ট্রাম্পের শুল্কের ধামাকা: মোদির গলায় মাছের কাঁটা
তারিখ: ২৭ আগষ্ট ২০২৫
এই যে ট্রাম্প ভাই, একেবারে অদ্ভুত মানুষ। গতকালও হাসিমুখে হাত মেলাইত, আজকে কইতেছে—“এইবার ৫০ পার্সেন্ট শুল্ক দিয়া তোরে শিক্ষা দিমু।” আগে ২৫ ছিল, ওইডা নাকি পুতুল খেলা। আরে ভাই, এইডা কি শুল্ক নাকি হোগলার দড়ি? ভারতগো ব্যবসায়ীরা তো বুক চাপড়াইতেছে—“হায় মা, ব্যবসা তো একেবারে গ্যালাস খাইয়া গেল!”
টেক্সটাইল, গহনা—সব শেষ। মাইর এমন মারছে যে দর্জি ভাইগো মেশিন থাইমা গেছে, সোনা-গহনার দোকানদার ভাবতেছে, এইবার শখ কইরা বউয়ের কানের দুলও গলাধঃকরণ করতে হইবো।
তবে ফোন, ল্যাপটপ, আইফোন ওইসব বাদ। ক্যান? ট্রাম্পও জানে, টিম কুক রাগ করলে তার টুইটার অ্যাকাউন্টে লাইট নিভে যাবে। অ্যাপল যদি মুখ ফেরায়, হোয়াইট হাউসে অন্ধকার। তাই ওইখানে দয়া দেখাইছে।
ট্রাম্পের রাগের কারণ? ভারত রাশিয়ার তেল কিনে গরম ভাত খাইতেছে। ট্রাম্প কইলো, “ওইডা তো পুতিনের কামান খাওয়াইতেছে। তুই আমারে বন্ধু কইলা, আবার শত্রুর দোকান দিয়া কেরোসিন কিনলা? এক্কেবারে বেইমানি।” ভারতও পাল্টা কইলো—“দাদা, এইডা তো একেবারে গায়ের জ্বালা, অশোভন!” কুট্টি ঢঙে কইলে—“ট্রাম্প, তুমি একেবারে মেজাজু খ্যাপা।”
এবারে আসল ভয়—চীন, ভিয়েতনাম, আবার আমাদের বাংলার কাপড়-গামছাও আমেরিকার বাজারে ঢুইকা যাইবো। এক জুতা ব্যবসায়ী কান্নায় ভিজা কইরা বললো—“আমাদের ডিজাইন আমেরিকান ক্রেতা দিয়া ভিয়েতনামে বানাইতেছে।” মানে, বিয়া ঠিক হইছে, আবার বর পালায়া গ্যাছে পাশের পাড়ার মাইয়ার লগে।
ভারতের সরকার? আহা, তারা এখন মিটিং আর মিটিং। চা খাইতেছে, বিস্কুট খাইতেছে, শেষে কইতেছে—“আবার মিটিং করি।” ওই মিটিং দিয়া যদি শুল্ক কমত, তা হলে আমি প্রতিদিনই মিটিং করতাম।
ট্রাম্প থামে নাই। আবার কইলো, “আমি নাকি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামাইছিলাম, না হলে নিউক্লিয়ার ধামাকা হইতো।” মোদি মুচকি হাসি দিয়া মনে মনে কইলো—“দাদা, এইডা যে পুরা ফালতু গল্প।” ট্রাম্প যদি গল্প লিখত, সোজা নোবেল পাইতো, সন্দেহ নাই।
অর্থনীতির খবর? ভারতের ভরসা বেশি ঘরোয়া বাজারে। তাই দেশটা পুরা ভইঙা পড়বে না, কিন্তু রুপির অবস্থা এখন টক পেয়ারা। চাপ দিয়া ধরলে টক জল ঝইড়া পড়তেছে। শেয়ারবাজারে বিদেশি টাকা দৌড়াইতেছে, যেমুন বাসে ভাড়া বাড়লে যাত্রী হাওয়া।
সবশেষে আসল কূটনীতি—ভারত-আমেরিকা মিলে চীনরে ঠেকাইবো কইরা প্ল্যান করছিল, আর এখন উল্টা চীন-রাশিয়া-ভারত তিনজনে বসে খাস মিষ্টি চা খাইতেছে। ট্রাম্প দূরে দাঁড়ায়া আঙুল নাড়তেছে, কিন্তু কেউ পাত্তা দিতেছে না।
সব মিলায়া অবস্থা—ভারতের ব্যবসায়ীরা হাপিত্যেশ কইরা বসা, আর ট্রাম্প ভাবতেছে—“৫০ দিলাম, এবার কি ৬০ মারুম নাকি?”
এই লেখাটা "ঢাকাইয়া কবি" বুধবার ১২ই ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দতে লিখিলো।