আপনার টিম কিংবা প্রতিষ্ঠানকে সঠিক ভাবে নেতৃত্ব দেবার জন্য অহংকারকে ঝেড়ে ফেলুন
আপনি কি কখনও এমন বস কিংবা ম্যানেজারের অধীনে কাজ করেছেন যিনি মনে করেন যে তিনিই সর্বদা সঠিক? একজন নেতা যিনি সমালোচনা নিতে পারেন না এবং দলের সাফল্যের চেয়ে নিজের অহং নিয়ে বেশি চিন্তিত বলে মনে হচ্ছে? আমি একবার এমনই একজন ম্যানেজারের জন্য কাজ করেছিলাম যার সাথে এই বর্ণনাটি পুরোপুরি মিলে যায়। মনে করি তার নাম “আতাউর সাহেব”। আতাউর সাহেব খুব নামকরা একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা করে ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট হয়েছিলেন এবং তার বাবা খুব নামকরা আমলা ছিল। এটি নিয়ে আতাউর সাহেব খুব অহংকার করতেন এবং কথায় কথায় যে কোন কিছুর রেফারেন্সেই তিনি সেই অতীতের কথাগুলি টেনে নিয়ে আনতেন। তিনি মনে করতেন তার পুরো টিম সফলভাবে কাজ করতে পারছে কেননা তিনিই এটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, টিমের কোন সদস্যদের কোন ভূমিকা নেই। মাঝেমধ্যে তার টিমের কোন সদস্য ভালো কাজ করে প্রশংসিত হলেও তিনি মনে করতেন তিনি তাকে গাইড করছেন বলেই সেই কাজটি অপরজন করতে পেরেছে। আতাউর তার টিমের সাফল্যের জন্য সব সময় নিজের ক্রেডিট নিতেন, কিন্তু যখন কোন কিছুর ভুল হতো, তখন উলটো অন্যদের দোষারোপ করতো। তিনি খুব কমই তার দলের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া বা ফিডব্যাক বা মতামত শুনতেন এবং তার কাছ থেকে কিংবা তার পছন্দের লোকজনের কাছ থেকে আসেনি এমন কোনো আইডিয়া বা মতামতকে তিনি বাতিল করে দিতেন। বলা বাহুল্য আমাদের টিমের আউটপুট প্রথমে ভালো থাকলেও ধীরে ধীরে তা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। একজন ম্যানেজার কিংবা নেতার “অহংকার” যে কত শত্রু হতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ছিল।
আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের ছোট টিম, ডিপার্টমেন্ট কিংবা পুরো প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করার দায়িত্ব যদি থাকে তবে আজকের এই লেখাটি আপনার জন্য। ম্যানেজার কিংবা লিডারের জন্য সব থেকে বড় শত্রু হল তার নিজের অহংকার। একজন নেতা হিসেবে, নিজের অহংকে চিনতে পারা এবং তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের নিজস্ব অহংকারের কারণে আমরা দুর্বল কিংবা ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এবং শেষ পর্যন্ত সেই টিম কিংবা প্রতিষ্ঠানকে ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যাই। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ প্রবন্ধে, রায়ান হলিডে আলোচনা করেছেন কীভাবে অহংকার ভাল নেতৃত্বের শত্রু হতে পারে এবং কীভাবে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। কিছু কিছু টিপস পেয়েছি আড্ডাতে । (প্রতি শনিবার সিঙ্গাপুরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে এই “মশিউরের সাথে নেটওয়ার্কিং” নামে একটা আড্ডা এর আয়োজন করি যেখানে বিভিন্ন পেশাজীবীদের সাথে নলেজ শেয়ার করার আয়োজন করি। অন্যকোনো দেশে যাবার সময় অনেকেই আজকাল সিঙ্গাপুরকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করেন, তখন সেই সব ভ্রমণকারীদের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়।) সেই আড্ডাতে পাওয়া টিপসগুলি - কীভাবে এই অহংকারকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তা নিয়ে এই শুক্রবারের স্কিল ডেভেলপমেন্ট সিরিজের লেখার আয়োজন।
-
অহংকার থাকা খারাপ কিছু নয়, বিভিন্ন সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমরা অনেক সময়ই নিজেদের অজান্তে এই খারাপ গুণটি নিজের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলি। কিন্তু প্রথম পদক্ষেপ হল, আপনার যে নিজস্ব অহংকার আছে, তা নিজেই নিজের কাছে স্বীকার করে- নিজের সেই অহংকারের পয়েন্টগুলিজানুন। অর্থাৎ নিজেকে জানুন। আপনি কি নিয়ে অহংকার করেন যা অন্যের কাছে অজান্তে প্রকাশ করে ফেলেন।
-
আপনার ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য ফোকাস করুন। এই সংক্রান্ত বই এবং কোর্স করার মাধ্যমে আপনার নিজের এই দুর্বলতাকে চিহ্নিত করুন এবং তাকে কাটিয়ে উঠার জন্য কাজ করুন।
-
অহং ভাল নেতৃত্বের শত্রু, কারণ এটি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, নম্রতার অভাব এবং দুর্বল সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণ হতে পারে।
-
আপনি যখন কাজ করছেন, মানুষের সাথে মিশছেন, সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তখন অহংকার কখন আপনার জন্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তা চিনতে হবে এবং এটি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আপনাকেই কাজ করতে হবে। কখন এটি আপনার মধ্যে প্রকাশ পাচ্ছে তা খেয়াল রাখুন।
-
নিজের অহংকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আপনার এই নিজস্ব এই দুর্বলতাকে জানা উচিত। অন্যের সাথে কথা বলার সময় নম্রতার অনুশীলন করুন, সবাইকে একই চোখে দেখার চেষ্টা করুন এবং অন্যের কথাকে গুরুত্ব দিয়ে শুনুন।
-
আপনাকে চারপাশে এমন লোকজনদের দিয়ে ঘিরে রাখুন যারা আপনাকে সততার সাথে প্রতিক্রিয়া দেবে এবং আপনাকে জবাবদিহি করবে। নিজের চারপাশে তেলবাজ লোকজন রাখবেন না। তারাই আপনার অহংকার আরো বাড়িয়ে দিয়ে আরো বেশি ক্ষতি করবে। বরং গঠনমূলক সমালোচনা করে আপনাকে সততার সাথে মূল্যায়ন করবে এমন লোকজনকে পাশে রাখুন এবং তাদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নিন।
মনে রাখবেন অহংকার আমাদের চরিত্রের সব থেকে দুর্বল অংশ এবং আমাদের প্রধান শত্রু যা বাস করে আমাদের মনের মধ্যেই। নিজেকেই কাজ করতে হবে এই দূর্বলতাকে কাটিয়ে উঠতে। ম্যানেজার কিংবা নেতাদের এই অংহকার মু্ক্ত থাকা খুবই প্রয়োজন। স্কিল ডেভেলপমেন্ট সিরিজে আজকে আলোচনা করলাম “অহংকার” নিয়ে। আপনার অভিজ্ঞতা কিংবা টিপস জানা থাকলে কমেন্টে লিখুন।
হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ (https://hbr.org/2018/11/ego-is-the-enemy-of-good-leadership)