জীবনানন্দ এর সুরঞ্জনা কবিতা নিয়ে আলোচনা

তারিখ নেই · 3 মিনিটের আনুমানিক পাঠ

আসলে কবিতা কে একেকজন একএক ভাবে ব‍্যখ‍্যা করে। আমার বাখ‍্যাটা অনেকটা এইরকম।

কেন ঘাস বললেন? তিনি বলতে পারতেন কোন ফুলের কথা, কিংবা না হলেও তো আম, জাম কত্ত কিছুই তো বলা যেত। কিন্তু কেন ঘাস? এত্ত কিছু থাকতে শেষমেস এই ঘাস!

আসলে ঘাসের একটি বিশেষ বৈশিষ্ঠ হল, ইটে বা অন‍্য কিছুতে যদি চাপা পড়ে যায় তবে সেটা হলুদ রঙ ধারণ করে। ঠিক মরে যায়না। অনেকটা অর্ধমৃত হয়ে হলুদ রঙ হয়ে থেকে যায়। তারপরে দীর্ঘদিন যদি ওইভাবেই থাকে তবে একসময় তা ধুসর রঙ হয়ে শেষে মরে যায়।

জীবননান্দ মনে হয় এই ঘাসের রঙের ব‍্যাপারটা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।

তাই সুরঞ্জনা কে শেষে “ঘাস” বলেছেন। হয়তো কোনকিছুতে চাপা পড়ে (ওই যুবকের কাছে যেয়ে) সুরঞ্জনা রঙ বদলে ফেলেছিল। নিজেকে পরিবর্তিত করে ফেলেছিল। আরো কিছুদিন এইভাবে থাকলে হয়তো সুরঞ্জনা মরে যাবে, সেই কথাটি বলে সাবধান করে দিয়েছিল।

তবে আমার পরিচিত একজন এটাকে অন‍্যভাবে ব‍াখ‍্যা করছে। তার মতে, ঘাস হল যার কোন কান্ড নেই, কোন মেরুদন্ড নেই। যেখানে ইচ্ছে সেখানে বড় হতে পারে। হয়তো সুরঞ্জনা সেইরকম কোন নিজস্বতা ছাড়াই পর-নির্ভরশীল কিছু। তাই হয়তো বুঝিয়েছেন।

কোন রুপক অর্থ পাঠক কিভাবে নিবেন তা পাঠকের ব‍্যাপার।

তবে সুরঞ্জনা নামে যাকে লিখেছেন, মজার ব‍্যাপারহল তিনিও কবিতা চর্চা করতেন। এবং তিনিও এর একটি কোথায় যেন এই ঘাসের প্রতিউত্তর দিয়েছিলেন। কোন একটি গবেষনা প্রবন্ধে সেটি পড়েছিলাম। ঠিক এই মুহুর্তে সেটি বলতে পারছিনা। জীবনানন্দ দাস এর উপর প্রচুর পিএইচডি হয়েছে। ভাবা যায়!

ছেলেবেলায় আমাদের বাংলার শিক্ষক জয়নাল আবেদিন, আমাদেরকে কবিতা পড়ার এই কৌশলটি শিখিয়েছিলেন। তিনি বলতেন গরু হয়ে কবিতা পড়তে হয়। কি অবস্থা! গরু? মানুষ হয়ে এই গরু শ্রেনীতে নামতে হবে!

একটু পরে ব‍্যাখ‍্যা করে বললেন। গরু কি করে? জাবর কাটে - তাই না।

কবিতা পুরাটা পড়ে ফেলতে হবে —> মানে খাওয়া হয়ে যাবে।

তারপরে একটি লাইন নিয়ে তা জবর কাটতে হবে। সেই লাইনটা কবি কেন বলল? এমন উপমা কেন ব‍্যবহার করলো? অন‍্য অনেক কিছুই তো বলা যায়, কিন্তু তা না করে কেন এমনটি বললেন?

জীবনানন্দ দাশ কেন কবিতায় বললো, “তোমার হৃদয় আজ ঘাস”। অন‍্য কিছু না বলে কেন ঘাস বললেন তা আমাদের চিন্তা করতে বললেন পুরো একটি সপ্তাহ ধরে। সেই পুরো একটি সপ্তাহ আমরা সবাই “আকাশলীনা” কবিতাতে ডুবে ছিলাম। কেন “ঘাস”। এইভাবে ডুবে যেয়ে কবিতার অর্থ বোঝাটা পাঠকদেরই কাজ।

তবে অনেক সময় কবি নিজেও ঠিক তার ব‍্যাখা করতে পারেন না। কেননা তার মন থেকে তা এসেছে, “কেন” এসেছে তার অনুসন্ধান করা তার কাজ নয় - তার কাজ সৃষ্টি করা। “কেন” - এর উত্তর খুঁজতে হবে পাঠক কেই।

তবে তেমন কবিতা চাই, যা দিয়ে জাবর কাটা যাবে।