মশিউরের খেরোখাতা

এইচ-টি-এম-এল-৫

২০১৪ এর অক্টোবর মনে হয় ইন্টারনেট জগতের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক হবে। হ্যা আমি এইচ-টি-এম-এল-৫ এর নতুন সংস্করণ এর প্রকাশিত সময়ের কথাই বলছি। স্টিভ জবস ২০১০ এর এপ্রিলে তার বিখ্যাত নোট Thoughts on Flash প্রকাশিত করল। আমি তখন নর্থসাউথে আইপি টেলিফোনি পড়াচ্ছিলাম। ক্লাশে গল্পের সময়ে বলছিলাম, দেখ ভিডিও ও ভয়েস কনটেন্ট আমাদের পুরো ইন্টারনেট ও এইচ-টি-এম-এল ব্যবহারের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। আর এডোব এর ফ্লাশ নিয়ে মাস্তানি এর দিনও শেষ হয়ে আসবে। ২০১০ এ আমার ছাত্র-ছাত্রীরা তখন পুরো দমে ফ্লাশে মজে ছিল। সব মোবাইলেই ফ্লাস সাপোস্ট হয়ে বের হচ্ছিল। বাংলাদেশে তখন ফ্লাশ শেখার জন্য সবার কি ভিড়। আমার ছাত্রছাত্রীরা আমার সাথে একদমই একমত হয়নি তখন। কিন্তু গত বছর এই এইচ-টি-এম-এল-৫ বের হবার পরে মনে হয় কার্যত ফ্লাশ এর ধীর মৃত্যু হবে, কিংবা তাকে হয়তো অন্য কোন উপায়ে পরিবর্তিত হতে টিকে থাকতে হবে। তা নিয়ে এডোব-এ আমার সহকর্মীদের ঘুম হারাম। (আপনাদের কারো কি রিয়েল প্লেয়ারের কথা মনে আছে?) কিন্তু আমরা যারা আই-ও-টি ডিভাইস নিয়ে কাজ করি (আমি বর্তমানে একটি মেডিক্যাল আই-ও-টি ডিভাইসের টিমের ম্যানেজার) তারা নতুন ভাবে এইচ-টি-এম-এল-৫ ব্যবহারের কথা ভাবছে। ডিভাইসগুলিকেই এই প্রযুক্তি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আর প্লাটফর্ম নিয়ে মাথা ব্যাথা থাকবেনা। প্লাটফর্ম নিয়ে এপল, এনড্রয়েড , ইউন্ডোজ এর মধ্যে যা প্রতিযোগীতা চলছে! কে জিতবে তা সময়ই বলে দিবে। এর মধ্যে আমার টিম এপাচে করডোভা নিয়ে কাজ করছে। এই আই-ও-টি এর মার্কেট টি কিন্তু বিশাল বড়। কোন প্রযুক্তি এতে বেশী এগিয়ে থাকবে তা নিয়ে প্রযুক্তি জগতে কিন্তু নিরবে এক যুদ্ধ চলছে। আমি দেখেছি সাধারণত অপেন সিস্টেমই বাজার জিতে নেয়, সেইভাবে বললে এই এইচ-টি-এম-এল-৫ নিয়ে আমি খুবই আশাবাদি। পুরানদিনে যারা এইচ-টি-এম-এল, সি-এস-এস, ও জাভাক্রিপ্ট শিখেছিলেন, তারা পুনরাই নতুন উদ্দ্যোমে আপনাদের ক্ষমতা আবার আডগ্রেড করে নিতে পারেন। সামনে এইচ-টি-এম-এল-৫ এর নতুন যুগ আসছে। সেই যুগে আপনাদের স্বাগতম জানাই।

১৯ আগষট ২০১৫