গল্প: ধ্রুব এবং প্রথম গ্যালাক্সি
ধ্রুব যখন তার বাবাকে নিয়ে প্রথম গ্যালাক্সিতে পৌঁছুল। তখন সে অবাক না হয়ে পারল না। তাদেরকে সম্ভাষণ জানানোর জন্য পুরো প্রথম গ্যালাক্সির সবাই হাজির। বিশেষ করে অবাক হল, যখন প্রথম গ্যালাক্সির পরিচালক কীট তাদের সম্ভাষণ জানাতে এসেছে। কীটের পিছনে যারা দাঁড়িয়ে আছে, তাদের অনেকেরই চেহারার সাথে তাদের তৃতীয় গ্যালাক্সির লোকজন পরিচিত। সে একটু আধটু জানতো যে তার বাবা বেশ সম্মানিত এক ব্যক্তি, এবং প্রায় বিশেষ অতিথি হিসাবে এই প্রথম গ্যালাক্সিতে আসেন। কিন্তু এবার প্রথম বার বাবার সাথে এসে সত্যিই সে অবাক না হয়ে পারল না। ধ্রুব হাত বুলিয়ে তার ব্যাজটাতে একবার স্পর্শ বুলিয়ে নিল। এই নীল মার্কা অদ্ভুত ব্যাজটি দেখলে তাদের গ্যালাক্সির কেউই বিশ্বাস করতে চাইবে না। ধ্রুবর খারাপ লাগতে লাগলো তার পোশাকের জন্য। সে কাজ করতে করতেই বাবার ফোন পেয়ে হঠাৎই কাজ থেকে চলে এসেছে। তার হাতের ছোটখাট যন্ত্রপাতির ব্যাগ নিয়ে তাকে নিশ্চয় অদ্ভুত দেখাচ্ছে। তার বাবার মত বিশাল মানুষের পাশাপাশি তাকে নিশ্চয় একদম মানাচ্ছে না। ধ্রুব মনে মনে ভাবছিল এইসময় যদি তার মা থাকতো তবে বোধহয় সবথেকে খুশি হত। ধ্রুবের হঠাৎ তার মার জন্য খুব কষ্ট হতে লাগলো। বিজ্ঞান অনেকদূর এগিয়েছে কিন্তু আজো মৃত্যুকে জয় করা সম্ভব হয়নি। মাঝে মাঝে কিছু চমৎকার গবেষণার ফলাফল জানা যায় কিন্তু সেই পর্যন্তই আজ পর্যন্ত তা বাস্তব হল না।
মেইন টার্মিনালে তাদের বিশেষ ডেক পৌঁছামাত্র প্রথম গ্যালাক্সির পরিচালক কীট তাদের দিকে এগিয়ে এল। তার বাবার শরীরটা একটু খারাপ বলে একজন সঙ্গী হিসাবে ধ্রুব এখানে আসার সুযোগ পেয়েছে। নতুবা তার মত তৃতীয় গ্যালাক্সির একজন সাধারণ ইঞ্জিনিয়ারের এখানে আসা সৌভাগ্য কিংবা দুর্ভাগ্য কোনটাই হওয়ার কথা নয়। কেননা প্রথম গ্যালাক্সির কাজ সবথেকে দুর্ধর্ষ ধরনের। এখানে সবার শুধু বিজ্ঞানের উপর দখল থাকই হয় না। সেই সাথে তাদেরকে মিলিটারি ট্রেনিং নিতে হয়। তাই সব দিক দিয়ে চৌকস না হলে এই প্রথম গ্যালাক্সিতে আসা সম্ভব নয়। তবুও ধ্রুব অবাক হয়ে যাচ্ছে তার বাবা এইখানে কি করে। কিছু কিছুটা লোকমুখে শোনা, টিভিতে দেখা। তার বাবা এই সম্পর্কে কোন কথাই বলেন না। মনে হয় এটাই দ্বিতীয় গ্যালাক্সির নিয়ম। তার বাবা তো মিলিটারি ট্রেনিং দূরে থাকুক, মনে হয় কোথাও বোম ফুটলে বাবা সবথেকে বেশি নার্ভাস হয়ে যান। তবে বাবা বেশিরভাগ সময় তাদের সাথে তৃতীয় গ্যালাক্সিতেই সময় বেশি কাটান। বাবা মাঝে মাঝে বলেন যে তার নাকি তৃতীয় গ্যালাক্সিতেই সময় কাটানো ভালো। কিন্তু ধ্রুব প্রথম গ্যালাক্সিতে ঢুকে মনে হল এইখান থেকে তৃতীয় গ্যালাক্সিতে ফিরে যাওয়া বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়।
পরিচালক কীট এসে ধ্রুবের সাথে কথা বলল। কি শীতল কণ্ঠ, আর গলায় বেশ দৃঢ়তার ছাপ। তবে তৃতীয় গ্যালাক্সির সবাই পরিচালক কীটকে পাথর বলে থাকে। কিন্তু ধ্রুবর তা মনে হল না। এইধরনের একজন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন লোক খুব কমই দেখেছে। সবাইকে সাথে নিয়ে কীট মেইন কন্ট্রোল রুমের দিকে এগুতে থাকলো। তার বাবা হুইল চেয়ারে করে বসিয়ে নিয়ে আনা হয়েছে যদিও এই চেয়ারের রোবটটি ইচ্ছামত একে নিয়ে যেতে পারে, বাবার কথা মত যেতে পারে তবুও হুইল চেয়ারটি একজন নার্সের মত এক মহিলা নিয়ে যেতে লাগল। হয়তোবা তার বাবা বিশেষ অতিথি বলে এই ধরনের সম্মার্জনা। ধ্রুব কিছু করার পেল না বলে তার বাবার পিছন পিছন হাটতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর তারা এসে পৌঁছাল একটা কন্ট্রোল রুমে। যদিও এই টার্মিনাল রুমটির কথা শুনেছে, তবে ধ্রুবের আগাগোড়া নখদর্পণে। তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাসে কম্পিউটার সিমুলেশনে এই টার্মিনালের অনেক সমস্যা সমাধান করতে হয়েছে। তার সতীর্থরা বলতো ধ্রুব শুধু শুধু সময় নষ্ট করছে, আমাদের পক্ষে প্রথম গ্যালাক্সিতে যাওয়া কখনই সম্ভব হবে না। নেহাত তৃতীয় গ্যালাক্সির কোন ছোটখাট সমস্যার সমাধান করতে যেতে হবে। যেখানে রোবটরা যেয়ে কোন কাজ করতে পারে না। তাদের সতীর্থদের কথা মিথ্যা হয়নি। কেননা সত্যিই ধ্রুবদের মত ইঞ্জিনিয়ারদের খুব ছোটখাট কাজ করতে হয়। সবাই অবশ্য তাদের টেকনিশিয়ান বলেই ডাকে। কিন্তু ধ্রুব কাজে খুব মজা পায়। ছোটখাট কাজ করতে যেয়ে সেখানকার আনাচে কানাচে সব কিছু সম্পর্কে জেনে আসে। যার ফলে ধ্রুবর সব কিছুই নখদর্পণে। কিন্তু তার এই কাজ আজ পর্যন্ত কোথাও কাজে লাগল না।
কোন ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নয় সত্যিকারের প্রথম গ্যালাক্সির কন্ট্রোল রুমে ঢুকে ধ্রুব অবাক হয়ে গেল। মানব জাতির পুরো সাতটি গ্যালাক্সির সমস্ত ডেটা তাদের সামনে হাজির। তাদের তৃতীয় গ্যালাক্সির কন্ট্রোল রুমের মত ছোট নয়। পরিচালক কীট তার বাবাকে প্যানেলের দিকে তাকিয়ে বিভিন্ন জিনিস বোঝাতে লাগলো। ধ্রুব যেটা বুঝতে পারলো তাতে তার খুব ভয় হতে লাগলো। আটলান্টিক গ্যালাক্সি থেকে ডেনা জাতিরা তাদের গ্যালাক্সির দিকে ছুটে আসছে। এই ডেনা জাতি আজ থেকে ২০০ বছর আগে একবার মানুষদের জগতে এসেছিল। তখন তারা এসেছিল জ্বালানি নিতে, চতুর্থ গ্যালাক্সিতে তাদের এমনি জ্বালানির উপাদান ছিল যা ডেনা জাতির জন্য খুব প্রয়োজনীয় হয়েছিল। কিন্তু তখন মানুষদের সাথে এই ডেনা জাতির খুব ভীষণ দুর্ধর্ষ যুদ্ধ হয়েছিল। পুরো মানুষ জাতি প্রায় ধ্বংসের মুখোমুখো হয়েছিল কিন্তু তৎকালীন অধিপতি কীটের কারণেই তখন তারা যুদ্ধে জয় হয়েছিল। এর পর থেকেই ইতিহাসে কীট অধিপতিকে সবথেকে চৌকস অধিপতি বলা হয়ে থাকে। আর তার পরের থেকে মহাকাশযানের অধিপতিকে নুহ নামেই ডাকা হয়।
কিন্তু এইবার ডেনা জাতি কি উদ্দেশ্যে আসছে সেটা কেউ জানে না। ধ্রুব তাদের আলোচনা তেমন শুনতে পেল না। কেননা তারা এমন কিছু কিছু কথা বলছিল যা ধ্রুব জানে না। এই মহাকাশে কোথায় কোথায় মানুষের বসতি আছে সে সম্পর্কে ধ্রুবর তেমন কৌতূহল নেই। বরং এই কন্ট্রোল প্যানেলের সার্কিটটি কি ধরনের সেটাই ধ্রুবর বেশি কৌতূহলি করছে। যতদূর জানে যে এই কন্ট্রোল প্যানেলে চতুর্থ মাত্রার সার্কিট, সেটাই চতুর্থ মাত্রার কম্পিউটারের জন্য ব্যবহৃত হয়। ধ্রুব এই ব্যাপারে খুবই উৎসাহী, মূলত তার এখানে আসার কারণ। বাবা প্রায়ই বিভিন্ন কারণে এখানে আসে। কিন্তু এইবার হঠাৎ করে বাবার সাথে আসার সুযোগ পাওয়াতে সে সুযোগটা আর মিস করতে চাইল না।
ধ্রুব কিছু করার পেল না বলে কফি শপের দিকে গেল। কিন্তু এইখানকার কফিশপটি সত্যিই অতুলনীয়। তাদের তৃতীয় গ্যালাক্সির মত সিনথেটিক কফি নয়, একদম সত্যিকারের কফির গন্ধ। ধ্রুব অনেকদিন পর এইরকম সত্যিকারের কফির স্বাদ পেল। তবে ধ্রুব তৃতীয় গ্যালাক্সি থেকে প্রথম গ্যালাক্সির অনেক পার্থক্য দেখতে পেল। এখানে সবাই বেশ খুশি মেজাজে কাজ করছে। আর রোবটও কম বলে মনে হল। তাদের ৩য় গ্যালাক্সিতে এইরকম কফি শপে মানুষ দিয়ে পরিচালনা করা অসম্ভব ব্যাপার। প্রচণ্ড অর্থ বিপর্যয়ের কারণে বেশিরভাগ জায়গাতেই রোবট। কিন্তু এইখানে সে যেই দিকেই তাকাচ্ছে সেই দিকেই মানুষই বেশি। আর তাদের পোশাকের বৈচিত্র্যও সুন্দর। ৩য় গ্যালাক্সিতে তাদের কাজ করেই বেশি সময় পার করে দিতে হয়। অন্য কিছু চিন্তা করার কথা নয়। কোথায় যেন গুণগুণ করে গান হচ্ছে কিন্তু ধ্রুব সেই গানের উৎসটি ধরতে পারছে না।
এদিকে সেদিকে তাকাতেই বারের মহিলা বললেন কাউকে কি খুঁজছেন? ধ্রুব বলল না মানে গানটি কি সেটা ধরতে পারছি না। মহিলা বললেন এটা একটা ধ্রুপদী গান। গানটির মজা হল যে একবার শুনলে মনে হয় যে বিষণ আবোল তাবোল সুরের গান। কিন্তু কয়েকবার শুনলে বুঝবেন সুন্দর একটা তাল আছে। ধ্রুব বলল বেশ অদ্ভুত তো।
ধ্রুব করিডোর দিয়ে আসতে আসতে দেখল পুরো করিডোরটি নীল কার্পেট দিয়ে মোড়া। সে মনে মনে ভেবেছিল যে প্রথম গ্যালাক্সির লোকজন মনে হয় আরো ব্যস্ত। কিন্তু আসতে আসতে সবাই তাকে যেভাবে সম্ভাষণ জানাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে তৃতীয় গ্যালাক্সি থেকে এই প্রথম গ্যালাক্সির জীবনযাত্রা বিষণ রকমের ভিন্ন। একটু আগেই কফি শপে লোকজনও বেশ চিল। এবং অনেকেই আড্ডা মারছিল। তাদের তৃতীয় গ্যালাক্সিতে এই ধরনের পরিবেশ অসম্ভব। বরং লোকজন কিভাবে আরো বেশি কাজ করে আরো ক্রেডিট জমা করবে সেদিকেই ব্যস্ত। যত বেশি ক্রেডিট জমা করতে পারবে ততোই লাভ। একটু অংকের ক্রেডিট জমা করলে আরো ভালো কোয়ার্টারে ঢুকবার সুযোগ পাবে।
কন্ট্রোল রুমে আসলে দেখল তাদের আলোচনা প্রায় শেষের দিকে। তাদের কথা শেষ হলে পরিচালক নুহ তার এগিয়ে দিতে এল। নুহ বলল এখানকার কফি খেয়েছেন কি? আমার খুব প্রিয় স্বাদ। ধ্রুব বলল হ্যা চমৎকার স্বাদ।
আসলে চতুর্থ মাত্রার সার্কিট নিয়ে নুহকে জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছা করছিল কিন্তু তারা বিদায় দিতে এসেছিল। যেহেতু এখানে আরো কিছুদিন আছে এবং পরে জিজ্ঞাসা করা যাবে আর জিজ্ঞাসা করা হল না। ধ্রুব তার বাবার সাথে করে তাদের রুমে ফিরে এল। এত বড় রুম যে ধ্রুব অবাক না হয়ে পারল না। তারা প্রথম শ্রেণীর অতিথী বলেই হয়তোবা বিশেষ ব্যবস্থা। বাবাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছিল।
বাবাকে রুমে রেখে সে নিজের রুমে ফিরে এল। একটু পরেই ইন্টারকমে বাবা তাকে ডাকলো। ধ্রুব মনে মনে ভাবছিল নিশ্চয় দাবা খেলতে ডাকছে। বাবার রুমে ঢুকলেই বুঝতে পারলো তার আন্দাজ ঠিক হয়েছে। বাবা টেবিলে দাবা নিয়ে বসেছে। যদিও বাবার সাথে খুব একটা কথা হয় না। কিন্তু সে তার বাবার সাথে দাবা খেলতে খুব ভালোবাসে। যদিও সে তার বাবার সাথে খেলায় প্রতিবার হেরে যায়। কিন্তু তার মনে হয় সে যেন এবার ভালোই খেলেছে। খুব ছোটবেলায় বাবা ইচ্ছা করে হেরে যেত কিন্তু বড় হয়ে দুজনেই বিষণ প্রতিদ্বন্দ্বি ভাব নিয়ে খেলে।
ধ্রুব বলল বাবা এই টার্মিনালে তো ৪র্থ মাত্রার সার্কিট আছে তাই না। বাবা বলল হ্যা আছে। আর তুই নিশ্চয় সেই ৪র্থ মাত্রার সার্কিটটা দেখতে চাস তাই না? ধ্রুব হ্যা সেটা তো ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দেখার লোভ অনেক আগ থেকেই। জান বাবা আমাদের কোর্সে এই ৪র্থ মাত্রার সার্কিট সম্পর্কে কিছুই শেখানো হয় না। বাবা হ্যা ৪র্থ মাত্রার সার্কিট মানুষের এক বিরাট আবিষ্কার। তবে সেটা এতই জটিল ও বিশাল যে সেটা সব জায়গায় থাকলে সমস্যা। তাই শুধু মাত্র প্রথম গ্যালাক্সিতেই তা রাখা আছে। ধ্রুব বললো আসলে সেটা দেখার লোভেই এবার তোমার সাথে এলাম বাবা। বাবা ঠিক আছে কালকে দেখার ব্যবস্থা করে দিব।
তারা দাবা খেলায় মনযোগ দিল এবং বরাবরের মত ধ্রুব আবার হেরে গেল।
একটু মন খারাপ করে ধ্রুব সেজন্য ঘুমাতে গেল।
নিজের রুমে ফিরে এসে ধ্রুব তার নিজস্ব কম্পিউটারটি নিয়ে বসল। তার এই নিজস্ব কম্পিউটারটি তেমন কোন কাজের না। কেননা এর মধ্যে কোন যোগাযোগ মডিউল নেই। তাই মূল তথ্য কেন্দ্র থেকে এটি তথ্য নিয়ে আনতে পারে না। তবে এর ভিতরে অসংখ্য তথ্য ও প্রোগ্রামে ভরা। তাই ধ্রুব এটাকে ব্যক্তিগত পড়াশোনা আর অবসরে বসে ছোটখাট প্রোগ্রাম বানানোর কাজেই ব্যবহার করে থাকে। তবে ছাত্র অবস্থায় প্রোগ্রামের উপর তুখোড় দখল ছিল। সেই সময় হ্যাকার হিসাবে বন্ধুমহলে পরিচিত ছিল। ধ্রুব ডেনা জাতি সম্পর্কে কিছু তথ্য জানল। মানব জাতির বাইরে মহাকাশে কয়েক জায়গায় প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। কিন্তু প্রতিটির মধ্যের দূরত্ব এতটা বেশি যে কেউ অন্যের জগতে এসে খুব একটা প্রবেশ করে না। তবে ডেনা জাতির আগে অনেক জাতির সাথে মানুষের যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু কি কারণে জানি খুব একটা তেমন অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে উঠে নি। তবে ডেনা জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে তারা মানব জগতের ভিতর প্রবেশ করে। বুদ্ধিবৃত্তিতে মানুষের কাছাকাছি বলে সেবার মানুষরা প্রায় হেরে যেতে থেকে হঠাৎ করেই কীটের কারণেই জিতে যায়। কীটের কলাকৌশল সাধারণ মানুষের কাছে অজানা। কিন্তু সবার ধারণা কম্পিউটার প্রযুক্তির কারণে কীট সেবার জয় হয়েছিল। বর্তমান কীট নিশ্চয় অনেক কিছু জানে। এবং বাবাও নিশ্চয় কিছু জানে। তবে ধ্রুব তার কম্পিউটারের মহাকাশকোষে জানতে পারলো যে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ডেনা জাতি বেশ কম্পিউটার প্রযুক্তিতে অগ্রগতি করেছে।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে ধ্রুব পুরানো দিনের সিনেমা দেখতে ইচ্ছা করলো। প্রথম গ্যালক্সিতে নিশ্চয় সেইরকম ব্যবস্থা থাকবে। তাদের ওখানে বসে এইরকম রাজার হালে আর হয়তোবা সিনেমা দেখা হবে না এ ভেবে আজকের সুযোগটা ধ্রুব হারাতে চাইল না। ছোট্ট একটা হলরুম। অনেকটা ব্যক্তিগত রুমের মত। ত্রিমাত্রিক ছবি পুরো রুম জুড়ে থাকার কারণে মনে হচ্ছিল যে স্বপ্নে সে দেখতে পাচ্ছিল। মাঝে মাঝে সে এইরকম খুব স্বাভাবিক জিনিস দেখেও বেশ অবাক হয়।
সিনেমা দেখতে দেখতে কখন যে ধ্রুব ঘুমিয়ে গিয়েছিল।
মাঝরাতে হঠাৎ প্রচণ্ড ধাক্কায় ধ্রুবর ঘুম ভেঙে গেল। মনে হচ্ছিল যেন কোথাও যেন ভূমিকম্প হয়েছে। কিন্তু তারা যে স্টেশনে আছে সেটা তো মহাকাশে, কোন মহাকাশ যানের সাথে ধাক্কা না লাগলে এতটা কাঁপে উঠার কোন কারণ নেই। কিন্তু কোথাও কোন আলো নেই। কোনমতে হাতড়ে হাতড়ে দরজার কাছে এসেও দরজা খোলার কোন উপায় পেল না। পাশের রুমে বাবা আছে বলে বাবার চিন্তায় উৎকণ্ঠিত হয়ে উঠলো। ইন্টারকমটি তুলতেই দেখলো তা বন্ধ হয়ে আছে। অন্ধকারে সে কি করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। দরজা খুলতে না পেরে সে একটু নার্ভাস হয়ে যেতে লাগলো। হঠাৎ তার মাথায় একটু বুদ্ধি এল সাধারণত প্রতিটি দরজায় কিছু ইমার্জেন্সি ভাবে খোলার ব্যবস্থা থাকে। সেটা দিয়েও খুলতে চাইল কিন্তু সেটা দিয়েও খোলা গেল না। এইরকম অদ্ভুত অবস্থা হওয়ার কোন কারণই নেই। সেন্ট্রাল রুম থেকে কেও লক না করে দিলে তা অসম্ভব হবে। এরপর ধ্রুব তার ব্যাগ থেকে হাতড়ে হাতড়ে একটা টর্চ বের করতে পারলো। ভাগ্যভাল সে সাথে করে তার এই ব্যাগটি এনেছিল। এতে ছোট খাট কাজ করার জন্য যথেষ্ট। ধ্রুব দরজার সার্কিট খুলে সার্কিটটাকে নষ্ট করে দিয়ে দরজা খোলার ব্যবস্থা করল। আর এই সমস্ত কাজে তার হাত সিদ্ধহস্ত।
রুম থেকে বাইরে হয়ে বাবার দরজায় নক করে কোন শব্দ পেল না। বাবাকে চিৎকার করে ডেকেও কোন সাড়া পেল না। আর দরজা বাইরে থেকে খোলার কোন ব্যবস্থা নেই। বাইরে থেকে কেউ যেন আক্রমণ করতে না পারে সেজন্যই এই ব্যবস্থা। অনেক চেষ্টা করেও ধ্রুব দরজা খুলতে পারল না। ধ্রুব প্রথমেই কন্ট্রোল রুমের দিকে এগুলে সেখানেই সমস্ত কিছু জানা যাবে। করিডোরটি পুরোটাই অন্ধকার হয়ে আছে। শুধুমাত্র বিশেষ ইমার্জেন্সি কয়েকটি আলোতে হালকা একটা আভার আলোতে পথ চেনা যাচ্ছে। উপায় না দেখে সে কন্ট্রোল রুমের দিকে এগুলো। কন্ট্রোল রুমের সামনে দাঁড়িয়ে সে অবাক হয়ে গেল। পুরো কন্ট্রোলরুমটি বিধ্বস্ত হয়ে আছে। শুধুমাত্র কয়েকটি বিশেষ আলো ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছে না। কিছু একটার সাথে ধাক্কা খাওয়ার কারণে পুরু কাচের পর্দাটি ফেটে গেছে কিন্তু পুরোপুরি ভেঙে না যাওয়ার কারণেই ভিতরের বায়ুর কোন অসুবিধা হয়নি। কোনভাবে তা ভেঙে গেলে হয়তো আরো খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হত। কিন্তু যে দৃশ্য দেখার জন্য ধ্রুব প্রস্তুত ছিল না তা হল কন্ট্রোল রুমের ৫ জন পরিচালক অজ্ঞান হয়ে আছে এবং যার মধ্যে সে কীটকে আলাদাভাবে চিনতে পারলো। কীটকে কয়েকবার ধাক্কা দিয়েও উঠাতে পারল না। মনে হচ্ছে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। খুব সহজেই বুঝতে পারলো যে এই কন্ট্রোল রুমে ডেনা জাতির কেউ প্রবেশ করেছে। কিন্তু তাদের কাউকেই সে দেখতে পেল না।
কি করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারল না। ধ্রুব যদিও যে কোন সমস্যা খুব ঠাণ্ডা মাথাই সামলাতে পারে কিন্তু এবার সত্যিই সে বিচলিত হয়ে গেল। তার সামনে কীটকে দেখে সে আরো বেশি অস্বস্তি বোধ করতে লাগলো। প্রথমেই ধ্রুব আলো জ্বালানোর চেষ্টা করতে থাকলো। অন্ধকারে সে কিছুই ঠিকমত বুঝে উঠতে পারছে না। কিন্তু কোন সুইচ দিয়েও সে আলো জ্বালানোর ব্যবস্থা করতে পারল না। সেই সময় তার মাথায় এক বুদ্ধি এল তারা অনেক সময় কাজ করার সময় বিশেষ এক ধরনের জরুরি আলো দিয়ে কাজ করে। তৃতীয় গ্যালাক্সি হলে সে জানতো কোথায় কিন্তু এই প্রথম গ্যালাক্সির সেইরকম একটা জায়গায় সে খুঁজতে লাগলো। হঠাৎ করে একটা জায়গায় সে জরুরি আলো জ্বালানোর সুইচটা খুঁজে পেল। মনে হচ্ছে যে কাঠামগত দিক দিয়ে প্রথম গ্যালাক্সির সাথে তৃতীয় গ্যালাক্সির বেশ মিল আছে।
হঠাৎ ধ্রুব এক জায়গায় জরুরি বক্স লেখা একটা ব্রিফকেস পেল। সেটা খুলতেই ভিতরে একটা কম্পিউটার সচল হয়ে উঠলো। ধ্রুব বর্তমান কম্পিউটারের অনেক খবরই রাখে কিন্তু এই ধরনের কোন কম্পিউটার সে দেখতে পায় নি।
- আমি পঞ্চম মাত্রার সার্কিটে তৈরি পঞ্চম মাত্রার সুপার কম্পিউটার। এটা মেইন কম্পিউটারের প্যারালাল কম্পিউটার। স্বাগতম। আমি যখন সচল হয়েছি তখন বুঝতেই পারছি যে প্রথম গ্যালাক্সি একটা প্রবল বিপর্যয়ের সম্মুখিন হয়েছে।
ধ্রুব বললো আমার নাম ধ্রুব।
-
শুপ্রভাত মহামান্য ধ্রুব। আমাকে মহামান্য বলে ডাকার দরকার নেই। আমাকে কি করতে হবে তাই বল।
-
জ্বি মহামান্য ধ্রুব। আপনি আমার পোর্টটি মেইন টার্মিনালের সাথে যুক্ত করে দিন।
ধ্রুব কথামত একটা ফাইবার অপটিক্সের তার মেইন টার্মিনালের একটা সুইচের সাথে যুক্ত করে দিল। কিছুক্ষণ কোন শব্দ শুনতে পেল না। সুপার কম্পিউটার তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছো? জ্বি। আমি শুনতে পারছি। সেই সাথে আমি পুরো স্টেশনের দুর্যোগের বিস্তারিত খবরাখবর নিচ্ছি। পাওয়ার সোর্স ঠিকমত কাজ করছে না। পারমাণবিক শক্তি স্টেশনটি চলছে না। এখন বিশেষ চার্জ শক্তিতে চলছে। সেই সাথে একটা দু:সংবাদ আছে। ডেনা জাতির কম্পিউটার এই প্রথম গ্যালাক্সির ভিতর প্রবেশ করেছে এবং তা আগের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নষ্ট করে দিয়ে ডেনা জাতির কম্পিউটার এই গ্যালাক্সি নিয়ন্ত্রণ করছে।
ধ্রুব ঠিক বুঝতে পারছিল না যে সে কি করবে। যদি কোন ভাবে ডেনা জাতির কম্পিউটার এখানে প্রবেশ করে তবে নিশ্চয় কোন না কোন মাধ্যমে তা ডেনা জাতির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে। ধ্রুব আশেপাশের কন্ট্রোল প্যানেল গুলির মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু খুঁজতে লাগলো। ধ্রুব একটা সুইচে দেখলো যে একটা পোর্টের সাথে অদ্ভুত ধরনের কি জানি লাগান আছে। প্রথমেই সে সেটা খুলে নিল। কিন্তু পঞ্চম মাত্রার কম্পিউটার কি কিছুই বলছে না। প্রথমেই সে ঠিক করলো যে পারমাণবিক স্টেশনের দিকে যাবে। একটা যোগাযোগ মডিউল সে নিয়ে পারমাণবিক স্টেশনের দিকে এগুলো।
সে যদিও পারমাণবিক স্টেশন সম্পর্কে তেমন কিছুই জানে না কিন্তু পারমাণবিক স্টেশনে এসে সে কোন অস্বাভাবিক কিছুই দেখতে পেল না। সেটাই তাকে বেশি অস্বস্তি দিতে লাগলো। কেননা কোথাও কোন ক্ষতির চিহ্ন নেই। কিন্তু মেইন কম্পিউটার তাকে কিছুই বলতে পারল না। যদিও মেইন কম্পিউটার তার পুরো স্টেশনের কোথায় কি ঘটছে তার সম্পর্কে নিখুঁত সব তথ্য রাখতে বিভিন্ন সেন্সর সহ ক্যামেরার মাধ্যমে কিন্তু মেইন কম্পিউটার এইখানের কোন খুঁত ধরতে পারছে না। কি হতে পারে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। প্রধান বিদ্যুৎ না থাকায় শুধুমাত্র বিশেষ কিছু ইমার্জেন্সি বাতি ছাড়া আর কিছুই চলছে না। ধ্রুবর তাতে খুব অস্বস্তি লাগছে।
কন্ট্রোল রুমে ফিরে আসার সময় সে কয়েক জায়গায় কিছু অচেতন মানুষ দেখতে পেল। ডেনা জাতির সৈন্যরা যে পুরো গ্যালাক্সিতে পরিকল্পনা মাফিক আক্রমণ করেছে সে ব্যাপারে ধ্রুব নিশ্চিত।
ধ্রুব কন্ট্রোল রুমে ফিরে এল।
মেইন কম্পিউটারটি বলল এইভাবে চার্জে চলতে থাকলে আর মাত্র ৪ ঘন্টা ৩০ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আমি চলতে পারব। ধ্রুব বললো এই স্টেশনের অন্যান্য মানুষেরা সবাই কোথাই গেল? মেইন কম্পিউটার বলল আমি জানি না। পুরো সিস্টেমটি ডেনা জাতির সিস্টেম দখল করে রেখেছে। আমি সেখানে প্রবেশ করতে পারছি না। এছাড়া ডেনা জাতির কম্পিউটারও আমাকে গ্রাস করতে চলেছে। ধ্রুব খুব নার্ভাস হয়ে গেল।
ধ্রুব একজন সাধারণ টেকনিশিয়ান। সে এক বিশাল সমস্যায় পড়ল। সে শুধুমাত্র ছোটখাট কিছু প্রোগ্রাম জানে কিন্তু এটা তো এক বিশাল ব্যাপার। এত বড় সিস্টেমের প্রোগ্রামের ব্যাপারে তার কোন ধারণাই নেই। আর তার হাতে সময়ও খুব কম।
- মহামান্য ধ্রুব। আমি খুব শিঘ্রই ডেনার সিস্টেম দিয়ে গ্রাস হয়ে যাব। কোন একটা মাধ্যমে ডেনা জাতির কম্পিউটার কোন এক মাধ্যমে এই স্টেশনে ঢুকে গেছে এবং সে এই সিস্টেমকে নিজের দখলে নিয়ে নিচ্ছে। প্রথমেই সে আগের মেইন স্টেশনের মেইন ফ্রেমকে ধ্বংস করে বিদ্যুৎ শক্তিকে দখল করেছে। এবং সেই কম্পিউটার আপনার সাথে আমার কথোপকথনও হয়তোবা ক্র্যাক করে ফেলছে। আমাদের খুব সাবধানে কাজ করতে হবে।
তার কিছুক্ষণ পরেই মেইন কম্পিউটারও নিস্তব্ধ হয়ে গেল। যদিও কম্পিউটার কোন সঙ্গী নয় তবুও ধ্রুব আগের থেকে আরো বেশি নিঃসঙ্গ বোধ করতে লাগলো। সামনের প্যানেলের দিকে তাকিয়ে বিশাল আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলো। মনে মনে প্রভুর কাছে প্রার্থনা করতে লাগলো। পুরো আকাশটা কালো পর্দার মত ঘিরে রেখেছে। মাঝে মাঝে তারা গুলির দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো দূরে কোন একটা তারায় মানব জাতিরা আছে। আশেপাশে কোন স্যাটেল দেখতে পেল না। তাদের এই অবস্থা কি অন্যরা জানে। জানলে নিশ্চয় তারা সাহায্যের জন্য আসবে বৈ কি। কিন্তু প্রথমেই ধ্রুবকে চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু কি করা যায় তা ধ্রুব বুঝে উঠতে পারছে না। ছোট খাট কোন টেকনিক্যাল সমস্যা হলে কোন কথা ছিল না। কিন্তু এটাতো বিশাল ব্যাপার। এই সম্পর্কে তার কোন ধারণা নেই। ধ্রুবর খুব বাবার কথা মনে হতে লাগলো। এই সময় তার বাবা থাকলে নিশ্চয় তাকে অনেক সাহায্য করতে পারতো। মানুষ মনে হয় খুব নিঃসঙ্গ এক প্রাণী। আশেপাশে কেউ না থাকলে যে কিরকম একা বোধ হয় তা আজ প্রথম ধ্রুব হাড়ে হাড়ে টের পেল। সেজন্য মহাকাশযানে কখনও কোন একা মানুষকে পাঠানো হয় না। তার সাথে সবসময় সঙ্গী থাকে। এবং পুরো যাত্রায় তার সঙ্গীর সাথে তার বোঝাপড়াকেই সবথেকে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে।
ধ্রুব কন্ট্রোল রুমে রাখা ক্যামেরা গুলি নষ্ট করে দিল এবং এই কাজে তার মত টেকনিশিয়ানদের জন্য তেমন কোন ব্যাপার নয়। একটা সিস্টেম তৈরী করতে অনেক সময় লাগে কিন্তু তাকে নষ্ট করতে খুব একটা বেশি কিছু করার দরকার নেই। ডেনা জাতির কম্পিউটার যেহেতু এই সিস্টেমে ঢুকে গেছে তাই হয়তোবা তার গতিবিধি তারা পর্যবেক্ষণ করতে পারে। যেখানে মেইন কম্পিউটার কাজ করার সময় তাকে মহাকাশযানের কতগুলি কঠিন নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয় যেখানে গোপনীয়তা একটা বিরাট ব্যাপার এবং মেইন কম্পিউটার কোন ভাবেই মহাকাশযাত্রীদের ব্যক্তিগত ব্যাপারে কোন তথ্য পেতে পারে না। কিন্তু ডেনা জাতির নিশ্চয় সেই নিয়ম মেনে চলবে না। তাই ধ্রুব খুব সাবধান হয়ে গেল।
এইবার ধ্রুব তার রুমে ফিরে গেল এবং সে তার ব্যক্তিগত কম্পিউটারটি বের করলো। ভাগ্যভাল যে সে এই কম্পিউটারটি সাথে করে নিয়ে এসেছিল। ভেবেছিল বাবা ব্যস্ত থাকলে অবসরে বসে বসে এটা দিয়ে সে দাবা খেলবে। কিন্তু এটা যে তার এইভাবে সাহায্য করবে তা সে ভাবতে পারেনি।
মেইন কম্পিউটারে ডেনা জাতির কম্পিউটার ভাইরাসের মত ঢুকে পড়লেও তার কম্পিউটারে ঢুকে নি। সুতরাং তাকে এটা দিয়েই কিছু একটা করতে হবে।
এর পর সে তার কম্পিউটারে প্রোগ্রাম বানাতে শুরু করলো। সে একটা ফাঁদ পাততে শুরু করলো সে ঠিক করলো সে তার কম্পিউটার দিয়ে ডেনা কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করবে। সে অনেকগুলি পোর্ট দিয়ে যোগাযোগ করবে এবং বিভিন্ন ধরনের সিগনাল পাঠাতে শুরু করবে। ডেনা কম্পিউটার যখনই তার কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করবে তখনই সে তার বানান প্রোগ্রাম দিয়ে ডেনা কম্পিউটারকে ধোকা বানাতে থাকবে। যখন পুরো ডেনা কম্পিউটারের ক্ষমতা তার কম্পিউটারে ঢুকে পড়বে তখন সে তার কম্পিউটারটিকে ভেঙে ফেলে নষ্ট করে দেবে। কিন্তু যদি তা না হয় যদি পুরো সিস্টেমটি তার কম্পিউটারে না প্রবেশ করে তাহলে কি হবে। ধ্রুব কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না। ডুবন্ত মানুষ যেমন ডুবতে থাকলে আশেপাশের খড় কুটো ধরে বাঁচার সাহস করে ধ্রুবও তেমনি এই বুদ্ধিটাই প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিল। তার পক্ষে এর থেকে বেশি কিছু করার কথা চিন্তা করতে পারল না। সে জেনেছিল যে ডেনা জাতির কম্পিউটার প্রযুক্তিতে অনেকদূর এগিয়েছে কিন্তু যখন তা ৪র্থ মাত্রার কম্পিউটার এমনকি এই বিশেষ ভাবে রাখা পঞ্চম মাত্রার কম্পিউটারকেও গ্রাস করে ফেলেছে তখন তার পক্ষে হেরে যাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু ধ্রুব হেরে যেতে রাজি না। সে সুযোগের সদ্বব্যবহার করবে।
সে অনেক আগে ক্লাসে অবসরে এমনি প্রোগ্রাম বানিয়ে অনেক কম্পিউটারকে নষ্ট করে ফেলেছিল। সুতরাং অনেক আগের সেই বুদ্ধি এখানেও প্রয়োগ করতে লাগলো। এতদিনের তার সেই দুষ্টু বুদ্ধি যে কাজে লাগবে তা সে এখানে আসার আগে চিন্তাও করে দেখেনি।
সে খুব মনযোগ দিয়ে প্রোগ্রাম বানাতে লাগলো। কাজ করার সময় ধ্রুব বেশ তন্ময় হয়ে কাজ করছিল।
তার হাতে আর মাত্র তিন ঘন্টা আছে এর মধ্যেই তাকে কাজ করতে হবে। কেননা চার্জ শক্তি শেষ হয়ে গেলে প্যারালাল প্রসেসরকে আর কাজে লাগানো যাবে না।
দীর্ঘক্ষণ কাজ করে তার চোখ ব্যাথা হয়ে যাচ্ছিল। যখন পুরো প্রোগ্রামকে সে সাজিয়ে দাঁড় করাল তখন সে দেখল তার হাতে মাত্র আধ ঘন্টা বাকি আছে।
এর পর সে তার কম্পিউটারের সাথে মেইন স্টেশনের ফাইবার অপটিক্সের সাথে যুক্ত করে দিল। একটু পরে সে তার কম্পিউটার থেকে বিভিন্ন ধরনের সিগনাল পাঠাতে লাগলো। কিছুক্ষণ পরে দেখলো তার কম্পিউটারে ডেনা জাতির কম্পিউটার প্রবেশ করে হ্যাকিং করছে। ধ্রুব খুব উত্তেজনা বোধ করলো কেননা শিকার ফাঁদে ধরা দিয়েছে।
এইবার ধ্রুব সবথেকে জটিল কাজ শুরু করলো। সে বিভিন্ন ধরনের জটিল গাণিতিক সমস্যা ডেনা জাতির কম্পিউটারের পাঠাতে লাগলো। এবং সে দেখলো যে ডেনা জাতির কম্পিউটার সেই সমস্যা সমাধান করতে ব্যস্ত হতে লাগলো। এইবার সে পঞ্চম মাত্রার সার্কিটের অঙ্ক দিল এবং দেখলো যে ডেনা কম্পিউটার কোন উত্তর দিচ্ছে না।
প্রথমে ধ্রুব বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলো যে তার কোন ভুল হয়নি। পুরো সিস্টেমটি তার সমস্যা সমাধান করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এবং ডেনা জাতির পুরো সিস্টেমটি তার কম্পিউটারের পিছনে ব্যবহৃত হচ্ছে। সে অবাক হয়ে দেখলো যে পুরো ডেনা জাতির কম্পিউটার সিস্টেমটি তার এবং দেরি না করে পাশের বড় হাতুড়ি দিয়ে তার প্রিয় কম্পিউটারটিকে টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেলল।
অনেক্ষণ ধরে ভেঙে যখন সে ক্লান্ত হয়ে বসেছে।
কোথাও কোন শব্দ নেই। আবার নিঃশব্দতা কন্ট্রোল রুম গ্রাস করল। ধ্রুবের কাজে কতটুকু সফল হল নাকি ব্যর্থ হল তা বুঝতে পারল না।
এমনি সময় মেইন ফ্রেমটি কথা বলে উঠলো।
- মহামান্য ধ্রুব। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি ডেনার ভাইরাসটিকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছেন। এবং সেই সাথে পুরো মানব জগতকে রক্ষা করতে পেরেছেন। আমি পঞ্চম মাত্রার সিস্টেম এখন মহাকাশযান পরিচালনা করছি। ডেনা জাতির সিস্টেম আমাকে পুরোপুরি অকেজো করতে পারেনি।
আনন্দে ধ্রুব চিৎকার করে উঠলো।
মেইন কম্পিউটার দায়িত্ব নিয়ে নিলে পারমাণবিক বিদ্যুৎটি চলা শুরু করলো এবং সেই সাথে পুরো স্টেশন আবার সচল হয়ে গেল। স্টেশন থেকে সব দরজার লক গুলি খুলে নিলে সবাই দৌড়ে মেইন টার্মিনালের দিকে ছুটে আসলো। তাদেরকে ধ্রুব পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করতে লাগলো। ধ্রুব দেখলো সেই সারিতে তার বাবাও আছে। ধ্রুব দৌড়ে তার বাবাকে জড়িয়ে ধরল। হাসপাতালের টিম অচেতন সবাইকে নিয়ে গেল।
কন্ট্রোল রুমের টিমরা কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে পড়ে গেল। তার পুরো সিস্টেমকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে এল।
কয়েকদিন পর প্রথম গ্যালাক্সি থেকে ধ্রুবকে সংবর্ধনা দিয়ে আজীবন বিশেষ অতিথির সুবিধা দিল। ধ্রুব ইচ্ছা করলে যে কোন সময় প্রথম গ্যালাক্সিতে আসতে পারে। ধ্রুব ব্যাজটিতে হাত বুলিয়ে আবার স্পর্শ নিল। তার সতীর্থ নিশ্চয় এই ব্যাজ দেখে অবাক হয়ে যাবে।
ধ্রুব যখন তার বাবার পিছন পিছন হাটতে লাগলো তখন কীট তার ঘাড় ধরে বললো তোমার প্রিয় কম্পিউটারটি তুমি হারিয়েছ কিন্তু আমাদের সবার পক্ষ থেকে তোমাকে পঞ্চম মাত্রার কম্পিউটারটি তোমাকে দেওয়া হল। ধ্রুব জিজ্ঞাসা করল এটায় তো কোন দাবা গেম আছে কি? কীট বলল হ্যা আছে তবে পঞ্চম মাত্রার বলে হয়তো তুমি হেরে যাবে। ধ্রুব বলল এর পরের বার আসলে আবার থিয়েটার রুমে রাত কাটাতে হবে। সবাই ধ্রুবের কথায় হেসে উঠলো।
তার বাবা স্যাটেলে উঠার সময় বলল বাপকা বেটা। স্যাটেলে বসে যখন তাদের স্যাটেলটি চালু হয়ে গেল তখন বাবা বলল আচ্ছা ধ্রুব তুমি কি সমস্যা দিয়ে ডেনা জাতির সিস্টেমকে অকেজো করলে? ধ্রুব বলল আমি অসংখ্য পাই এর মান বের করতে বলেছিলাম। বাবা খুব অট্টহাসিতে হেসে উঠলো মানব জাতি আজ পর্যন্ত পাই এর রহস্য সমাধান করতে পারেনি। বাবার হাসিতে ধ্রুবর মনটা খুব ভালো হয়ে গেল।
তারিখ: ২৫ আগষ্ট ২০০৩