০৯: স্টার্টআপে চাকুরির অভিজ্ঞতা (২৬ অক্টোবর ২০১৯)
তারিখ: ২৬ অক্টোবর ২০১৯
(আমি আমার ক্যারিয়ারের অর্ধেক সময় গবেষক ও বৈজ্ঞানিক হিসাবে কাজ করে, পরবর্তিতে ইন্ডাস্ট্রি বা কর্পোরেটে যোগদান করি। আমার সেই অভিজ্ঞতা সিরিজ আকারে লিখছি এইখানে। ক্যারিয়ার বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে ইনবক্সে লিখুন)
আমার অফিস ছিল সিঙ্গাপুরের One North এলাকাতে। এই এলাকাতে অনেক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ছিল এবং সেখানে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন ইভেন্ট হতো। আর সেই ইভেন্টে যেয়ে অনেক লোকজনের সাথে পরিচয় হবার সুযোগ হলো। কিছু বাংলাদেশী প্রযুক্তিবিদও সেখানে কাজ করতো এবং তাদের সাথেও পরিচয় হত। এইভাবে গবেষনাগার থেকে বেরিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করে সেখানে নেটওয়ার্ক তৈরী শুরু করলাম। সিঙ্গাপুর সরকারের পরিচালিত JTC (Jurong Town Corporation) মূলত এই ওয়ান নর্থ এলাকার বিল্ডিংগুলি ম্যানেজ করে। এই জেটিসি আমাদের এই স্টার্টআপ গুলোকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করতো এবং তারা প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের ইভেন্ট এর আয়োজন করতো। তাদের ইভেন্টে অংশ নিয়েই আমি সবথেকে বেশি নেটওয়ার্ক করতে পেরেছি। কেননা সেখানে যারা অংশ নিত তারা ছিল স্থানীয় স্টার্টআপ এবং কারো কারো অফিস আমাদের অফিসের কাছেই। তাই মাঝে মধ্যে তাদের সাথে কফি আড্ডাটা করতে পেরেছি। জেটিসি এখনো বিভিন্ন ইভেন্ট এর আয়োজন করে যেগুলি আপনি পাবেন তাদের ওয়েবসাইটে। https://www.jtc.gov.sg/industrial-land-and-space/Pages/jtc-launchpad-one-north.aspx সরাসরি মানুষগুলির সাথে পরিচয় হয়ে, তাদের সাথে গল্প করে তাদের অনেক সমস্যা আমার জানা হোত। এইভাবে মানুষগুলির সাথে ব্যক্তিগত পরিচয় আমার অনেক কাজে দিয়েছিল। ভালো নেটওয়ার্ক করার জন্য তাত্ত্বিক বিভিন্ন ফর্মুলা প্রয়োগ করে, ভুল করে, আবার নতুন করে নিজের মতন করে স্ট্র্যাটেজি তৈরী করে নিয়েছি। এই সময়ে বাংলাদেশী প্রযুক্তিবীদদের নিয়েও একটি ইভেন্ট এর আয়োজন করেছিলাম, নাম দিয়েছিলাম “লাঞ্চ হাঙ্গামা”। সেই সময়ে পাশেই ছিল NUS বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে গবেষনার জন্য অনেক বাংলাদেশী ছেলেমেয়েরা আসতো, এবং কর্পোরেটে কাজ করা প্রযুক্তিবিদরা মিলে এই লাঞ্চ হাঙ্গামাতে আসতাম। আসলে দুপুরে লাঞ্চ এর ছুটিতে একটু একত্রিত হয়ে খাওয়া-দাওয়া করা এবং নেটওয়ার্কিং করাই ছিল এই উদ্দ্যেশ্য। তবে এই ধরনের উদ্দ্যোগ নিতে অনেক কোঅর্নিনেট ও সময় দিতে হতো। ComingTechs.com এর সূচনা এই সময়ে এই নেটওয়ার্ক করা মানুষগুলিকে কিভাবে আরো ইনগেজড করা যায়, এটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে কামিংটেক এর ধারণাটি আসি। পেশাগত জীবনে যাদের সাথে পরিচয় হচ্ছে, সেই পরিচয় থেকে কি নির্জাস নিতে পারি তাই চিন্তা করতে করতে এমন একটি প্লাটফর্ম তৈরীর ধারণাটি আসে। বিজ্ঞানী.অর্গ এ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের নেটওয়ার্কিং করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে, এটা তৈরী। তবে বাংলা এর পরিবর্তে পুরোপুরো ইংরেজীতে এবং শুধু মাত্র যারা ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো করছেন তাদেরকেই এইখানে পরিচয় করে দিই। তাদের ইভেন্ট এর খবর, সেই মানুষগুলির সাক্ষাতকার সহ অন্যান্য জিনিসপত্র এইখানে প্রকাশিত করতে থাকি। কামিং মানে যে প্রযুক্তিগুলি আসবে, বা ভূমিকা রাখবে সেই প্রযুক্তিগুলিকে এইখানে পরিচয় করে দিব। যেহেতু আমি বিভিন্ন ধরনের স্টার্ট আপ প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে কাজ করি তাই তাদের সাথে আমি পরিচয় বেশী। তাই তাদেরকে এই প্লাটফর্মে পরিচয় করে দেবার সুবিধা হয় এবং বেশ ভালোই ফিডব্যাক পাই। যদিও এই প্লাটফর্মটি মাত্র যাত্রা শুরু করেছে তাই অনেক পথ চলার বাকি।
Posted on 26 Oct 2019