর স্থাপত্যের অত্যাধুনিক বাড়িগুলো বেশ সুন্দর। যদিও তার কাছে জাপানের পুরানো দিনের বাড়িগুলোই বেশ ভালো লাগে। এই বছর নতুন নতুন যে গাড়িগুলো বাজারে আসছে তারই শো এটি। এখনতো গাড়িগুলো অটোড্রাইভ। আগের যুগের মতন গাড়ি চালানোর ঝামেলা নেই। গাড়িতে বসে যাও, ও বলে দাও কোথায় যাবে, গাড়িটি আপনাআপনিই তোমাকে হাজির করে নিয়ে যাবে তোমার গন্তব্যস্থলে। সময় নষ্ট করার সময় কোথায় এখন মানুষের।
নতুন মডেলের কিছু গাড়ি নিয়ে এনেছে জাপানি কিছু গাড়ির কম্পানি। সেইগুলিই সে দেখছিল। দেখতে দেখতে তার একটি ক্ষুধা লাগলে পাশের একটি জাপানিজ রেস্টুরেন্টে সে খেতে ঢুকলো। একটু পরে একটি রোবট ওয়েটার আসলে তার খাবার এর অর্ডার নিতে। খাবারটা বেশ মজাই ছিল। জাভা প্রথম প্রথম জাপানিজ খাবার পছন্দ না করলেও এখন তার বেশ ভালোই লাগে। খাবার শেষ করে উঠবার সময় দেখলো তার পাশের টেবিলে কেউ একটা ঘড়ি খুলে রেখে দিয়েছে। এখনকার দিনে ঘড়ি দিয়েই মানুষেরা সব কাজ করে। আগের দিনের মত মানিব্যাগ কিংবা মোবাইল ফোন নিয়ে ঘোরার কোন দরকার নেই। হাতে ঘড়িটি পড়ো, সেটা দিয়েই সব কাজ সারা যাবে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ন জিনিসটা কেউ যে ভুলে ফেলে যেতে পারে তা খুবই কম ঘটে।
বের সময় সময় ঘড়িটি ম্যানেজারকে ডেকে দিয়ে দিল। ম্যানেজার বলল, অসুবিধা নেই স্ক্যান করেই সে বের করে নিতে পারবে মালিক কে। তাকে ফেরত দিয়ে দেয়া কোন সমস্যা হবে না। রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে জাভার মনে হতে লাগলো সেও যদি ডেভিডের এমন কোন জিনিস পায় যা দিয়ে ডেভিডের কিছু জানা যাবে তবে বেশ হয়। সে ঠিক করল ডেভিডের পুরান বক্সে সে আরো একটু খুজে দেখবে।
পরের দিন জাভা ডেভিডের পুরান বাক্সে আবারও খুলে দেখলো সেখানে কিছু পায় কিনা। ল্যাবের কোনায় পড়ে থাকা একটি বাক্সের ভিতরে একটি স্মার্ট ঘড়ির একটি খালি বাক্স পেলে যেটা মনে হয় ডেভিডই কিনেছিল। জাভা ভাবল স্মার্ট ওয়াচ এ তথ্য ডেভিডের তথ্য থাকতে পারে।