মশিউরের খেরোখাতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: আমেরিকা-চীনের আইসক্রিম যুদ্ধ আর আমাদের চামচের ভাগ

তারিখ: ২৯ আগষ্ট ২০২৫

দেইখেন ভাই, দুনিয়ার দুই মুরুব্বি—আমেরিকা আর চীন—এখন এমনভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) লইয়া লড়াই লাগাইছে, দেইখা মনে হয় যেন গেন্ডারিয়া মাঠে দুইডা গরু বাঁধা হইছে, কে আগে চারাটা খাইব এই নিয়াই গণ্ডগোল। আমরা গরিব দেশগুলা দাঁড়ায়া তালি দিচ্ছি, আর ভাবতেছি—“এত হইচইয়ের মধ্যে আমাদের ভাগে কয়টা ঘাস পড়বে?”

ফ্যারেলের ভুতুড়ে থিওরি:

একজন হেনরি ফ্যারেল নামের পণ্ডিতপো হইল এই ঝামেলার মামা। তিনি আরেকজন নিউম্যান মিলাইয়া বানাইলেন একখান থিওরি— weaponized interdependence, বাংলায় করলে দাঁড়ায় “অস্ত্রায়িত পারস্পরিক নির্ভরশীলতা।” শুনে মনে হয়, যেন পাড়ার মিষ্টি খাওয়ার দোকানকেও কেউ কামান বানিয়ে ফেলেছে! আসলে হলো আমেরিকার গুপ্তচরবৃত্তির কাহিনি। দুনিয়ার যেইসব জায়গায় আমেরিকা দড়ি টানছে, ওই দড়ির জোরে তারা ইকোনমি নাড়াচ্ছে।

এই ফ্যারেল ভদ্রলোক ভেবেছিলেন মানুষরে ভয় দেখাইবেন—“আরে বাপু, সাবধান! আমেরিকা এই দড়ি দিয়া অন্যরে ঝুলাইতেছে।” কিন্তু হায় হায়, আমেরিকার নীতিনির্ধারকরা উল্টা খুশি হইয়া গলা বাজাইল—“কি দারুণ কথা! এই দড়ি দিয়া আমরা চীনরে পেঁচাইয়া ধইরা ফেলমু।”

এখনকার ওয়াশিংটনের মন্ত্র এই:

১. চীনেরে হারাইতে হইব।

২. AGI (আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স) একেবারে দরজায় দাঁড়ায়া আছে।

৩. যে আগে পাইবে, সেই দুনিয়া চালাইব।

৪. আর চিপের কন্ট্রোল আমেরিকার হাতেই।

আমেরিকার এই যুক্তি দেইখা মনে হয়, যেন কাশেমপুর হাটে ঘোষণা দিছে—“আমরা গরুর দুধের একচেটিয়া মালিক, বাকিরা মাটির হাঁড়ি চাটো।”

চিপের রাজনীতি

ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে বাইডেন—তিনটা সরকারই একই খেলা খেলছে—চীনেরে উন্নত চিপ দিমু না। যেন চিপ না দিলে চীন নাকি ভাত খাইতে পারব না। অথচ চীন চুপচাপ নিজে খনির দিকে হেঁইয়া আছে। কয়, “তুমি যদি চিপ বন্ধ কর, আমিও খনিজ বন্ধ করি।” এই খেলা অনেকটা এমন—বউ কয়, “তুমি যদি বাজার না যাও, আমি ভাত রান্ধুম না।”

ফ্যারেল আবার একখান মজার উদাহরণ দিছে—AGI নাকি এক আইসক্রিম কোণ, যেটা নিজে নিজেই চাটতে থাকে, আর যত চাটে তত বড় হয়। আমেরিকা ভাবছে, ওই কোণ ধরলেই চিরস্থায়ী ক্ষমতা। কিন্তু বাস্তব? ভাই, সেই কোণ এখনো ফ্রিজারে জমাট বাঁইধা, বাইরে আসেই নাই।

চীনের চালাকি

চীন আবার অনেক চালাক। সাংহাইতে AI কনফারেন্সে প্রিমিয়ার লি চিয়াং কয়, “AI-কে বাস্তব অর্থনীতির সাথে মিলাও।” জরিপে দেখা গেল, চীনের ৭৮ ফিসদি মানুষ কয় AI তাদের জীবন পাল্টাইছে। আমেরিকায়? মাত্র ৩৭ ফিসদি। বাকি সবাই AI দেইখা কয়—“এইটা তো ভূত!”

মানে, চীনে AI হইছে বাসার ভাত-ডালের সঙ্গী, আর আমেরিকায় AI হইছে শ্বশুরবাড়ির ভূতের গল্প।

এরিক শ্মিটের ইউ-টার্ন

গুগলের সাবেক কর্তা এরিক শ্মিট আগে বলত, AGI আইসক্রিম পাইলে মানবজাতির নতুন রেনেসাঁস হইব। এখন কয়, “ভাই, আগে এই AI জনগণের কাজে লাগুক।” মানে, আগে ভাত-ডাল খাও, তারপর কবিতা পড়বা।

আমেরিকার অন্ধ দৌড়

আমেরিকা কিন্তু শোনে না। তারা ভাবছে, “চীনরে চিপ না দিলেই খেল খতম।” অথচ ল্যারি সামার্স নামের সাবেক মার্কিন অর্থমন্ত্রী ঠাণ্ডা মাথায় কয়—“হয়তো আমরা যে দুনিয়ার টুকরায় বসে আছি, সেটা সেরা টুকরো না।”

মানে দাঁড়াল, আমেরিকা দেয়াল উঁচু করুক, যদি চীন মানুষের ঘরে AI ঢুকাইতে পারে, খেলার নিয়ম উল্টা যাইব।

আমাদের চামচের ভাগ

এখন প্রশ্ন—আমাদের মতো ছোট দেশগুলা কই দাঁড়াইব? ভাই, আসল কথা হইল, বড়রা যখন আইসক্রিম কোণ নিয়ে মারামারি করে, ছোটদের ভাগে শুধু চামচই আসে। ওই চামচ দিয়া ভাত-ডাল খাইতে পারলেই শান্তি।

দিনের শেষে মানুষ AI চাইবে এই জন্যে—বাস্তব জীবনে উপকার পেতে। ট্রাফিক জ্যামে রাইডশেয়ার ঠিকঠাক পাইলেই খুশি, হাসপাতালের লাইনে দাঁড়ায়ে যদি প্রেসক্রিপশন বুঝা যায়, সেটাই সাফল্য। এইসব কাজে AI লাগলে মানুষ বিশ্বাস করবে।

আমেরিকা-চীন যদি শুধু ক্ষমতার খেলায় ব্যস্ত থাকে, আমাদের ভাগে পড়বে শুধু তাদের গর্জন আর টকশো। কিন্তু তাতেও আমাদের মজা আছে। কারণ, গরিব পোলা হোটেলের বাইরে দাঁড়ায়া ভেতরের খাবারের গন্ধে যেমন সুখ নেয়, আমরাও এই যুদ্ধের ধোঁয়া দেইখা আড্ডায় হাসি-তামাশা করব।

আইজ শুক্রবার ১৪ই ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দতে ঢাকাইয়া পোলা মশিউর এই কথাটা লিখলো। একটা লাইক দিয়া যান ভাই, লাইক দিলে কোনো ট্যাক্স কাটব না ভাই, নিশ্চিন্তে ক্লিক মাইরা যান।