গবেষণার নেশা

তারিখ নেই · 2 মিনিটের আনুমানিক পাঠ

ঘটনাটি জাপানে ছাত্রাবস্থায়। ২০০০-২০০২ এর দিকের কথা। তখন গ্রীষ্মের ছুটিতে পার্টটাইম করার ব্যবস্থা ছিলো বিদেশী ছাত্রদের জন্য। আমি একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এর সহকর্মী হিসাবে তার সাথেই সারাদিন কাজ করতাম। মূলত ঠিকমতন কাজ করছেনা সেই এয়ারকুলারগুলি ঠিক করে বেড়াতাম আমরা দুজনে। আমার কাজ ছিল সহকারী হিসাবে। যদিও আমি যার সাদরেগ হিসাবে কাজ করতাম তিনি যথেষ্ট এক্সপার্ট। জাপানের নিয়ম অনুয়ায়ী সেফটি এর নিয়ম বিধান মানার জন্যই আমাকে তিনি সাথে নিতে বাধ্য হতেন। আমি তার সাথে ঘুরে ঘুরে অনেক বেড়িয়েছি। পুরো দুই মাস ধরে তয়োহাসি (জাপানের নাগোয়া এর পাশে একটি শহর) এর আনাচে কানাচে তে ঘুরে বেরিয়েছি।

সেই সময় আমার পকেটি থাকতো একটি নোট খাতা। নোট করে নিয়ে যেতাম বিভিন্ন কবিতা। আমি টার্গেট করেছিলাম বাংলাদেশের ১০০ টি বিখ্যাত কবিতা মুখস্ত করবো। আমার প্রতিযোগীতা হোত সব সময় আমার সাথে।

সেই টার্গেট পুরন করেছিলাম কিনা জানি না, মোটামুটি প্রায়ই কবিতাগুলি আমার ঠটোস্থ হয়ে গিয়েছিল। আর সেই সময় কবিতা লেখার (বদনেশা) ঢুকে গেল। আমার সহপাঠিরা যখন মদ খেয়ে মাতাল হচ্ছে, আমি তখন কবিতা লেখার নেশায় মাতাল হচ্ছি। সে এক অদ্ভুত নেশা। আমার গবেষনার প্রফেসর একদিন ডেকে বললেন, মশিউর তোমার পড়াশুনার অবস্থা তো খুবই খারাপ। একেবারেই ডাব্বা মেরেছো। আমি বললাম, চিন্তা করবেন না। আগামীতে ছক্কা মেরে দিব। আমি জানি, জাতে মাতাল তালে ঠিক।

পরের বছরই ছক্কা মেরে দিলাম। সেই স্যার পরে আমাকে পিএইচডি এর জন্য রেকমেন্ড করেই দিলেন। চাকুরিতে যোগ না দিয়ে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে গেলাম। কবিতা থেকে চলে গেলাম গবেষনার নেশায়। সে নেশা কাটতে সময় লাগলো দীর্ঘ ১৪ টি বছর। কিছু কিছু নেশা মারাত্মক শক্ত…।

স্মৃতিচারণ: ৪ জুন ২০২১