অনলাইন চ্যাট
আপনি হয়তোবা কম্পিউটারের সামনে বসে আছেন। কিছু করার নেই। হাতে কিছু সময় আছে কি? তবে একটু আড্ডা মেরে সময়টাকে কাটালে কেমন হয়? বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে তবে এক কাপ চা নিয়ে এনে কম্পিউটারে আড্ডা মারলে কেমন হয়?
আজ আপনাদের তেমনি কিছু আড্ডা মারার জায়গার সাথে পরিচয় করিয়ে দেব। কিছুদিন আগ পর্যন্ত ইন্টারনেটে আড্ডা মারার জন্য আইআরসি (ইন্টারনেট রিলে চ্যাট) নামের সফটটি বেশ প্রচলিত ছিল। কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য তা ইনস্টল করে ব্যবহার করতে হলে কম্পিউটার সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। আজ আপনাদের তেমন জটিল নয় সাধারণ ওয়েব পেজের মাধ্যমে তেমন আড্ডা মারার স্থানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব। ইংরেজিতে এই চ্যাটের সাথে আপনারা অনেকেই হয়তোবা পরিচিত হয়ে থাকবেন।
প্রথমেই নাম করব www.fnchat.com এর। এই জায়গাটি মোটামুটি অনেক আগ থেকেই পরিচিত। এত বেশি পরিচিত যে সাধারণত একশত এর উপর বাঙালিদের এখানে পাওয়া যায়। প্রথমে লগইন করেই কিছু লেখার আগে দেখুন সবাই কি নিয়ে আলোচনা করছে। তারপর অবস্থা বুঝে আপনার কথা লিখুন। কিংবা কাউকে খুঁজলে সরাসরি লিখতে পারেন। এদের মধ্যে কাউকে পছন্দ হলে তার সাথে ব্যক্তিগত চ্যাট করতে পারেন। যদি মনে করেন যে ব্যবহারকারী খুব বেশি বলে অসুবিধা তবে চলে যান www.deshichat.com তে। এইখানে বিশ জনের মত কাউকে না কাউকে পাবেন। এছাড়া আছে shakacafe.com, banglacafe.com, bdworld.net।
এরপর আপনাদের বলব সাধারণ চ্যাট ব্যবহার করার নিয়ম কানুনগুলি। কখনও চ্যাটে আপনার ব্যক্তিগত কোন তথ্য দেবেন না। ভুলেও টেলিফোন নম্বর কিংবা আপনার কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড দেবেন না। যদি কখনও কাউকে ভালো লাগে তবে ইয়াহু মেইল বা হটমেইলের মত কোন ফ্রি ইমেইলের একাউন্ট খুলুন এবং তা অনলাইনের জন্য ব্যবহার করুন। সবাই চ্যাট রুমে আসে নেহাত আড্ডা মারার জন্য। তবে চ্যাটে পরিচিত হয়ে প্রেম পর্যন্ত গড়িয়েছে এমন ঘটনা নেহাত কম নয়। চ্যাটে এসে যে সত্যি কথা বলতেই হবে তার কোন মানে নেই। অনেকেই ছেলে হয়ে মেয়েদের নাম দিয়ে চ্যাট চালিয়ে যায়। কিন্তু আরও যদি জানতে চান তবে ভয়েস চ্যাট করুন।
চ্যাটে সংক্ষেপে কথা প্রকাশ করার অনেক ধরনের ব্যবস্থা আছে। হয়তোবা আপনি নতুন ব্যবহার করছেন অপরপক্ষ আপনাকে বলল: এএসএল। আপনি আবার ভেবে বসবেন না যে এটা কোন গালি। প্রায়ই অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন ''ভাই এটার মানে কি? এটা কি কোন নতুন গালি?'' এটা সংক্ষেপে Age, Sex, Location কে প্রকাশ করে। অপরপক্ষ জানতে চান আপনার সাধারণ পরিচয়। যদি আপত্তি থাকে তবে উত্তর দেওয়ার দরকার নেই। এছাড়া অনেকদিন ব্যবহার করলে আপনি নিজেই শিখে যাবেন কিভাবে সংক্ষেপে প্রকাশ করার ভঙ্গি। নিচে তেমনি কিছু মজার ঘটনা:
<মজনু> হ্যালো <বাটপার> <মজনু> কি হল ভাই? হ্যালো বলেছি। ফ্রি আছেন নাকি? <বাটপার> হাই এএসএল প্লিজ? <মজনু> গালি মারেন কেন? <বাটপার> গালি মারলাম কোথায়? (মজনু রুম ত্যাগ করল) <বাটপার> আরে ভাই গেলেন কোথায়?
চ্যাট রুমে সাধারণত কিছু অপারেটর থাকেন। এই সমস্ত অপারেটররা কোন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশকারি যে সবাইকে বিরক্ত করে তাদের সেই রুম থেকে বাইরে করে দিতে পারেন যা সাধারণত কিক নামে পরিচিত। আপনার যেকোন সমস্যা হলে অপারেটরকে আপনার কথা বলুন। সাধারণত অপারেটররা অনেকদিন ধরে চ্যাট ব্যবহার করেন বলে আপনার সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন।
ভয়েস চ্যাট: এছাড়া কয়েকটি জায়গা আছে যেখানে শুধুমাত্র টাইপ করেই নয় সরাসরি কথা বলে আড্ডা মারতে পারবেন। কয়েকদিন আগেও বেশ কয়েকটি জায়গা ছিল যারা ভয়েস চ্যাটের সুবিধা দিত। কিন্তু ভয়েস চ্যাটের ফলে অনেক বেশি ডেটার প্রয়োজন হয় বলে সার্ভারে বেশ চাপ পড়ে। তবে এর মধ্যে সবথেকে ভালো হল ইয়াহুর ভয়েস চ্যাট। ইচ্ছা করলে ইয়াহু মেসেঞ্জার ফ্রির সফটটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এটি যোগাযোগের জন্য খুব ভালো। কয়েকদিন আগ পর্যন্ত ইয়াহু আমেরিকায় ফ্রি টেলিফোন করার সুযোগ দিত কিন্তু ইদানিং তা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে পরিচিত বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করার জন্য এর কোন তুলনা নেই। আপনার বন্ধুর যদি এই সফটটি থাকে তবে সে কম্পিউটারের সামনে আছে কিনা তা খুব সহজেই জানতে পারবেন। থাকলে তার সাথে সাধারণ টেক্সটের চ্যাটের পাশাপাশি কথাও বলতে পারবেন। এছাড়া মাইক্রোসফটের এমএসএন মেসেঞ্জার একই ধরনের সুযোগ দেয়। কিন্তু আপনাকে এর একটা একাউন্ট থাকতে হবে।
তয়োহাসি, জাপান, ৩০ আগষ্ট ২০০১