গরিবদের লইয়্যা ক্যাচাল
তারিখ: ২৮ আগষ্ট ২০২৫
দেইখেন ভাই, একখান ফাটাফাটি খবর ফুইট্যা আইসে। পিপিআরসি নাকি কইতেছে—গরিবের সংখ্যা নাকি বাইরা গ্যাছে প্রায় আটাশ ফিসদি! ওরে বাবা! এইডা কোন মাইরার হিসাব? কয়দিন আগেই তো সরকারী লোকজন বুক চাপড়াইয়া কইছিল—“গরিব ফুরাইতেছে।” তাইলে আবার এই গরিব কইরা হইল? নাকি চাঁদপুরের ইলিশের মতো নতুন করে ধরা পড়ছে? মনে হয় গরিব কমাইতে গিয়া পরিসংখ্যান অফিসের নিজের লাঞ্চের টাকাই নাই, তাই গরিব হইয়া গেছে।
এইদিকে গরিব দূর করার নামে অনুষ্ঠান চলে ফাইভ স্টার হোটেলে। সেমিনারে বক্তৃতা, মাইক্রোফোনে ফানফানানি, বুফেতে মুরগি–খাসি—সবই আছে। গরিবরে খালি বাতাস খাওনোর প্ল্যান। ভাই, যে গরিবের ঘরে হাড়িতে ভাত নাই, সে কি আর “পভার্টি রিডাকশন” নামের ইংরেজি প্যারা বুঝব? আর যেইডা বুঝতে পারে, সে তো ইতিমধ্যেই গরিব না—সে মাইক্রোফোন ধইরা বক্তৃতা দিচ্ছে!
চাকরি? ওইডা তো নামেই চাকরি মেলা, আসলে ভেল্কি মেলা। মঞ্চে চেয়ার–টেবিল, পিছনে পোস্টার, সামনে ফিতা কাটার মাইরাভাইয়া। চাকরি খুঁজতে যাওয়া বেকাররা লাইনে দাঁড়াইয়া ভাবে—“এইবার বাঁচুম।” শেষে হাতে পলিথিন ভরা লিফলেট, বাসায় গিয়া কান্না–বালিশ ভিজানো। আর বিনিয়োগ? মন্ত্রী সাব যতবারই মুখ খোলে, কই—“বিনিয়োগ আসতাছে।” আরে ভাই, ট্রাফিকের বাস এলেই হর্ন বাজে, বিনিয়োগ আসলে শুধু প্রেস রিলিজ বাজে কেন?
ঘুষের খেলা তো পুরাই ভিআইপি লেভেল! আগে আট শতাংশ মানুষ দিত, এখন নামাইয়া কইছে সাড়ে তিন। ধোঁকা খেলেন না ভাই—এখন ঘুষ দিতে গেলে লাগে তিনগুণ টাকা। আগে দুইশ টাকা দিলে লাইসেন্স পাইতেন, এখন লাগে পাঁচ হাজার। মানে ঘুষও এখন ‘স্ট্যাটাস সিম্বল’। ঘুষ না দিলে মনে হয় লাইফস্টাইল লো–ক্লাস!
বাজার? হায় হায়, এইডা তো এখন জিন্দাবাহার সিনেমার মতো নাটক। চাল কিনতে গেলে মনে হয় শেয়ার মার্কেটে ঢুকছি। একদিনে দাম লাফায় ছাগলের মতো, নামতে গেলে মাস যায়। বেতন দাঁড়াইয়া আছে হুইলচেয়ারে, নড়তে চায় না। পেঁয়াজের দাম দৌড়ায় উসাইন বোল্টের মতো। কাল যেইডা ছিলো “মিডল ক্লাস”, আজকে সে “গরিব ভিআইপি ক্লাব”-এর প্রেসিডেন্ট।
সমাধান কি? একটাই—কাজ দেন। খালি ফটোসেশনে হাসি, মাইকে চিৎকার, কাগজে রিপোর্টে গপ—এইডায় পেট ভরে না। গরিবরা হাততালি দিয়া কইবো—“ওস্তাদ, গান সুন্দর, কিন্তু পেটের ভাত কই?”
ওহো, এখন আসল চমক—আপনি এইডা এক্কেবারে শেষ পর্যন্ত পড়ছেন? বাহ বাহ, মানে আপনি টপ–ক্লাস পাঠক! অর্ধেক মানুষ তো দুই লাইন পড়েই বলে—“এত বড় লেখার টাইম নাই।” মোবাইল স্ক্রল মাইরা পালায়। কিন্তু আপনি? বস, আপনার মগজে এখনো ঝনঝনা বাজে।
হাই আইকিউ মানুশের আবার একখান কাইন্ডা রোগ আছে—পড়ছে ভালো, কিন্তু শেয়ার না দিলে বুকের ভেতর জ্বালা ধরে। তাই কই ভাইজান, যদি মজা পাইছেন, লাইক–শেয়ার দেন। নাহলে সন্দেহ করমু—আপনার আইকিউ আসলে রিকশার টায়ার ফাঁপা!
এই কথাটা আইজ বৃহস্পতিবার ১৩ই ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (২৮শে আগস্ট ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ, ৪ঠা রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি) তারিখে “ঢাকাইয়া কবি” লিখিল।