হংকং এর স্মৃতি
জানালাটা খুলতেই একরাশ বাতাস হুহু করে ঢুকে গেল। বাতাসকে দেখতে পারিনা, কিন্তু তার অস্তিত্বটুকু বুঝতে একটুকও দেরী হলনা। স্মৃতিও কি এমনি? দেখতে পারিনা বুঝতে পারি কিন্তু তার অস্তিত্ব ডুবিয়ে রেখে আমাদের। সেই ছেলেবেলায় কটকটি কবে বিক্রি করতে এসেছিল, জানালার ওপার থেকে তার ডাক কাছে এসে দূরে চলে গেল, সেই ডাক কবে কোথায় হারিয়ে গেছে আমাদের আধুনিক সমাজের চাপে, সময়ের বাকে। কিন্তু সেই ডাক এখনও আমায় ডাকে। ছেলেবেলায় ছাদের কার্ণিশে সুতা ঝুলে থাকলেই দৌড় দিয়ে যেতাম ছাদে, এই বুঝি কোন ঘুড্ডি এসে পড়েছে আমাদের ছাদে। নিউইয়র্কের ট্রেনের জন্য দাড়িয়ে আছি, হটাৎ ছাদের এক কোণায় দেখি লম্বা একটি সুতো ঝুলছে, বিশ্বাস করুন বৌছেলেদের রেখে দিলাম আমি দৌড়! ভুলেই গেছি এটা মোহাম্মদপুরের মধ্যবিত্তের কোন সমাজ নয়! দুপয়সা ঘুড্ডির জন্য এখন আর দৌড়ানর প্রয়োজন নেই। কিন্তু ছেলেবেলা থেকেই ডিএনএ তে প্রোগ্রাম করে রাখেছি, সুতা মানেই হটাৎ পাওয়া এক চিলতে আনন্দ। সেই রকম কত্ত সুতো ঝুলছে আমাদের চারদিকে। স্মৃতি.. সেটি কি শুধু মস্তিষ্কের মধ্যে নিউরোনের মধ্যের কিছু আয়ন-এর খেলা যা অনেক সযতনে আমাদের শরীর নামে আবয়বে বদ্ধ থাকে। নাকি এর থেকেও অনেক বড় কিছু। দুরে তারায় ভরা হংকং এর আকাশে সেই উত্তরগুলি খুজতে যেয়েও- ঠিক খুজে পাইনা।
১৬ ডিসেম্বর ২০১৭