মশিউরের খেরোখাতা

Pageflakes এর সাথে একান্ত সাক্ষাতকার (২০০৭)

তারিখ: ৪ এপ্রিল ২০০৭

শুধুমাত্র কম্পিউটার প্রোগ্রামের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতা নয় তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশ্ববাজারে ঢুকতে হলে বিশ্ববাজারের তথ্যপ্রযুক্তির প্রোজেক্টগুলিতে বাংলাদেশের নাম সংযুক্ত করতে হবে। বর্হির্বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি বাজারে বাংলাদেশের নাম আলোচনায় নিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে এমন একটি প্রোজেক্ট হল pageflakes নামে একটি সার্ভিসের। এতে কাজ করছে বাংলাদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রযুক্তিবীদ। কিছুদিন আগে এই টিমের প্রধান ওমর আল জাবির মিশো এর সাক্ষাতকার আমি গ্রহন করি। তা নিম্নে দেয়া হল।

Pageflakes এর টিমকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। প্রথমেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি বাংলাদেশী হয়ে এইরকম একটি গৌরবময় কাজে আপনারা সংযুক্ত আছেন জেনে। আশা করছি বাংলাদেশীরা আপনাদের সাফল্যে উৎসাহীত হয়ে তারাও তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখবে। আমাদেরকে সময় দেবার জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

[ড. মশিউর]  আপনারা যারা pageflakes এর সাথে জড়িত তাদের পরিচয় দিন। কারা কারা এতে সংযুক্তি আছেন এবং তাদের পরিচয়।

পেইজফ্লেক্সে ১৯ জন বাংলাদেশি এবং ৪জন বিদেশি কর্মরত রয়েছেন। আমি ওমর আল জাবির পেইজফ্লেক্সের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, ডিরেক্টর এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার। ড্যান কোহেন, সাবেক মাই ইয়াহু’র প্রধান এখন পেইফ্লেক্সের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) হিসেবে কর্মরত। এছাড়াও অন্য তিনজন কো-ফাউন্ডার হচ্ছেন জার্মানির ক্রিস্টোফ ইয়ান্জ (সিপিও) ও ওলে ব্রান্ডেনবার্গ (সিএমও) এবং বাংলাদেশের শাহেদউল হক খন্দকার (সিনিওর ডেভেলপার) ।

[ড. মশিউর]  কবে থেকে কাজ করছেন?

পেইজফ্লেক্সের সূচনা ২০০৫ সালের অক্টোবরে যখন ক্রিস্টোফ আমাকে একটি ইন্টারনেট স্টর্টআপ শুরু করার নিমন্ত্রণ দেন।

[ড. মশিউর] কিভাবে কাজটি বা এই প্রোজেক্টটি শুরু হল।

২০০৫ সালের শেষের দিকে ক্রিস্টোফ আমার ব্যক্তিগত ওয়েব সাইট www.oazabir.com দেখে চমৎকৃত হয়ে একসাথে কাজ করার আমন্ত্রণ জানান। আমরা অনেক চিন্তা ভাবনা করে একটি ওয়েব ২.০ স্টার্টপেইজ তৈরি করার পরিকল্পণা করি। সেসময় ওয়েব ২.০ এবং এজাক্স নিয়ে অনেক আলোচনা চলছিল এবঙ প্রায় প্রতি সপ্তাহে একটি করে নতুন স্টার্টাপ উদয় হচ্ছিল। ক্রিস্টোফের বিনিয়োগে আমরা জার্মানিতে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে ডিসেম্বরে প্রথম প্রিভিউ ভার্সন রিলিজ করি।

আমরা অনেকগুলো নতুন আইডিয়া উপস্থাপন করেছিলাম যেমন একাধিক পেইজ এবং ডেভেলপারদের জন্য উন্মুক্ত এপিআই। এ দু’টোই ছিল স্টার্টপেইজ জগতে দু’টো বড় মাইলফলক। এরপর ফেব্রুয়ারি ২০০৬ এ প্রথম বেটা ভার্সন রিলিজ করি যা ব্যপক জনপ্রিয়ত পায়। মার্চে আমরা গুগুল ও মাইক্রসফ্টকে হারিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করি সিওমোজ ওয়েব ২.০ এওয়ার্ডে। এরপরই বেঞ্চমার্ক ক্যাপিটাল থেকে সিরিজ এ ফান্ডিং পাই এবং বাংলাদেশে বেশ কয়েকজন ডেভেলপার নিয়ে পরোদমে কাজ শুরু করি।

[ড. মশিউর] একজন বাংলাদেশী হিসাবে বা বাংলাদেশ থেকে কাজ করার কি কি অসুবিধা বোধ করেছেন?

বাংলাদেশের অপ্রতুল ইন্টারনেট এধরনের প্রজেক্ট করার জন্যে উপযুক্ত নয়। তাছাড়া বিদ্যুতের অভাব, অভিজ্ঞ ডেভেলপারের অভাব, ইন্টারনেট কালচার যথেষ্ট না থাকা কাজের বড় অন্তরায়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জীবন যাপনের নানা ধরনের ঝুঁকি প্রতিদিনই নানাভাবে বাঁধা দেয়।

[ড. মশিউর]  pageflakes এর সাথে যারা পরিচিত নয় তাদেরকে এর সমন্ধে কিছু বলুন।

পেইজফ্লেক্স হচ্ছে ইন্টারনেটে দৈনন্দিন কাজ সহজে, কম সময়ে করার জন্যে একটি চমৎকার ওয়েব সাইট। পেইজফ্লেক্স থেকে আপনি মেইল পড়া ও লেখা, খবা পড়া, আবহাওয়া রিপোর্ট দেখা, দেশে কোথায় কি অনুষ্ঠান হচ্ছে জানা, কাজের তালিকা ও এময়েন্টমেন্ট রাখা, নানা ধরনের গেম খেলা, ওয়েব ফাই ও ছবি সংরক্ষণ করা, ব্লগ পড়া, মিউজিক ও পডকাস্ট শোনা সহ হাজারো কাজ করা যায়। এছাড়াও ব্যক্তিগত ওয়েব সাইট, পারিবারিক এবং গ্রুপ সাইটও তৈরি করা যায়। এসবই করা যায় যেকোন জায়গা থেকে শুধুমাত্র ব্রাউজার ব্যবহার করে।

[ড. মশিউর]  pageflakes এর ভবিষ্যত প্লান কি? শুধুই কি শুরুর পাতা হিসাবে কাজ করবে নাকি আরো কোন ভূমিকাতে যাবে।

আমাদের লক্ষ্য সর্বসাধারনের উপযোগি স্টার্টপেইজ তৈরি করা। তবে আমরা নানা ধরনের কো-ব্রান্ডিং সুবিধা দিয়ে থাকি যা বিভিন্ন কোম্পানি, স্কুল এবং গ্রুপ নিজেদের ডোমেইনকে পেইজফ্লেক্সের মাধ্যমে চালাতে পারে। যেকোন ওয়েব সাইট পেইজফ্লেক্সকে ইচ্ছামত কাস্টমাইজ করে নিজেদের মত ব্রান্ডিং করে নিতে পারবে। আমরা আগামি কয়েক মাসের মধ্যেই এই সুবিধা দেয়া শুরু করব।

[ড. মশিউর]  আমরা জানতে পেরেছি যে pageflakes এখন বিশ্বের সবথেকে “প্রথম পাতা” হিসাবে হিট হয়ে আছে এর পিছনে কি কারণ বলে মনে করেন।

আমরা সবসময়ই নতুন আইডিয়া উপস্থাপন করেছি সবার আগে যা পরবর্তীতে অন্যরা অনুসরণ করেছে। যেমন একাধিক পেইজ রাখার সুবিধা, ডেভেলপারদের জন্য ওপেন এপিআই, পেইজ পাবলিশ এবং অন্যদের সাথে শেয়ার করা, ব্যবহারকারির অবস্থান এবং আগ্রহ অনুসারে যথাযথ তথ্য সরবরাহ করা ইত্যাদি। আমরা স্টার্টপেইজ ধারণাটিকে অনেক সমৃদ্ধ করেছি এবং সর্বসাধারণের গ্রহনযোগ্যভাবে উপস্থাপন করেছি।

[ড. মশিউর]  নতুন প্রজন্মকে আপনাদের উপদেশ কি? তারা কিভাবে আপনাদের মত প্রোজেক্টগুলিতে অংশ নিতে পারে?

এধরনের একটি প্রজেক্ট সফলভাবে করার পূর্বশর্ত হচ্ছে টেকনিক্যালি যথেষ্ট দক্ষ হওয়া, সঠিক সময়ে সঠিক প্রজেক্ট হাতে নেওয়া এবং প্রজেক্টটি খুব অল্প সময়ে অনেকখানি এগিয়ে নেবার জন্য কঠোর পরিশ্রম করা। এছাড়াও একজন ভাল ইনভেস্টর হাতে পাওয়াটা খুব জরুরি। ইন্টারনেট স্টার্টাটআপের জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে এম একটি আইডিয়া যা একটি বড় প্রয়োজনকে পূরণ করতে পারে এবং আইডিয়াটিকে যথাযথ ভাবে বাস্তবে পরিণত করা এবং অন্য সবার থেকে অনেক ভালভাবে তা করতে পারা।

আপনাদের সময় দেবার জন্য ধন্যবাদ।


ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, আমেরিকা