মশিউরের খেরোখাতা

চাকুরিতে সফল করার উপায়

(আমার ছোট বোন কিছুদিন আগে একটি সফট্ওয়্যার কম্পানিতে যোগ দেয়। তাকে লেখা আমার এই খোলা চিঠিটি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম) রুমানা, তোমার নতুন চাকুরির এর খবর শুনে খুবই খুশি হয়েছি। পড়াশুনা শেষ করার পরে নিজের বিষয়ের উপর কাজ পা্ওয়া, এবং খুবই কম সময়ের মধ্যে চাকুরি পা্ওয়ায় নিজেকে একটু সৌভাগ্যবান মনে করতে পারো। ছাত্রজীবন শেষ করে একটি নতুন জীবনে তুমি পা দিতে যাচ্ছ। অনেক নতুন নতুন সমস্যা ্ও অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবে তুমি যা কখনো ছাত্র জীবনে পা্ওনি। এই চিঠিতে তোমার আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু টিপস তোমাকে দিবো যা হয়তো তোমাকে সাহায্য করবে। একটি তিন মাস ্ও আরেকটি দীর্ঘমেয়াদী প্লান: নতুন চাকুরিতে তোমার দায়িত্ব কি কি? সেখানকার উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা তোমার কাছে কি কাজ চায় তার একটি প্লান করে না্ও। আর এই প্লা্নটি করতে তোমাকে তোমার কাছের বস, যার কাছে তুমি তোমার কাজের রিপোর্ট কর, তার সাথে বস। আর দীর্ঘমেয়াদি প্লানটি তোমার নিজের জন্য। এই চাকুরিতে তুমি তোমার ক্যারিয়ার গড়বে। তোমার কর্মস্থলে তুমি কাজ করবে, সেই কম্পানিটিকে তুমি দিবে সেই সাথে তুমি্ও কিন্তু কম্পানিটির কাছে নিবে – যেটি নিবে তা হল তোমার অভিজ্ঞতা যা তোমার ভবিষ্যতের সঞ্চয়। তুমি তোমার ভবিষ্যত ক্যরিয়ার কোন দিকে নিয়ে যেতে চা্ও, সেই পথে এই চাকুরির অভিজ্ঞতা তোমাকে কিভাবে সহায়তা করবে তার একটি পরিকল্পনা করে না্ও। নতুন পরিবেশে খা্প খাইয়ে নেয়া: নতুন পরিবেশে যত দ্রুত খাপ-খাইয়ে নিতে পারবে ততই তোমার ক্যারিয়ারের জন্য মঙ্গল। সমস্যা হল অনেকে দ্রুত নতুন পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে, আবার অনেকের সময় লাগে। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেবার চেষ্টটি অভ্যাহত রাখা। নতুন কলিগদের সাথে পরিচিত হ্ও, তাদের সাথে প্রোফেশনাল সম্পর্ক গড়ে তুলো। খুব বেশী ব্যাক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা না করাই ভালো। কোন সমস্যায় পড়লে তা নিজের মধ্যে না রেখে কলিকদের সাথে কথা বল। তারা কিভাবে সেই সমস্যা সমাধান করেছে তার সাজেশন ন্ও। কখনই কলিকদের ্ও বসদের চা-কফি বানিয়ে তার জন্য নিয়ে যাবেনা। নিজের মর্যাদাবোধ অটুট রাখবে। কখনই যদি তুমি এটি কর, তবে মনে রাখবে আজীবন তোমাকে সেটিই করতে হবে। কোন কলিগ অন্য কারো ব্যাপারে কটু বা গোপন কথা বললে

তা নিজের মধ্যেই রাখবে আরেকজনকে বলতে যাবেনা। সবার সাথেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা। কারো সাথে খুব গভীর আবার কারো সাথে না কথা বলা – এমনটি না করা উচিত। যে কোন প্রতিষ্ঠানেই কিছু internal politics ও গ্রুপিং থাকে। তবে শুরু থেকেই চেষ্টা করতে হবে এগুলির সাথে বেশী সংযুক্ত না হ্ওয়া। যদি কোন প্রতিষ্ঠানে এটি খুব বেশি পরিমানে থাকে, তবে সেখানে আরো বেশী সাবধানী হতে হবে। কম্পানিটি ্ও তোমার কাজের ব্যাপারে জানার চেষ্টা কর। কম্পানিটি কি ধরনের কাজ করে, তাদের ক্লাইন্টগুলি কারা কারা, কি ধরনের প্রোজেক্ট করছে তা জানার চেষ্টা কর। অফিসের নিয়মগুলি মেনে চল। সহজ প্রচলিত নিয়ম হল, “ Arrive before the boss, leave after the boss ” । বাংলাদেশীদের একটি অভ্যাস হল, অফিসে দেরী করা, মিটিং এর সময় নির্দিষ্ট সময়ে না আসা। যদি কোন কারণে দেরী হয় ফোন করে জানালে ভুল বুঝাবুঝি হয় না। আমি জাপানীজদের দেখেছি এই ব্যাপারে খুব সচেতন। একবার একটি স্টেশনে একজনের সাথে দেখা করার কথা ছিল। একটু পরে টেলিফন করে তিনি জানালেন যে তিনি ৫ মিনিট দেরী করে আসবেন। ঘড়ি দেখে দেখলাম, একদম কাটায় কাটায় ৫ মিনিট পরেই তিনি এলেন। তোমার কর্মজীবন সাফল্যময় হোক এই কামনা করি। তোমার ভাইয়া

তারিখ: ৫ জুলাই ২০১১