একজন এক্স ক্যাডেটের স্বপ্ন পূরণ (২০২২)
তারিখ: ২৮ অক্টোবর ২০২২
(এটা একটা রম্য রচনা, একেবারেই ফান পোস্ট। কারো সাথে মিল থাকলে তা নেহেতই কাকতালীয়)
৩০৫০ সন। আকাশে উড়ছে ড্রোন, সেগুলিতে করে মানুষেরা ঘোড়াফেরা করছে। কলিমুদ্দিন একটা ড্রোন ট্যাক্সি নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে হাজির হয়ে আছে। নতুন কি যে যুগ আসলে সবাই এখন বয়স ধরে রাখতে চায়। বাজারে এক ধরনের ঔষুধ এসেছে যা খেলে ৫ বছর কোন বয়স বাড়বে না। কিন্তু ঔষুধটির যা দাম তা কিনবার জন্য জীবনের সব সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়।
কলিমুদ্দিন তার সমস্ত টাকা পয়সা নিয়ে এসেছে, যেইভাবে হোক তার বয়স ৫ বছর ধরে রাখতে হবে। অন্তত এই পাঁচটি বছর তার জন্য খুব দরকার।
কিন্তু টাকা থাকলেই হবেনা। ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখবে যে আসলেই ঔষুধটি নিলে কোন সমস্যা হবে না। এই তো সেইদিন তারই এক পরশি এটি নেবার পরে জটিলতাতে অবস্থা শরণাপন্ন।
কিন্তু কলিমুদ্দিন সিদ্ধান্ত নিয়েই এসেছে এটি তার লাগবে।
যাই হোক ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বললেন তার শরীরে সমস্যা হবে। এটা শুনে কলিমুদ্দিন একেবারেই হতাস। ইস তার ইচ্ছেটা পূরণ হবে না এই জীবনে।
মন খারাপ করে কলিমুদ্দিন বাসায় ফিরলো। তার বড় ছেলে পাশের শহর থেকে ড্রোনে করে এলো, সাথে তার বৌ ও ছেলে মেয়েকে। কিন্তু কলিমুদ্দিন সারাদিন কোন কথাই বললোনা। এক্কেবারেই ঝিম মেরে বসে থাকলো। কারো সাথে কোন কথাই বললো না।
খবর পেয়ে তার মেয়ে সিলেট থেকে প্লেনে করে আসলো।
সবাই গোল হয়ে তার বাবা-কে ঘিরে রেখেছে। কিন্তু কলিমুদ্দিনের কোন কথাই নেই।
সবাই যখন অনেক চেপে ধরলো যে এই শেষ বয়সে এসে কেনই বা তিনি বয়স ধরে রাখতে চায়?
প্রথমে কাচুমাচু করলেও যখন সবাই জোর করলো তখন কলিমুদ্দিন বলতে বাধ্য হল,
তার অনেক দিনের শখ যে সে তার ক্যাডেট কলেজের সংগঠন অরকা এর প্রেসিডেন্ট হোক। কিন্তু তার বয়স হয়ে যাচ্ছে। আবার অরকা এর নতুন নিয়ম করেছে যে প্রতি ব্যাচ থেকে শুধু মাত্র একজনই একবার প্রেসিডেন্ট হতে পারবে। সেই হিসাবে তার ১০৩৫ তম ব্যাচ থেকে প্রেসিডেন্ট হতে হলে আরো ৪ বছর তাকে বাচতে হবে। মরবার আগে তার এই একটি শখই সে পূরন করতে চায়।