মশিউরের খেরোখাতা

ওয়েব ২.০ অনলাইন :: সুন্দরভাবে টাইম ম্যানেজমেন্ট করুন (২০০৬)

তারিখ: ৮ই সেপ্টেম্বর ২০০৬

স্বাগতম সবাইকে এক নতুন ওয়েবের যুগে। আপনারা আগে যে ওয়েব শুধু মাত্র তথ্য আদান-প্রদান (মাল্টিমিডিয়া সহ) এর কাজে ব্যবহার করেছেন, সেই ওয়েব আজ নতুন সূচনালগ্নে দাড়িয়েছে। ওয়েব ব্রাউজার বলতে আমরা ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, ফায়ারফক্স, অপেরা জাতীয় সফটওয়্যারগুলিকে বুঝি যা দিয়ে ওয়েব দেখা কিংবা পড়া যায়। ওয়েব ব্রাউজার দিয়ে এখন আর শুধু কোন ওয়েবপেজ দেখাই নয়, তা দিয়ে অনায়াসে অফিস চালানোর মত প্রয়োজনীয় কাজও করতে পারবেন। পূর্বে সেই কাজগুলি করবার জন্য কম্পিউটারে বিশেষ সফটওয়্যারের প্রয়োজন হত। নতুন এই ওয়েবের যুগকেই ওয়েব ২.০ নামে অভিহিত করা হয়েছে।

মনে করা যাক, আপনি কম্পিউটারে অফিসের কাজগুলি করার কথা ভাবছেন। অফিস চালানোর জন্য যে সমস্ত সফটওয়্যারের প্রয়োজন হবে, সবই যদি অনলাইনে ওয়েব ব্রাউজার দিয়ে করা যায়, তবে আপনার নিজের কম্পিউটারের সামনে বসে থাকার প্রয়োজন নেই। যে কোন কম্পিউটারে চলে যান, যে কোন ব্রাউজার খুলে অনলাইনেই আপনার প্রয়োজনীয় কাজগুলি সেরে নিন। নতুন এই ওয়েব ২.০ ধারনার উপর ভিত্তি করে অনেক সাইট চালু হয়েছে যা দিয়ে এই কাজগুলি করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রথমেই আসা যাক, ইমেইলের ক্ষেত্রে। আপনি হয়তো ইয়াহু কিংবা জিমেইল ব্যবহার করেন। অর্থাত্ তার মানে দাড়াচ্ছে আপনি যে কোন কম্পিউটার থেকেই আপনার ইমেইলটি আপনি চেক করতে পারছেন। এর জন্য আগের মত আপনার কম্পিউটারে ইউড্রো (Eudora), আউটলুক (Outlook) কিংবা অন্য কোন ইমেইল সফটওয়্যারের প্রয়োজন হবেনা। আপনার বন্ধুর বাসায় বেড়াতে গেছেন। তার বাসায় ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে খুব সহজেই চেক করে ফেলুন আপনার ইমেইল। অনলাইনে অফিস চালাবার ধারণাটি এসেছে সেখান থেকে। এইরকম ওয়েবেই যদি প্রয়োজনীয় আপনার সমস্ত টুলস (যাকে আমরা সফটওয়্যার বলে থাকি) থাকে তবে তা সম্ভব। ওয়েবের এই নতুন ব্যবহারই হল ওয়েব ২.০, যার অর্থ হল দ্বিতীয় জেনারেশনের ওয়েব। যেখানে ওয়েব শুধু মাত্র তথ্য আদান প্রদানের টুলসই নয়, ওয়েব ২.০ হল কাজ করার টুলসের সমন্বয়। আজকে সেইরকম অনলাইনেই কাজ করতে পারবেন সেইরকম ওয়েব ২.০ এর কিছু টিপস নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের কাছে।

ডেস্কটপ: আপনার কম্পিউটারটি চালু করলে প্রথমে যে স্ক্রীণটি আপনি দেখতে পান তাই হল আপনার ডেস্কটপ। ওয়েবেই আপনার ভার্চুয়াল ডেস্কটপটি মনের মত সাজাতে পারবেন netvibes.com এ। যেমন, একটি ToDo এর লিস্ট, কি কি করতে হবে, আপনার ক্যালেন্ডার, শহরের আবহাওয়া, খবর, ইত্যাদি অনেক প্রয়োজনীয় টুলসই আপনি এইখানে রাখতে পারবেন। এছাড়া youos.com নিয়ে এসেছে আপনার কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমটিকেই। ইমেইল: অনলাইনে ইমেইলের জন্য অনেকেরই পছন্দের হল জিমেইল। জিমেইল শুধুমাত্র ২ গিগাবাইটের ফ্রি সার্ভিস দেয় তাই নয়, আসলে জিমেইলের অনন্য বৈশিষ্টের কারণেই এত জনপ্রিয়। ইমেইল আর্কাইভ করা ও conversation এর ধারণাটি জিমেইল প্রথম প্রবর্তন করে। এছাড়া ইয়াহু কিংবা হটমেইলও জনপ্রিয়। ফিডরিডার: ইন্টারনেটের জগতে এখন ব্লগ বেশ জনপ্রিয়। ব্লগকে অনেকটা ব্যক্তিগত জার্নাল কিংবা অনলাইন ডাইরি বলতে পারেন। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে অনেক সময়ই ব্লগগুলি পড়বার সময় হয়না। সেইকাজটি সহজেই সমাধান করে দিয়েছে ফিডরিডার। ব্লগগুলি সাধারনণত HTML ছাড়াও rss, এবং atom নামে বিশেষ ধরনের ফর্মাট ব্যবহার করে। আপনার পছন্দের ব্লগগুলির rss কিংবা atom আপনার ফিডরিডারে সংযুক্ত করে নিন। যখন ব্লগগুলিতে কেউ নতুন কিছু লিখবে বা পোষ্ট করবে তখন আর কিছুদিন পরপর ওয়েবপেজগুলি খুলে না দেখলেও হবে। নতুন পোষ্টগুলি একসাথে আপনাকে প্রদর্শন করবে এই ফিডরিডার। তেমন কিছু ফিডরিডারের সাইট হল Google Reader। এছাড়া netvibes.comnewsalloy.com ও বেশ ভাল। ছবি ম্যানেজার: আপনি হয়তো নতুন ডিজিটাল ক্যামেরা কিনেছেন, কিন্তু বন্ধুদের ছবিগুলি ইমেইলে পাঠাতে যেয়ে অসুবিধায় পড়ছেন। আপনার জন্য একটি ভাল সমাধান হল: আপনার ছবিগুলি দিয়ে অনলাইন এলবাম গড়ে তোলা। খুব সহজেই আপনার কম্পিউটার থেকে ছবিগুলি আপলোড করতে পারবেন। অনলাইনে ছবি ম্যানেজ করবার জন্য ভাল দুটি সাইট হল : flickr.com23hq.com

ছবি এডিট: আপনার কম্পিউটারে ফটোশপ কিংবা পেইন্টশপের মত কোন সফট নেই। ভাবনা নেই অনলাইনেই আপনার ছবি এডিট করতে পারবেন এই সাইটদুটিতে: pxn8.compixoh.com ওয়ার্ড প্রোসেসর: আপনার কম্পিউটারে মাইক্রোসফট অফিস কিংবা অপেন অফিস নেই, কিন্তু ভাল একটি এডিটর আপনার দরকার। চিন্তা নেই অনলাইনেই ওয়ার্ডের মত এডিটর পাবেন এইখানে: zohowriter.com, ajaxwrite.com, writely.comrallypointhq.com Spreadsheet: মাইক্রোসফট এক্সেলের মত অনলাইনেই স্প্রেডশিট তৈরী করতে পারবেন এই সাইটগুলিতে: zohosheet.com, irows.com, numsum.com। এছাড়া কিছুদিন আগে গুগল স্প্রেডশিট এর সার্ভিস শুরু করেছে। প্রেজেন্টেশন: মাইক্রোসফটের পাওয়ারপয়েন্টের পরিবর্তে অনলাইনেই সুন্দর প্রেজেন্টেশন তৈরী করতে পারবেন এই সাইটগুলিতে : meyerweb.com/eric/tools/s5thumbstacks.com প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট: যারা ম্যানেজার হিসাবে কাজ করেন তারা তাদের প্রোজেক্টগুলিকে সুন্দরভাবে ম্যানেজ করতে পারবেন foldera.com, collectivex.com, basecamphq.com, dreamfactory.com/dreamteam/ সাইটগুলিতে। ফাইল পাঠান: কাউকে কি বড় ফাইল পাঠাবার কথা ভাবছেন? আপনার ফাইলটি যদি ১০ মেগাবাইটের থেকে বেশী হয় তবে ইমেইলে পাঠাতে বেশ অসুবিধা হয়। তবে yousendit.com এবং www.dropsend.com এর মাধ্যমে পাঠাতে পারেন। কিংবা অনলাইনে আপনার ফাইলগুলির ব্যাকআপ রাখতে চান? তবে ব্যবহার করুন box.net এতে ১ গিগাবাইট পর্যন্ত আপনার ফাইলগুলি ফ্রি রাখতে পারবেন। এছাড়া সহজে ফাইল আপলোড করার জন্য এতে খুব সুন্দর পদ্ধতি রয়েছে। ফ্যাক্স: অনলাইনে ফ্যাক্স পাঠানোর কথা ভাবছেন? তবে trustfax.com, interfax.com, efax.com মাধ্যমে পাঠাতে পারেন। তবে এইগুলি ফ্রি নয়। বুকমার্ক: অনলাইনেই বুকমার্কগুলি ম্যানেজ করতে পারবেন: simpy.com, gnolia.com, blinklist.com, del.icio.us ক্যালেন্ডার: অনলাইনে ক্যালেন্ডাররে জন্য ইয়াহু এর ক্যালেন্ডার সবথেকে পরিচিত। তবে গুগল ক্যালেন্ডার সবার নজর কাড়ছে। এছাড়া রয়েছে: spongecell.com, calendarhub.com, 30boxes.com, kiko.com

এড্রেসবুক: অনলাইনেই সবার ঠিকানা ম্যানেজ করতে চান? তবে ব্যবহার করুন plaxo.com, linkedin.com

আপনার অফিসের কাজ করবার জন্য আর অন্য কোন সফটওয়্যারের প্রয়োজন আছে কি? তবে সমস্যা হল, ইন্টারনেট হাতের কাছে থাকলেই হল। ওয়েব ২.০ এর পথযাত্রার পিছনে রয়েছে AJAX (Asynchronous JavaScript) নামে নতুন ধরনের একটি ওয়েব প্রযুক্তি। সুযোগ পেলে একবার দেখুন দ্বিতীয় জেনারেশনের নতুন ওয়েব ২.০ এর জগতটিকে।

মূল লেখা

৮ই সেপ্টেম্বর ওয়েস্টভার্জিনিয়া, আমেরিকা

তথ্যসূত্র: http://en.wikipedia.org/wiki/Ajax_(programming)http://www.oreillynet.com/pub/a/oreilly/tim/news/2005/09/30/what-is-web-20.htmlhttp://en.wikipedia.org/wiki/Web_2

তারিখ: ১৫ই এপ্রিল ২০০৬

বিশ্বের বড় বড় কর্পোরেটরা এখন টাইম ম্যানেজমেন্টকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। তার কারণ হল সুন্দর ভাবে টাইম ম্যানেজমেন্ট করার কারণেই সাফল্যের চুড়ায় পৌছা সম্ভব। ব্যাক্তিগত জীবনেই হোক আর তা পেশাগত জীবনেই হোক, লক্ষ্যে পৌছার জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট প্লান এবং সেই মোতাবেক কাজ করা। আমেরিকায় কর্পোরেটগুলি তাদের কর্মচারীদেরকে টাইম ম্যানেজমেন্ট করবার জন্য দক্ষ করে তুলছে। আর কম্পানিগুলির প্রজেস্টগুলি সফল করবার জন্য রয়েছে প্রোজেক্ট ম্যানেজারের এক্সপার্টরা। আজকে ব্যবহারিক জীবনে টাইম ম্যনেজমেন্টের কিছু টিপস নিয়ে আলোচনা করব।

টাইম ম্যানেজমেন্টের প্রথম লক্ষ্য হলঃ

“শুধু মাত্র ব্যস্ততা নয়, ফলাফলের দিকে গুরুত্ব দেয়া”

আমরা অনেক সময় দেখা যায় খুব ব্যস্ত, সারাদিন ধরে অনেক কাজ করছি, অথচ দিনের শেষে দেখা যাচ্ছে যে কাজের কাজ তেমন একটা এগোয়নি। এর মূল কারণ হল, আমাদের কোন কাজটি গুরুত্বপূর্ণ কোনটি অগুরুত্বপূর্ণ তা সুনির্দিষ্ট না করা এবং দক্ষ ভাবে টাইম ম্যানেজমেন্ট না করা।

প্রথমে আসা যাক, টাইম ম্যানেজমেন্টের জন্য আমাদের প্রয়োজন হবে tools এর। টুলস দু ধরনের হতে পারে, এনালগ ও ডিজিটাল। এনালগ হল কাগজের ডাইরি আর ডিজিটাল হল কম্পিউটারে টাইম ম্যানেজমেন্টের সফটওয়্যার, ডিজিটাল PDA এবং অনলাইনে ম্যানেজ করা। কোনটি ব্যবহার করবেন তা আপনার সামর্থ ও কোনটি ব্যবহারে সাচ্ছন্দ বোধ করছেন তার উপর। তবে যেটিই ব্যবহার করেননা কেন, সবসময় তা হাতের কাছে পাবেন সেটি বেঝে নিন।

এনালগ টাইম ম্যানেজমেন্ট টুলঃ যে কোন বইয়ের দোকানে যে ডাইরি পাবেন তা দিয়েও আপনি টাইম ম্যনেজমেন্টের কাজটা করতে পারবেন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে Franklin Covey এর ডাইরি ব্যবহার করি। এছাড়া আরো এক ধরনের ডাইরি আজ আমি পরিচিত করে দিব তা হল, DIY Planner এবং Hipster PDA। দোকানে যে ডাইরি পাওয়া যায় তা মনের মত নিজের প্রয়োজন মাফিক সাজান যায়না। সেখানে এই ডাইরির দুটির কনসেপ্ট খুব সাধারণ: এখানে অসংখ্য টেম্পলেট বা ফাইল রয়েছে। নিজের প্রয়োজন মাফিক সেটা ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে কাগজ দিয়েই ডাইরি তৈরী করে নিন। সেটিই হবে আপনার সময় ম্যানেজমেন্ট এর টুল। আমি অফিসের প্রজেস্টগুলি ম্যানেজমেন্ট করবার জন্য DIY Planner ব্যবহার করি। তবে যেটিই ব্যবহার করুন না কেন তাতে যেন বছরের, মাসের, সপ্তাহের ও দিনের সেকশনগুলি থাকে। বাংলাদেশে সাধারণ যে ডাইরিগুলি পাওয়া যায় তাতে দিনের জন্য আলাদা কাগজ থাকলেও মাসের কিংবা সপ্তাহের জন্য আলাদা কাগজ বরাদ্দ থাকেনা। তবে বেশ কিছু বিজনেস ডাইরিতে তা থাকে। যারা কম খরচে এমন একটি ডাইরি তৈরী করতে চান তাদের PocketMod ব্যবহার করার পরামর্শ দিব। আপনি যা যা রাখতে চান তা পছন্দ করে নিন, তারপরে প্রিন্ট আউট নিয়ে নিন। তারপরে সেটিকে নিয়ম অনুয়ায়ী ভাগ করে খুব সহজেই ছোট আকারের ডাইরি তৈরী করে নিতে পারবেন, নিজের মনের মত।

http://www.diyplanner.com/http://www.43folders.com/2004/09/03/introducing-the-hipster-pda/http://www.pocketmod.com/

কম্পিউটারে টাইম ম্যানেজমেন্টঃ কম্পিউটারে টাইম ম্যানেজমেন্ট করার বেশ কিছু ভাল সফট রয়েছে। কোনটি ফ্রি আবার কোনটি কিনতে হয়। অনেকেই মাইক্রোসফটের আউটলুক ও লোটাস এর অর্গানাইজার এর সাথে পরিচিত। তবে আজ ফ্রি ও আমার ব্যবহার করে ভাল লেগেছে এমন দুটি সফট উল্লেখ করব: Sunbird: Mozilla ফাউন্ডেশনের sunbird অনেকটা মাইক্রোসফটের আউটলুকের মত। আউটলুকের পরিবর্তে অনেকেই এটিকে বেশী নিরাপদ মনে করেন এবং ব্যবহার করতে সাচ্ছন্দ বোধ করেন। এছাড়া যারা ফ্লাশড্রাইভ কিংবা পেনড্রাইভ ব্যবহার করে তারা এই sunbird তাদের পেনড্রাইভ থেকেই চালু করতে পারেন। বহনযোগ্য বলে ব্যবহারে বেশ সুবিধা পাবেন। http://johnhaller.com/jh/mozilla/portable_sunbird/http://www.mozilla.org/projects/calendar/sunbird.html Osafoundation এর chandler একটি সুন্দর সফট। এটির আইকন গুলি সুন্দর এবং ইন্টারফেসটি আমার পছন্দের। http://chandler.osafoundation.org/

অনলাইনে টাইম ম্যানেজমেন্টঃ অনলাইনে টাইম ম্যানেজমেন্টের জন্য বেশ কিছু সাইটের মধ্যে প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় ইয়াহু এর অনলাইন ক্যালেন্ডার। তবে এছাড়াও নিম্নেরগুলি সাইটগুলি আমার পছন্দের। এর মধ্যে আমি কিকো ব্যবহার করি, খুব সহজেই তা ছবির মত অর্গানাইজ করা যায়। এছাড়া গুগল কিছুদিন আগে গুগল ক্যালেন্ডার ছেড়েছে। গুগলের ক্যালেন্ডারও বেশ সুবিধাজনক। http://www.kiko.com/http://roughunderbelly.comhttp://www.contactoffice.comhttp://www.localendar.com

টাইম ম্যানেজমেন্টের টিপস:

Aim section: প্রথমে একটা কাগজ কলম নিয়ে আপনার জীবনের লক্ষ্যগুলি নির্ধারণ করুন। জীবনে আপনি কি কি করতে চান। তারপরে সেখান থেকে সামনের পাঁচ বছরে আপনার লক্ষ্যগুলি একটি পাতায় লিখুন। এইবার এই বছরের লক্ষ্যগুলি লিখুন। লক্ষ্যগুলি পুরন করবার জন্য কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে তা লিপিবদ্ধ করুন। এইভাবে কাগজে লিপিবদ্ধ করার কারণে কি কি করতে চান সে সমন্ধে আপনার একটা সাম্যক ধারণা হবে। এরপরে এই মাসের লক্ষ্যগুলি লিখুন। আপনার ডাইরির মাসের ক্যালেন্ডারে কোন কোন দিনগুলিতে কারো সাথে আপনার এপয়েন্টমেন্ট আছে তা লিপিব্ধ করে নিন। এক মাসের একটি strategy দাড় করান। এইবার আসুন সাপ্তাহিক প্লানে। সপ্তাহের শুরুতে আপনার ম্যানেজমেন্ট টুলে লিখে নিন, এই সপ্তাহে আপনাকে কি কি কাজ করতে হবে। একটা লক্ষ্য বা strategy দাড় করিয়ে নিন। এতে সুবিধা হল, সপ্তাহের শুরুতেই আপনি বুঝতে পারবেন আপনার কি কি কাজ করতে হবে। এইবার আসুন প্রতিদিনের প্লানে। দিনের শুরুতে কিংবা আগের দিন রাতে আপনার ডাইরি কিংবা কম্পিউটারের টুলস গুলিতে প্লান করে নিন, দিনে আপনাকে কি করতে হবে। একটা নির্দিষ্ট সময়ে যেটি করতে হবে তাকে আমরা appointment নামে চিহ্নিত করতে পারি। আর সারাদিনে যে কাজটি সমাধান করতে হবে তা ToDo নামে আমরা চিহ্নিত করতে পারি। যেমন আপনি ব্যাঙ্কে বিদ্যুতের বিল দিবেন, তা যাবে আপনার ToDo লিস্টে। আর যদি দুপুরে কারো সাথে লাঞ্জের এপয়েন্টমেন্ট থাকে, তবে তা যাবে appointment লিস্টে। যারা ইয়াহু ব্যবহার করেন তারা এইভাবে appointment এবং ToDo বা Task লিখে রাখতে পারেন। আর যদি ইয়াহু বারবার অন করে তা ম্যানেজমেন্ট করতে অসুবিধা হয় তবে Yahoo Widge ব্যবহার করতে পারেন। Widge আপনার ডেস্টটপের স্ক্রীণে প্রদর্শন করবে আজ কি কি করতে হবে। গুরুত্ব অনুযায়ী ToDo এর লিস্টকে সাজান। আসলে সারাদিনে আমাদের অনেক টাস্ক থাকলেও সবগুলি টাস্কই একই গুরুত্বের নয়। গুরুত্ব অনুযায়ী ToDo এর লিস্টকে সাজান। আমি নিম্নের পদ্ধতিতে আমার ToDo এর লিস্টকে সাজাই: খুবই গুরুত্বপূর্ণ: যে কাজগুলি আজকের মধ্যেই করতে হবে। মনে করুন আজকেই আপনাকে একটা রিপোর্ট জমা দিতে হবে তা আমি “A” নাম দিয়ে কিংবা লাল রঙ দিয়ে চিহ্নিত করি। মোটামুটি গুরুত্বপূর্ণ: আজকে কাজগুলি করতে পারলে ভাল হবে সেগুলি এইভাগে ভাগ করতে পারেন। আমি সেগুলিকে “B” নামে কিংবা নীল কালি দিয়ে চিহ্নিত করি। আজকে না করলেও চলবে: এরপরে “C” কিংবা কাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করি যেগুলি আজকে না করলেও চলবে সেগুলিকে। এইভাবে গুরুত্ব অনুযায়ী কাজগুলিকে চিহ্নিত করতে পারলে সারাদিনে কোন কাজটি আপনার জন্য গুরুত্ব পূর্ণ কোনটি অগুরুত্বপূর্ণ সে সমন্ধে আপনার সাম্যক ধারণা হবে। আসলে অনেক সময় কাজ করতে যেয়ে আমরা এর গুরুত্বগুলিকে ভুলে যাই। আপনার হয়তে আজকেই একটা রিপোর্ট জমা দিতে হবে, দেখা গেল সারাদিন আপনি অন্যান্য অগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি নিয়ে এত ব্যস্ত যে দিনের শেষে এসে মনে হল আজকে রিপোর্টটা জমা দিতে হবে, তখন অফিসে দেরী করে কিংবা রাত জেগে আপনাকে হয়ত কাজটি করতে হচ্ছে। কিন্তু দিনের শুরুতেই যদি কাজগুলিকে গুরুত্ব অনুযায়ী ভাগ করে নিন। দিনের শুরুতে মাত্র ১৫ মিনিট ব্যবহার করলেও তা আপনার দিনকে সুন্দর ভাবে কর্মময় করতে সাহায্য করবে।

প্রোজেক্ট সমন্ধে কিছু কথা: উপরে যেগুলি বল্লাম তা হল দিন, সপ্তাহ, কিংবা মাস অনুযায়ী আপনার প্লান তৈরী করা। এইগুলির পাশাপাশি আপনি বেশ কিছু প্রজেক্ট এর সাথে হয়তো জড়িত। প্রজেক্ট হচ্ছে যেগুলি বেশ কিছুদিন বা কয়েক মাস ধরে চলছে বা চলবে এবং তার একটি লক্ষ্য আছে। প্রজেক্ট শুধু যে কর্মজীবনেই হবে তাই নয়, তা ব্যক্তিগত জীবনেও হতে পারে। যেমন, আপনি একটা বাড়ি কিনতে চান। আপনার ডাইরিতে একটি প্রজেক্ট সেকশন নামে একটি আলাদা অংশ করুন। যেমন এর জন্য “বাড়ি কিনা” নামে একটি প্রোজেক্ট তৈরী করতে পারেন। বাড়ি কিনবার জন্য আপনাকে কি কি করতে হবে সেই Task গুলি লিখুন। কি কি স্টেপ নিতে হবে সেগুলি উল্লেখ করুন। কবে কবে তার জন্য কি কি করছেন তার লগগুলি লিখে রাখুন। এতে প্রোজেক্টগুলি গতিবিধি সমন্ধে আপনার নজর থাকবে। আমি নিম্নের চিত্র অনুযায়ী আমার টেবিলে প্রোজেক্টগুলি সাজিয়ে রাখি, এতে আমার কোন প্রোজেক্টগুলি কিভাবে এগুচ্ছে তার উপর একটা সাম্যক চিত্র দাড় হয়।

যারা ইয়াহু ক্যালেন্ডার ব্যবহার করেন তারা Notepad এর মাধ্যমে প্রোজেক্টগুলি ম্যানেজ করতে পারেন।

আরো কিছু টিপস: সপ্তাহের মাঝে আপনার সপ্তাহের strategy এর দিনে নজর দিন। এই সপ্তাহে আপনি যে লক্ষ্য গুলি ঠিক করেছেন তা ঠিক মত এগুচ্ছে কিনা তা পর্যালোচনা করে দেখুন। দিনের শেষে, সপ্তাহের শেষে এবং মাসের শেষে একবার আপনার আগের কাজগুলি নজর দিয়ে দেখুন এবং নিজের কাজগুলি নিয়ে খুটিয়ে দেখুন। কোথায় আরো জোর দিতে হবে তা বের করুন। দেখবেন আপনার কাজের উপর একটা চিত্র আপনার তৈরী হচ্ছে। টাইট সিডিউল রাখবেন না। দিনের এপেন্টমেন্ট করবার সময়, সেগুলির মাঝে কিছু সময় ফাকা রাখবেন, যেখানে আপনি রিফ্রেশ হবার সুযোগ পাবেন। যখনই কারো সাথে এপেন্টমেন্টের নিয়ে কথা বলছেন, তখন আপনার ডাইরি বা অর্গানাইজারটি দেখে নিন সেই সময় ফাকা আছে কিনা, তারপরে তা সেখানে লিখে রাখুন। অবশ্যই একই সাথে কয়েকটি এপেয়ন্টমেন্ট লিখে রাখবেননা। নিজেকে উত্সাহ দিন। কোন একটা task শেষ হলে কাজ সুন্দর ভাবে সমাধান হলে নিজেই নিজেকে পুরষ্কিত করুন। তাতে কাজে আরো উত্সাহ পাবেন। একটা task শেষ হয়ে গেলে, সেখান থেকে আপনার মন ঘুরিয়ে নতুন কাজে মন দিন। এইভাবে মননিবেশ করুন আপনার বর্তমান কাজে।

সময়কে সুন্দরভাবে ব্যবহার করে আপনার লক্ষ্যে পৌছে যান। মনে রাখবেন, প্রতিদিন আমারা সবাই আমাদের হাতে ২৪ ঘন্টা পাই। এই সময়কে কে কিভাবে ব্যবহার করছে তার উপরই নির্ভর করছে আপনার সাফল্যের চাবিকাঠি।

মূল প্রবন্ধ

১৫ই এপ্রিল ২০০৬ মার্শাল বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, আমেরিকা