বিলাই যখন বাঘ
টুকটাক চায়ের কাপে ঝড় তুইল্যা
মুই বিলাই হইয়া চুপ কইরা বইয়া রইতাম।
অহন সুযোগ বুইঝ্যা বাঘ হইয়া
মুই কখন বিরাট কলামিস্ট
কখন রাজনৈতিক বিচেচজ্ঞ,
কখন ডাকতর, কখনও এনজিনিয়্যার।
হালার এইমন কোন বিষয় নায়গ্যা,
যেটা লইয়্যা মুই বালা জানি না।
আমি যে কোন বিসয়ে একসুপার্ট না - তাই মুই জানি না।
দ্যাশরে কি করতে হইবেক
আর কি করতে হইবেক না
তা এই পাড়ে আইয়া সব শিইখ্যা ফালাইছি।
এসি রুমের বৈঠক খানায় - আদরের বিলাইকে পাশে বসাইয়া
মুই দ্যাশের মানুসরে সবক দিয়্যা - দিন শুরু করি ।
দুই চারখান কলাম লিইখ্যা, ডায়ালগ দিইয়্যা মুই ফেচবুক বোদ্ধা।
দ্যাশে দুই-চার লাইন কবিতা লিখতক
কলমট্যারে ভাইঙ্গা ফ্যালাইলে কি হইবেক
হালার আমি অহন বিরাট কবি, লেখক ও সমালুচক।
কাব্য লইয়্যা লাইভে আইয়া
বিরাট ঢেকুর তুইলা হৈ চৈ ফাটাইয়া ফালাইতাসি।
নদ পার হইয়া আইয়্যা গেছি মুই
কোন হালায় আমায় অহন ধরতে পারেক?
ওইপাড়ে বিলাই - আর হেইপাড়ে আইয়া বাঘ হইয়া গ্যাছিগা।
সবর্বজন শুইন্যা কয়, কে এইজন?
বারই আষাঢ়ের চৌদ্দোশ্য আটাসে কবিতায় হেই কথা
পদ্মাপাড়ের কবি মশিউর করিল বর্নন।
বাঘ হওয়ার আত্মকথন
একদিন ছিলাম চায়ের কাপের ভেতর তোলা
ছোট ছোট ঝড়ের নীরব সাক্ষী,
বিড়ালের মতো চুপচাপ
জানালার ধারে বসে থাকতাম।
প্রবাসে এসে এখন সুযোগ পেলেই
আমি বাঘ হয়ে যাই।
কখনও কলাম লিখি
পৃথিবীর সমস্ত ব্যথার ওপর,
কখনও রাজনীতির মানচিত্রে
লাল টিপ এঁকে দিই আঙুলে,
কখন চিকিৎসক হয়ে রোগ সারাই
ভাষণের ওষুধে,
কখন প্রকৌশলী—
ভাঙা দেশের ওপর সেতু আঁকি শব্দে শব্দে।
এমন কোনো বিষয় নেই,
যা আমি জানি না বলে দাবি করি না।
তবু প্রতিদিন জানি কমে যায়
নিজেকে চেনার সক্ষমতা।
দেশের কী করা উচিত,
আর কী উচিত নয়—
সবই জানি এসি ঘরের আরামে বসে,
পোষা বিড়ালকে আদর করতে করতে
নির্ধারণ করি মানুষের ভাগ্য।
ফেসবুকে আমি প্রতিদিন রাষ্ট্র গড়ি,
মন্ত্রী বানাই, উৎখাত করি,
দু-চারটি কলাম লিখে
শব্দের হাতুড়ি দিয়ে পেটাই বাস্তবতাকে।
লাইভে এসে ইনফ্লুয়েন্সার নামে
ঢেকুর তুলে শব্দ ছড়িয়ে দিই—
নদী পেরিয়ে এসেছি,
আমার পুরোনো বিড়ালত্ব ফেলে,
এই প্রবাসে এসে
বাঘ হওয়ার লাইসেন্স পেয়েছি।
এপাড়ে বাঘ, ওপাড়ে বিড়াল—
এই বিভক্ত জীবনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে
আমি আর বুঝতে পারি না
আমি আসলে কী।
বাংলা আষাঢ়ের চৌদ্দ তারিখে কবিতায় সেই কথাই বললেন পদ্মাপাড়ের কবি।