মশিউরের খেরোখাতা

বিজ্ঞান এর থেকে কেন আত্মউন্নয়ন এবং পেশাগত জীবনকে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছি?

আমার ক্যারিয়ার বিজ্ঞানী হিসাবে শুরু করলেও সময়ের স্রোতে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা শুরু করলাম। নিজেও একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান শুরু করেছিলাম, সেটি বন্ধ করে আরেকটি হেলথকেয়ার বিষয়ক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানে যোগ দিলাম। এরপরে চলে এলাম জাপানিজ মেডিক্যাল ডিভাইস প্রতিষ্ঠান, ওমরন হেল্থকেয়ার।

বিজ্ঞানের জগৎ থেকে চলে এলাম বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে। এটি একেবারেই এক নতুন জগৎ ছিল আমার জন্য। এইখানে এসে বুঝলাম যে আমার মধ্যে সফটস্কিল এর বড়ই অভাব। নিজেকে ঘষে মেজে নতুন করে দাড় করালাম। চল্লিশের পরে এইভাবে নতুন করে নিজেকে সাজানোর এই যাত্রাটি সহজ ছিলনা। পরবর্তিতে বুঝতে পারলাম, শুধু আমিই নয়, আমরা বাংলাদেশীদের মধ্যে রয়েছে বড়ই অভাব।

কেন বাংলাদেশীদের মধ্যে সফটস্কিলের অভাব? এর পিছনে আমার একটি নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। বাংলাদেশে নব্বই এর আগ পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশীরা মূলত সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলাম। ছিটে ফোটা কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল, কিন্তু সেখানে প্রোফেশনাল জগতটি আমরা ভালো মতন তৈরী করতে পারিনি। আন্তর্জাতিক স্টান্ডার্ড এর থেকে এক ভিন্ন নিজস্ব “বাঙ্গালি স্টান্ডার্ড” দিয়ে আমাদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে কাজ হচ্ছিল।

পরবর্তিতে (সম্ভবত নব্ব্ই এর পরে) আমরা ব্যাপক ভাবে আন্তার্জাতিক পরিমন্ডলে ঢুকলাম। বাংলাদেশেই চলে এলো অনেক আন্তার্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলি। কেন বিশেষ ভাবে নব্বই। এর কারণ সম্ভবত আমাদের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন, এবং পাশাপাশি ডিশ উন্মুক্ত করার ফলে এক নতুন দিগন্ত শুরু হল।

তবে সেই পরিবর্তনটি আরো জোরাল হল সম্ভবত দুহাজার এ - ইন্টারনেটের কল্যানে আমরা দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পড়লাম। তথ্য চলে এল আমাদের হাতের নাগালে। আমরা প্রবেশ করলাম কর্পোরেট জগতে যেখানে আর পুরান  “বাঙ্গালি স্টান্ডার্ড” আর কাজ করলোনা। আমাদের শিখতে হল “আন্তার্জাতিক স্টান্ডার্ড”।

আত্মউন্নয়ন এবং পেশাগত জীবন উন্নয়নের জন্য আমরা বই খোঁজা শুরু করলাম। কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যান্তরিন বাজারে এই সংক্রান্ত বইয়ের খুব অভাব। ইংরেজীতে কিছু বইয়ের নকল কপিগুলি বাজারে থাকলেও, বাংলা বইয়ের অভাব মারাত্মক। ইংরেজী বইগুলি ইন্টারনেটের বদৌলতে আমাদের হাতে চলে এল কিন্তু মাতৃভাষায় কোন জিনিসকে যত সহজে বোঝা যায়, অন্যভাষায় তা যায়না। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়গুলির উপর বাংলা বইয়ের অভাব বোধ করলাম।

যেহেতু লিখতে ভালোবাসি, তাই নিজের অভিজ্ঞতাগুলি ডকুমেন্ট করার উদ্দ্যেশেই আমার প্রথম বই “সফল ক্যারিয়ার গড়ার উপায়” প্রকাশিত করি। এবং ধীরে ধীরে এই বিষয়গুলি নিয়ে আরো লেখা শুরু করলাম। পাশাপাশি এই সংক্রান্ত ভিডিও তৈরী করে ইউটিউবে পোস্ট করা শুরু করলাম। এখন অনেক লেখকই এই বিষয়গুলি নিয়ে লিখছে, তা খুবই উৎসাহের কথা। তবে বেশীরভাগই লেখকই বিদেশি বই কিংবা ভিডিওএর টিপস গুলি থেকে লিখছেন। একেবারে মৌলিক অভিজ্ঞতা থেকে লেখার লেখক খুবই কম।

সেই ঘাটতি পুরণ করার জন্য যারা আন্তার্জাতিক মন্ডলে কাজ করছেন, সিনিয়র ম্যানেজার, ব্যবসায়ি,এবং লিডার তাদের সাথে নেটওয়ার্ক করা শুরু করলাম। তাদের অভিজ্ঞতাগুলিকে সংগ্রহ করে ডকুমেন্ট করার কাজগুলি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সাথে সংযুক্ত করছি নিজের অভিজ্ঞতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি যা জীবন থেকে আমি শিখেছি।

স্বীকার করছি বিজ্ঞানের বই আমাদের অনেক কম এবং সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ - যেখানে অনেক কিছু আমাদের করা দরকার। কিন্তু জীবনের প্রয়োজনে আমি সেখান থেকে চলে এসে, এখন আমি  কর্পোরেট জীবন, ক্যারিয়ার উন্নয়ন, আত্মউন্নয়ন সংলগ্ন বিষয়গুলিকেই আমি এখন জোর দিচ্ছি। এই  বিষয়গুলি লিখে আমি বেশী সাচ্ছন্দ বোধ করছি।

আশা করছি সামনে আরো এই বিষয়গুলি নিয়ে লিখবো, ভিডিও বানাব। আমাদের নিজেরদের মধ্যে যে পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গির অভাব রয়েছে, নিজেকে আরো বেশী আপগ্রেড করার প্রয়োজন আছে, সেই জায়গাটিতে আরো কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে। বাকিটা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছে, পাঠকের সাপোর্ট। আপনাদের ভালোবাসা আর সাপোর্ট পেয়েছি বলে এই লেখক কৃতজ্ঞ।

২৫ জানুয়ারী ২০২৩