ভাল ছেলের ঢঙা কাহিনি
তারিখ: ২৫ আগষ্ট ২০২৫
আড্ডায় বসা। গরম চা, বিড়ির ধোঁয়া। হঠাৎ পাশের জন কইল— “ওই ছেলেটা ভীষণ ভাল।”
আমি চমকাইয়া কইলাম— “ভাল মানে কই? হাঁটতে হাঁটতে গাছের ডাল ভাঙে না? রাস্তার কুকুরে লাথি মারে না?”
উত্তর আসল— “না না, সে নাকি কারও ক্ষতি করে না। সারাদিন বই নিয়া বসে থাকে।”
শুনি আর হেসে কুটি কুটি। “আচ্ছা, আইলসা মানুষ গুলা তো কারও ক্ষতি করে না। তাইলে তারাও ভালমানুষ নাকি?”
আমাগো দেশে ভাল ছেলে মানে—জলপাই তেলের বোতল। মুখ বন্ধ। ভিতরে ফাঁকা। টেবিলে সাজানো। না দুষ্ট, না মহৎ। খেলা হইলে গ্যালারিতে বসে বাঁশি বাজায়, হাততালি দেয়। কিন্তু মাঠে নামতে? না বাবা, ঘাম ঝরানো কষ্টের কাজ।
ভাল হইলে কিসে? সমাজের জন্য কিছু করলে। পাড়ার বিধবার হাঁড়ি খালি, তারে যদি নিজের ভাত ভাগ কইরা দেয়—ওটাই ভাল। কিন্তু যে সারাদিন খালি বই মুখস্ত করে, পাশের বাড়ির লোক না খাইয়া ঘুমায়—তারে ভাল কইব ক্যান? ও তো মোরগের মতো। ভোরে ডাক দেবে, মানুষ জাগবে। কিন্তু নিজে? ভাত রাঁধবে না।
এখনকার নতুন ঝামেলা—ইউটিউবার। কেউ খায়, কেউ নাচে, কেউ দাঁত মেলে হেসে টাকা গুনে। আমি কই, ব্যবসা করতেই চাইলে মুদি দোকান খোলেন। কমসে কমে মানুষ চাল-ডাল পাইবে। ইউটিউব দেইখা তো পেট ভরবে না, উল্টা ডেটা শেষ হইব।
মানুষ হইতে হবে নদীর মতো। নদী যদি খালি নিজের বুক ভরায়া বসে থাকে, চারপাশ শুকায়া কাঠ হয়—তাহলে সে কী মহৎ? নদী মহৎ তখনই, যখন বুক চিরা স্রোত বিলায়, খেতে ধান আনে, পুকুরে মাছ ভরায়। মানুষও তাই—নিজে হাসি-খুশি থাকলেই হইব না। পাশের মানুষেও হাসি ফোটাইতে হইব।
তাই যখন কেউ গম্ভীর মুখে কই— “ও ভাল ছেলে, কারও ক্ষতি করে না।” আমি মনে মনে ভাবি— “আহা, ক্ষতি করে না। কিন্তু উপকারও করে না। সেই হিসাবে ঘুমন্ত কুকুরও তো সমাজসেবক—সে-ও কারও ক্ষতি করে না, খালি শুইয়া থাকে।”
