প্রবাসে শেকড় গাড়া

তারিখ নেই · 3 মিনিটের আনুমানিক পাঠ

সিঙ্গাপুর সহ সারা বিশ্বে আমার মতন অনেক প্রবাসি বাংলাদেশিরা ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্ব জুড়ে। সেই দেশেই শিকড় গেড়ে ছেলে মেয়েদের বড় করছি, সেই দেশগুলিতেই আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে মিশে যাচ্ছি। দ্বিতীয় প্রজন্মকে নতুন একটি পরিবেশে লালন পালন করতে যেয়ে আমার মতনই অভিভাবকরা মারাত্মক সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হোন। সেই চ্যালেঞ্জগুলিকে নিয়েই এই সিরিজে লেখার ইচ্ছে আছে।

(১)

গতকালকে কথা হল সিঙ্গাপুরের এক ছোট ভাইয়ের সাথে। গোপনীয়তার কারণে তার নাম এইখানে উল্লেখ করছি না। সে সিঙ্গাপুরেই বসবাস করছে প্রায় ১০ বছরের মতন। আমার সাথে পরিচয় প্রায় শুরু থেকেই। আমি জানতাম তার একটি ছেলে আছে। টুকটাক বিভিন্ন বিষয়ে গল্প করতে যেয়ে কিভাবে বাচ্চাদের বড় করছে সেই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করতেই সে একটু চুপ করে গেল। আমি ভাবলাম নেটওয়ার্কের সমস্যা। কিন্তু পরে বুঝলাম, তার কন্ঠস্বর ভারি হয়ে গেছে। আমি জানতাম না তার ছেলে অটিজম রোগাক্রান্ত। কিছুক্ষন পরে সে বিস্তারিত বলল। তার সন্তানকে সে এইখানে একটি স্পেশিলাইজড বিশেষ ধরনের স্কুলে পাঠাচ্ছে। মূলত তারা নিজেরা কিভাবে নিজেদের ম্যানেজ করবে সেই  ব্যাপারগুলিতে বিশেষ ভাবে তাদের শেখানো হয়।

বাবা হিসাবে এই কষ্টটা যে কত তা বুঝতে পারি। নিজের সন্তান যখন কষ্টে থাকে, আর দশটা স্বাভাবিক বাচ্চাদের মতন হয়না। তখন সত্যিই কষ্টে বুকটা ভেঙ্গে পড়ে। বাহিরের আরোপিত সমস্যা আমরা সমাধান করতে পারলেও, জন্মগত এই সব সমস্যা আমরা সমাধান করতে পারিনা।

এর পরে সে যে কথাগুলি আমাকে বলল, তা সত্যিই আমার মনটা ছুয়ে গেল।

“ বুঝলেন ভাইয়া। আমরা প্রথম প্রথম সত্যিই খুব মন খারাপ করতাম। ভাবতাম সৃষ্টিকর্তা আমাদের এমন একটি সন্তান কেন দিল? কোন ভাবেই মেনে নিতে পারতাম না। কিন্তু পরে আমি আমার গিন্নীকে বললাম। দেখো পৃথিবীতে অবশ্যই কিছু সন্তান পারফেক্ট ভাবে জন্ম নিবে না। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আর কারো কাছে না পাঠিয়ে কেন আমাদের কাছে পাঠালেন? নিশ্চয় আল্লাহ মনে করেছে যে, এই সন্তানটি আমাদের কাছেই ভালো থাকবো। আমরা তার পরিচর্যা ঠিকমতন করতে পারবো। আল্লাহ নিশ্চয় আমাদের জেনেই ওকে দিয়েছেন। এটা আল্লাহর কাছ থেকে আমাদের কাছে একটি উপহার বা নেয়ামতের মতন। সেটির ভালোমত পরিচর্যা করে আল্লাহর কাছে উপযুক্ত বান্দা হবার সুযোগ আমাদের নিতে হবে।”

আল্লাহ আমাকে এই পরীক্ষা নেয়নি। কিন্তু তার দৃষ্টিভঙ্গি জেনে তার প্রতি শ্রদ্ধায় মাথানত হল।

আল্লাহর কাছে দোয়া করি এমন বাবা-মা কে সামনের দিনগুলি যেন সহজ করে দেন।

(চলবে)