০৬: ইভেন্ট (১২ অক্টোবর ২০১৯)
তারিখ: ১২ অক্টোবর ২০১৯
(আমি আমার ক্যারিয়ারের অর্ধেক সময় গবেষক ও বৈজ্ঞানিক হিসাবে কাজ করে, পরবর্তিতে ইন্ডাস্ট্রি বা কর্পোরেটে যোগদান করি। আমার সেই অভিজ্ঞতা সিরিজ আকারে লিখছি এইখানে। ক্যারিয়ার বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে ইনবক্সে লিখুন)
ইভেন্টে অংশ নেয়া
শুধুমাত্র লিংকডইন বা ভার্চুয়াল সামাজিক যোগাযোগ নয়, সত্যিকারের মানুষগুলোর সাথে পরিচিত হয়ে আরো ইন্ডাস্ট্রি সমন্ধে আরো জানার চেষ্টা করলাম।
যেহেতু আমি সেই সময়ে শুধু মাত্র বৈজ্ঞানিক গ্রুপের সাথে পরিচিত ছিলাম। যখন কর্পোরেটে আসার সিদ্ধান্ত নিলাম তখন বুঝলাম যে সেই বৈজ্ঞানিকদের নেটওয়ার্ক নয় ইন্ডাস্ট্রি এর মানুষগুলির সাথে পরিচিত হতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিতে আসার জন্য আমার ইন্ডাস্ট্রি সংক্রান্ত ইভেন্ট গুলিতে প্রচুর ভাবে যাবার চেষ্টা করলাম। ভার্চুয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন লিংকডইন এর পাশাপাশি সত্যিকারের মানুষগুলির সাথে যোগাযোগ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ইভেন্টে যেয়ে অনেক লোকজনের সাথে পরিচিত হবার চেষ্টা করলাম। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের ইন্ডাস্ট্রি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে তা জানার চেষ্টা করলাম। বৈজ্ঞানিক হিসাবে আমি কাজ করতাম বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের উপর। সেই সময়ে আমি উপলব্ধি করলাম যে সিঙ্গাপুর সরকার একটি ডিজিটালাইড পরিবর্তনের দিকে এগুচ্ছে। তারা তাদের দেশের যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা, বসবাস ও চিকিৎসা ক্ষেত্রগুলোতে প্রচুর ডিজিটাল প্রযুক্তিকে সরকারি ভাবে গ্রহণ করছে। আমি যেহেতু বায়োলজি বিষয় নিয়ে কাজ করতাম, তাই চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ক্ষেত্রের ইন্ডাস্ট্রিতে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং সেই প্রতিস্ঠানগুলিতে চাকুরির জন্য চেস্টা করতে লাগলাম। আর এই ক্ষেত্রের লোকজনের সাথে পরিচিত হবার জন্য ইভেন্ট অংশ নেবার মাধ্যমে আমি প্রচুর লোকজনের সাথে পরিচিত হলাম।
বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়ে যে জিনিসগুলি আমি শিখলাম -
-
ইভেন্টে যোগ দেবার আগে আমি হোমওয়ার্ক করে দেখি সেই ইভেন্টে কোন ধরনের বা শ্রেণির লোকজন যাবে। এই হোমওয়ার্ক করলে ইভেন্টে নেটওয়ার্ক করতে সুবিধা হয়।
-
ইভেন্টে যে সমস্ত বক্তারা যাবেন বা প্রতিষ্ঠানদের জানি, তাদেরকে আগে থেকেই লিংকডইন বা তাদের নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করে নিই। এছাড়া যাদের সাথে আমি আগে থেকেই সংযুক্ত তাদের আগে থেকেই ম্যাসেজ বা ইমেইল দিয়ে রাখি এবং ইভেন্টে তাদের সাথে দেখা করার চেষ্টা করি।
-
ইভেন্টে চেষ্টা করুন যত সম্ভব তত বেশী মানুষের সাথে যোগাযোগ করার। খাবার এর জন্য বেশী সময় না ব্যবহার করে দ্রুত বেশি বেশী মানুষের সাথে পরিচয়ের দিকে মনযোগ দিন। (অনেকে দেখি ইভেন্টে ফ্রি খাবার এর লোভে খাওয়া দাওয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ইভেন্ট কোন রেস্টুরেন্ট নয় - এটি অনেক সময়ই আমাদের মনে থাকে না)
-
নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে আসুন। যদি আপনি কোন একটি দলের সাথে যান তবে তাদের সাথেই ঘোরাঘুরি না করে বরং নিজেই বেরিয়ে পড়ুন সেই গন্ডি থেকে। এই কৌশলটি পেয়েছি আমার এক বসের কাছে। আমরা যখন দলবেধে ঘুরছি, তখন উনি দেখি আমাদের সাথে না থেকে পুরো ইভেন্টের সবার সাথে আলাদা আলাদা ভাবে কথা বলছেন। দিনের শেষে দেখলাম আমরা মাত্র কয়েকটি বুথ ঘুরেছি, আর উনি কয়েকটি বুথ ছাড়া সব বুথগুলিই ঘুরেছেন। কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে আসাটা খুব দরকার।
-
ইভেন্টে একটি জিনিস আমার ভালো লাগে তা হল যে কোন লোককেই হাই বলেই কথা শুরু করা যায়। আলাদা কোন দেয়াল থাকেনা কথা শুরু করার। কোন প্রতিষ্ঠানের বুথে হলে, আমি সেই প্রতিষ্ঠানটি সমন্ধে জানার চেষ্টা করি। তাদের প্রতিষ্ঠানের কোন বদনাম বা সমালোচনা করিনা। তাদের কোনটি ভালো তাই হাইলাইট করি, আর অপরপক্ষ তখন আরো বেশী উৎসাহিত হয়ে আরো বিস্তারিত বলে। যদি কারো কোন জিনিস ভালো না লাগে, সমালোচনা করতে ইচ্ছে করে তবে ব্লগে লিখি, ডাইরিতে লিখি। তারা নিশ্চয় আমার নেগেটিভ কমেন্ট এর জন্য সেখানে আসেনি। পজিটিভ ভাবেই কথা বলার চেষ্টা করি। এই ফিলসফিটি শিখেছি ডেল কর্নেগির বই থেকে।
-
ইভেন্টে যে সমস্ত মানুষের বা প্রতিষ্ঠানের সাথে পরিচয় হয়, পরে ফিরে এসে সেই নেটওয়ার্ক গুলির ফলোআপ করুন। এবং মাঝে মধ্যেই যোগাযোগ রাখুন। এতে নেটওয়ার্কটি একটি শক্তিশালি সম্পর্কের দিকে এগুবে।
-
রিভার্স মার্কেটিং: এই কৌশলটি আমি ব্যবহার করি যখন আমার প্রতিষ্ঠানের কোন কিছুর সাথে তাদের পরিচয় করে দিই। তাদের সমন্ধে জানার পরে, যদি আমার কোন তথ্য তাদের জানিয়ে সেই সময়ে রিভার্স মার্কেটিং এর কাজটিও সেরে ফেলি।
-
পরিচিতদের পরিচয় করে দেয়া। ইভেন্টে যদি তার সম্পর্কিত কাউকে আমি চিনি তবে আমি তাদের মধ্যে পরিচয় করিয়ে দিই। এর মাধ্যমে আমার নেটওয়ার্কের পরিচিতদের মধ্যে আরো নেটওয়ার্ক বাড়ে। আমার মাধ্যমে তাদের উপকার হয় এবং দিন শেষে আমি কিছু ভ্যালু এড করি। আমার মাথায় সবসময় চিন্তা থাকে আমি কি ভ্যালু এড করলাম।
-
বিজনেস কার্ড রাখা: অনেক সময়ই দেখি মানুষজন ইভেন্টে আসে কিন্তু কোন কার্ড নিয়ে আসে না। ব্যাপারটি আমার কাছে ক্রাইম এর পর্যায়ে পড়ে যায়। যেকোন ইভেন্টে যাবার আগে আমি পর্যাপ্ত কার্ড নিয়ে আমি অংশ নিই।
-
লিংকডই QR কোড: এখন ফেসবুক, লিংকডইন সহ অন্যান্য সামাজিক এ্যাপ গুলিতে QR কোড ব্যবহার করে তৎক্ষানতই সংযুক্ত হয়ে যাওয়া যায়। এর ফলে ইভেন্টের জায়গাতেই তার সাথে ভার্চুয়াল সোসাল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হয়ে যাওয়া যায়। তার প্রোফাইল সেখানেই দেখা যায় এবং টুকটাক সেটা নিয়েই গল্প করা যায়। প্রতিটি মানুষই নিজেকে ভালোবাসে আর তার সমন্ধে গল্প করতে ভালোবাসে। এইভাবে ব্যক্তিগতভাবেই সংযুক্ত হয়েই আমার লিংকডইন এর সংযুক্তি আজকে প্রায় ২০হাজারে দাড়িয়েছে।
সিঙ্গাপুরের যেহেতু একটি ভালো ব্যবসায়িক হাব হিসাবে কাজ করে, তাই এখানে প্রচুর ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। ইভেন্ট এর অর্গানাইজারদের সাথে পরিচিত হই এবং তাদের সাথে যোগাযোগ রাখি পরবর্তি ইভেন্টগুলিতে অংশ নেবার জন্য।
Published on 12 Oct 2019