আইজুদ্দিনের দৌড়
আইলের উপর দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে
আমাদের আইজুদ্দিন,
অন্ধকারে- আকাশের তারার আলোতে,
এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে।
শহরের বড় রাস্তা দিয়ে নয়,
গ্রামের ক্ষেতের আইলের উপর দিয়ে,
কাদায় আর কাঁটায় -
কেটে যাচ্ছে তার পা।
বাটার স্যান্ডেলটা ছিড়ে গেল নাকি?
ভাবার সময় নেই আইজুদ্দিনের।
রাতেই চলে যেতে হবে তাকে শহরে।
কেউ ছুটে টাকায়, পেটের ধান্দায়,
কিংবা নামের ধান্দায়
আমাদের আইজুদ্দিন ছুটছে -
টাকার ধান্দায়।
বাতাসে উড়ার রঙীন - ঢাকা শহরে।
কায়িক শ্রমিক হয়ে
কাজ পাবার আশায়।
ভোরে যখন গাড়ি থেকে নামবে রাতের মেয়েরা
আইজু্দ্দিনরা তখন রাস্তায় দাড়াবে
কেউ যদি তাকে কাজের জন্য নেয়।
কোন ট্রাকের উপরে উঠার আশায়।
আইজুদ্দিন ছুটছে - আইলের উপর দিয়ে-
এটা কি প্রেমতলি?
উজানপাড়া? নাকি রাজাবাড়ি?
দূরের কোন ঘর থেকে কার কান্না ভেসে আসে।
আইজুদ্দিনের পরীর কথা মনে পড়ে।
মেয়েটা কি কাঁদছে তার জন্য ?
আইজুদ্দিন ছুটে চলে।
করোনা কিংবা লকডাউন - সেসব সে চিনে না।
সে জানে তাকে কাজ পেতে হবে।
পরীকে বাঁচাতে হবে।
অন্ধকারে টর্চের আলো খুঁজে ফিরে আইজুদ্দিনদের।
২ জুন ২০২১
(করোনাকালিন লেখা)