মশিউরের খেরোখাতা

মিয়ানমার ভূমিকম্প: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মনোযোগী হতে হবে আমাদের

তারিখ: ২৯ মার্চ ২০২৫

২৮ মার্চ ২০২৫, দুপুরে হঠাৎ করেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড অঞ্চল কেঁপে উঠলো এক ভয়ংকর ভূমিকম্পে। মিয়ানমারের মান্দালয়ের কাছে ৭.৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি কয়েক মুহূর্তেই হাজার হাজার মানুষের জীবন ও সম্পদ ধ্বংস করে দিলো। কিন্তু এত বড় একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেন হলো? এবং বাংলাদেশ এর থেকে কী শিক্ষা নিতে পারে?

এই ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি, যা কম্পনের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি ঘটেছে "সাগাইং ফল্ট" নামের একটি ভূতাত্ত্বিক রেখা বরাবর, যেখানে ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট এবং ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষ থেকে উৎপন্ন শক্তি থেকেই ভূমিকম্পের সৃষ্টি।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধ্বংসযজ্ঞের আসল কারণ শুধুই প্রকৃতির রোষ নয়, বরং মানুষের প্রস্তুতির অভাব ও দুর্বল অবকাঠামো। উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশেষ করে ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেও এর প্রভাব পড়েছে। একটি ৩০ তলা ভবন নির্মাণাধীন অবস্থায় ধসে পড়ার ঘটনা প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির অভাবের দিকেই ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশের জন্য এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। আমাদের দেশও ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, বিশেষ করে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অত্যন্ত জরুরি। আমাদের শিক্ষার্থীদের শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তাই আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকারের তালিকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এটাই হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের শ্রেষ্ঠ উপহার।