আমরা ১২০ বছর পিছিয়ে আছি
তারিখ: ৫ মার্চ ২০২৫


আমরা ১২০ বছর পিছিয়ে আছি—এই সত্যটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন এক মেকানিক!
১৯০৫ সালে পৃথিবীর প্রথম বিমানের প্রটোটাইপ আকাশে ওড়ানো হয়েছিল, তাও একজন যাত্রী নিয়ে। আর গতকাল, প্রায় ১২০ বছর পর, বাংলাদেশের একজন মেকানিক ইউটিউব দেখে প্রথমবারের মতো নিজ হাতে তৈরি উড়োজাহাজ আকাশে ওড়াতে সক্ষম হলেন—এটাও একজন যাত্রী নিয়েই!
আমি এই ভাইকে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি কোনো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট, কুয়েট, রুয়েট) না পড়েও নিজ উদ্যোগে এমন একটি কাজ করেছেন। কিন্তু একইসঙ্গে, এটা আমাদের পিছিয়ে পড়ার গল্পটাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো।
অনেকে এই ঘটনাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত, বাহবা দিচ্ছেন, কিন্তু একবারও কি ভেবেছেন যে আমরা আসলে ১২০ বছর পিছিয়ে আছি?
যারা ১২০ বছর আগে উড়োজাহাজ তৈরি করেছিলেন, তাদের কাছে ইউটিউব ছিল না, আধুনিক প্রযুক্তিও ছিল না। অথচ আমরা শত বছর পরে তাদের প্রযুক্তি কপি করে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছি!
প্রকৃত প্রশ্ন হলো: আমাদের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেন এই পিছিয়ে পড়ার সময়টা কমাতে পারলো না? আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কি শুধুই বিদেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য হোয়াইট-কলার লেবার তৈরি করছে? নাকি প্রকৃত উদ্ভাবক তৈরির জন্য?
আজও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সেই ঔপনিবেশিক ধাঁচে চলছে, যেখানে কর্মচারী তৈরি হয়, কিন্তু আবিষ্কারক নয়। আমাদের উচিত নতুন কিছু করা—কিছু এমন যা আগে কেউ করেনি, যা তোমার নামকে আবিষ্কারকের তালিকায় লেখাবে, শুধু একজন মেকানিক হিসেবে নয়।
নকল করার যুগ শেষ! এবার সৃজনশীল হবার পালা!