সমাজের বিভাজন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংকল্প: ঐক্যের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ (২০২৪)
তারিখ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
যেকোনো সমাজেই কিছু না কিছু বৈষম্য থাকে। আমাদের সমাজও এর ব্যতিক্রম নয়। এখানে বিভিন্ন স্তর বিদ্যমান, যা অনেকাংশেই অদৃশ্য, কিন্তু শক্তিশালী। এই স্তরগুলো গড়ে ওঠে অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক মর্যাদা এবং অন্যান্য প্রভাব থেকে। তবে, এ ধরনের প্রভেদ যেকোনো সমাজেই থাকে এবং কিছুটা স্বাভাবিক। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এ বিষয়গুলোকে মানবিক গুণাবলির মাধ্যমে সমন্বিত রাখা এবং একটি রাষ্ট্র কাঠামো নিশ্চিত করা, যা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করবে।

তবে দুঃখজনকভাবে, মাঝে মাঝে বহির্বিশ্ব আমাদের সমাজের এই বৈষম্যকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। তারা তাদের পছন্দমত নেতাদের দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে চায়, যেন দেশের সম্পদ আরও শোষণ করা যায় এবং নিজেদের অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। আমরা লক্ষ্য করছি যে, আমাদের দেশের অনেক ক্ষেত্রে আমরা বিদেশের প্রতি অত্যধিক নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। এ নির্ভরশীলতা যাতে আমাদের সমাজের দুর্বলতার কারণ না হয়, সেদিকে আমাদের দৃষ্টি রাখতে হবে।
গত ২০ বছরে আমরা দেখেছি, কীভাবে সমাজের এই বিভাজনগুলোকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে। পিলখানার হত্যাকাণ্ড এর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ, যেখানে সমাজের ভেতরের বিভাজনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিভিন্ন বাহিনীকে উত্তেজিত করা হচ্ছে, যেমন আনসার বাহিনী, রিকশাচালক, গার্মেন্টস এবং ভবিষ্যতে হয়তো আরও অন্য কোনো গোষ্ঠীকে ব্যবহারের চেষ্টা হবে।
তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, সমাজের বিভেদগুলো সবসময় থাকবে, কিন্তু আমরা যেন সেই বিভেদগুলোর উপরে মানবিকতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারি। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসনযুক্ত একটি সমাজ গড়ে তোলা। বিদেশি শক্তিগুলো যতই আমাদের সমাজের বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দুর্বল করার চেষ্টা করুক, আমাদের সজাগ থাকতে হবে, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
দেশকে ভালোবেসে, দেশের জন্য কাজ করতে হবে। যে অবস্থানেই আমরা থাকি না কেন, আমরা যেন সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতে পারি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি—এটাই হোক আমাদের নতুন দেশ গড়ার অঙ্গীকার।