০৮: স্টার্টআপে চাকুরির খোঁজ (২৬ অক্টোবর ২০১৯)
তারিখ: ২৬ অক্টোবর ২০১৯
(আমি আমার ক্যারিয়ারের অর্ধেক সময় গবেষক ও বৈজ্ঞানিক হিসাবে কাজ করে, পরবর্তিতে ইন্ডাস্ট্রি বা কর্পোরেটে যোগদান করি। আমার সেই অভিজ্ঞতা সিরিজ আকারে লিখছি এইখানে। ক্যারিয়ার বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে ইনবক্সে লিখুন)
প্রথম যখন বৈজ্ঞানিক থেকে ইন্ডাস্ট্রিতে যাবার জন্য চাকুরী খুঁজছিলাম তখন যদিও ইচ্ছে ছিল বড় কোন প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে কাজ করব। কিন্তু ব্যাপারটি এত সহজ ছিলনা। অনেক চেষ্টা করেও ৬ মাসেও কোন ফল পেলাম না। মাঝে মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তর পেলেও যখন তারা বুঝতে পারে যে সত্যিকারের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার আমার অভিজ্ঞতা নেই তখনই আর কেউই আগ্রহ দেখায় না। আসলে সেই সময়ে আমি সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈজ্ঞানিক হিসাবে কর্মরত। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করি, তা যতই ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ হোকনা কেন, সেটিকে সরাসরি ইন্ডাস্ট্রি হিসাবে কেউই দেখেনা। দেখে একাডেমিক কোন কাজ হিসেবেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার একটি নেজেটিভ দিক হল এটি। সেই ব্রান্ড ইমেজ থেকে বেরিয়া যাওয়া খুব কঠিন। আর সেই কঠিন দেয়ালের মুখোমুখি হলাম আমি। বয়স যখন চল্লিশ এর কাছাকাছি তখন এই মুহুর্তটি কঠিন। বিদেশে দুই সন্তান নিয়ে আছি, তাদের কখা ভেবেও দেয়ালে একদমই পিঠ ঠেকে গিয়েছিল। এটা ঠিক বাংলাদেশে ফিরে গেলেই কোন চাকুরি বা নিজের জায়গাটি তৈরী করে নিতে পারতাম। কিন্তু আমি আরেকবার ট্রাই করে দেখতে চাচ্ছিলাম। নিজেকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছিলাম। নিজের সাথে নিজের এক অন্যরকম যুদ্ধ। নিজের অতীত কে দুমড়ে মুচড়ে সামনে অন্য ট্রাকে যাবার চ্যালেঞ্জ। ব্যাপারটা এখন যত সহজে লিখছি, তখনকার সময়ে ব্যাপারটা এতটা সহজ ছিলনা। ভীষণ রকমের কঠিন মনবল নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়েছিল। এই সময়ে যারা মনবল দিয়ে সাহায্য করেছে তাদের মধ্যে নুরুজ্জামান পলাশের কথা বলতেই হয়। আমেরিকার সিলিকনভ্যালিতে দাপটের সাথে আমার এই ছোটভাইয়ের মতন এক অগ্রজ যোদ্ধা। মূলত তার উৎসাহেরই ইন্ডাস্ট্রিতে আসার জন্য আগ্রহ বোধ করি। আমি জানিনা এই লেখাটি আমার সেই ভাইটি পড়বে কিনা। আমেরিকার স্যানজোসের (San Jose) সেই পলাশকে পৌছে দিয়েন আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি।
মূর বিষয়ে আসা যাক-
সিভি তৈরি করা, লিংকডইন ও অন্যান্য যব সাইটে অনেক সাবমিট করেও যখন কোন ফলাফল পেলাম না তখন আমি আমার কৌশল পরিবর্তন করলাম। আমি ঠিক করলাম, প্রতিষ্ঠিত কোন প্রতিষ্ঠান নয় বরং নতুন প্রতিষ্ঠান বা স্টার্ট আপ এ কাজ খোজার। সিঙ্গাপুরে সেই সময় অনেক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান তৈরী হতে লাগলো। সমস্যা হল স্টার্টআপে বেতন তেমন একটি বেশী নয়। কিন্তু যেহেতু ইন্ডাস্ট্রিতে যাব বলে বদ্ধপরিপক হলাম, তাই এই রিস্কটি আমাকে নিতেই হল।
প্রথম যে স্টার্টআপ এ কাজ শুরু করলাম তার নাম হল, কানেকটেড হেলথ। বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস থেকে তথ্য পাঠিয়ে ডাক্তারদের তা দেখাবে। ঠিক একই ধরনের একটি ধারণা দিয়েছিলাম গ্রামিণ ব্যাংকের ড. ইউনুস কে। ২০০৮ এর সময়ে এই ধারণাটি নিয়ে কিছু মডেল তৈরী করছিলাম। কিন্তু ব্যাপরটি বাস্তবে আর রূপ নেয়নি। সেটি নিয়ে পরে আলোচনা করবো। কিন্তু যখন সিঙ্গাপুরে এই ধারনাটি নিয়ে কোন প্রতিষ্ঠান কাজ করছে জানলাম, তখন আর দ্বিধা করিনি। আমি প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাকে সরাসরি ইমেইল লিখলাম। যদিও জানতাম যে তারা সেই মুহুর্তে লোক নিচ্ছে না। কিন্তু একটু হোমওয়ার্ক করে, কেন তাতে আমি যোগ দিতে চাই তা বিস্তারিত ভাবে লিখলাম। কিন্তু তারা জানাল যে তারা সেই মুহুর্তে লোক নিচ্ছেনা। পরবর্তিতে যদি কোন লোক নেয় তবে জানাবে। আমি তারপরেও যোগাযোগটি বজায় রাখলাম। সেই যোগাযোগ রাখার বদৌলতে আমি প্রায় এক বছর পরে আবার তাদের কাছ থেকে উত্তর পাই সাক্ষাতকারের জন্য। (যারা চাকুরীতে পজিটিভ উত্তর না পেলে আর যোগাযোগ করেননা তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। বিফল হলেও যোগাযোগ রাখার মাধ্যমে যে চাকুরী হয় তার প্রমাণ আমি) কানেকটেড হেলথ এর চাকুরীতে যোগ দিয়ে নিজেকে বৈজ্ঞানিক থেকে কর্পোরেটে কাজ করার জন্য তৈরী করার সুযোগ পেলাম। আমি সেই সময় বেশ কিছু বড় বড় কর্পোরেটদের সাথে কাজ করছিলাম। তাই তাদের কাজ করার পদ্ধতিগুলো নতুন করে জানার অনেক সুযোগ পেলাম। এবং আমিও সেই সুযোগটাকে পুরো মাত্রায় সাজালাম। এবং পাশাপাশি নেটওযার্ক এর কাজ, ইভেন্টে যোগ দেবার চেষ্টা পুরোদমে চলতে লাগলো। আগের পর্বগুলি:
Posted on 26 Oct 2019