তোমাকে পেয়েছি তাই
তোমাকে পেয়েছি তাই,
কবিতা লেখা ছেড়ে দিয়েছি।
কলম, কালি, কাগজ ছেড়ে -
তেল, নুন আর ঘামে
সংসারী হয়েছি।
ভোরে কমলালেবুর মতন আলো ফুটতেই
বাচ্চাদের স্কুলের বাসে তুলে দিচ্ছি।
বাজারের ব্যাগে মাছের বাজারে কাঁদা মাখছি।
কর্মব্যস্ত ক্লাইন্টের মিটিং এর মাঝে-
এক টুকরো এসএমএস পাঠাচ্ছি -
“কেমন আছো?”
তোমাকে পেয়েছি তাই,
কবিতা লেখা ছেড়ে দিয়েছি।
ছুটির দিনে লম্বা বাজারের ফর্দ লিখছি।
রাতের খাবারের পরে-
ছেলেরা যখন নিজ ঘরে পড়ছে।
তোমার মাথার চুলে বিনুন কাটছি।
পৃথিবীর তাবৎ সংসারী মানুষের মতন
ভুড়ি নিয়ে বিছানায় কাত হয়ে - নাক ডাকছি।
তোমাকে পেয়েছি তাই,
কবিতা লেখা ছেড়ে দিয়েছি।
কবিতাদের পাঠিয়েছি নির্বাসনে।
শুভঙ্করেরা থাকুক দাড়িয়ে
ঐ চৌরাস্তের পাশে অনন্তকাল।
বনলতাকে বিদায় দিয়ে-
অন্ধকারে শান্তি খুঁজুক জীবনানন্দরা।
তোমাকে পেয়েছি তাই,
কবিতা লেখা ছেড়ে দিয়েছি।
রাতে শহর আর পার্কে দুজনে হাটছি।
গুনগুন করে তুমি গাইছো কোন গান।
শিষ বাজিয়ে আমি দিচ্ছি তাল।
তোমাকে পেয়েছি তাই,
কবিতা লেখা ছেড়ে দিয়েছি।
পদ্মাপাড়ের এই কবি এখন সংসারী।
তোমাকে পেয়েছি বলে,
আর একটিও কবিতা লিখছিনা।
তুমিই আমার এখন শ্রেষ্ঠ কবিতা।
২৯ নভেম্বর ২০২২