আবিরের চুল কাটা

তারিখ নেই · 4 মিনিটের আনুমানিক পাঠ

২০৩০ এর কোন একটি বিকেলে। ছুটির দিনে আবির ঘুমাচ্ছে। এই ছুটির দিনগুলি তার বেশ লাগে। আলসেমি করে কাটাতে ভালো লাগে। কিন্তু তার ঘুম ভেঙ্গে গেল তার রুমের রোবট এসিসটেন্ট এর শব্দে। সে নাকি অনেকক্ষন ঘুমিয়েছে। তার প্রয়োজনের বেশী। তাই এই ব্যবস্থা।

— ওই রোবট তুই আলসেমির বুঝিস কি! ছুটির দিনে আমি যত খুশি ঘুমাবো। তোকে মাতাব্বরি করতে কে বলেছে।

মেজাজটা গরম হয়ে গেল আবিরের।

এই নতুন শহরে সে এসেছে কিন্তু বাবার চাপে পড়ে এটাকে আনতে বাধ্য হয়েছে আবির। অনেকদিন ধরেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমেটরিতে আসতে চেয়েছে সে। বাসায় স্বাধীন ভাবে কিছছু করা যায় না। এখন তো সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকলেই নিজে স্বাধীন ভাবে থাকা শুরু করে। কিন্তু তার বাবা যে কেন এত মানধাত্তা আমলের চিন্তা ভাবনা নিয়ে আছে তা বুঝতে পারেনা আবির। তবে তার বাবা তাকে খুব ভালোবাসে তা বোঝা যায়। তার মা’ও মনে হয় এতটা বাসে না। তাই বাবার কথা শুনতে না চাইলেও পরে মেনে নিল। আর সেই মেনেই এই রোবট - “নিট” কে নিয়ে আনা।

ঘুম ভাঙ্গলে আর ঘুম আসতে চাইলোনা। ইস্ , এই বিকেলের ঘুমটাই মাটি করে দিল। বাবার নির্দেশে রোবটটাকে শাটডাউনও করে দিতে পারছেনা।

একটু পরেই আবার রোবটটা ঘ্যানঘানানি।

— মি: আবির আপনার চুল কাটা দরকার। আমি একটি সেলুনে সিডিউল করে দিচ্ছি। আর ৩০ মিনিট পরে আপনাকে সেখানে পৌছতে হবে।

এই রোবটটা তো তাকে ভালোই ঝামেলায় করছে। এটাকে পারসোনাল এসিস্টেন্ট না বলে “পাসোনাল ঝামেলা মিনিস্টার” বলা দরকার।

“আমার চুল কাটতে হবে কিনা - তা তোকে কইফত দিতে হবে!“ - একটা গালি দিতে ইচ্ছে করলো। কিন্তু দিতে পারলোনা। ব্যাটা আবার বাবা’কে রিপোর্ট করে দিবে।

আচ্ছা রোবটকে কি “ব্যাটা” বলবে নাকি “বেটি” বলবে?

যাই হোক রোবট একটি ড্রোনের রিজার্ভ দিয়ে রেখেছিল এবং সেটি তার রুমে এসে হাজির। সেটাতেই সে বসে নিল। একটু পরেই তাকে সেলুনে পৌছে দিল।

সেলুনে ঢুকতে তার আইডি দেখে একটি চেয়ারে বসতে বললো। চুল কাটার পরে তাকে দেখতে কেমন লাগবে, আর কোন স্টাইলটা ব্যবহার করবে তা সামনের ভার্চুয়াল আয়নায় আবিরকে দেখাল। আবির একটি ডিজাইন পছন্দ করলো। একটু পরেই সেই রোবট-নাপিত তার চুল কাটা শুরু করলো। এত দ্রুত কাটছে যে আবির একটু ঘাবড়ে গেল। কিন্তু আবির জানে এরা ভালোমতনই কোড করা আছে, আবিরের ভয় পাবার কোন কারন নেই। একটু পরে দেখতে দেখতে তার চুলগুলি তার দেয়া সেই ডিজাইনের মতনই হতে লাগলো। একটু একটু করে তার লুক টা পরিবর্তন হতে লাগলো।

চুল কাটা হয়ে গেলে - নিজের দিকে তাকিয়ে তার ভালো লাগলো। যাই হোক এই নিট- ব্যাটা তাকে জোর করে পাঠিয়ে মন্দ করেনি। তার চুলগুলি আসলেই বড় হয়ে গিয়েছিল।

পেমেন্ট করতে যেয়ে কাউন্টারের রিসিপশনিস্ট তার দিকে তাকিয়ে সুন্দর করে মুচকি হাসলো। এটা আসল মেয়ে নাকি কোন “রোবট-বেটি” তা নিয়ে তার একটু সন্দেহ হল। সম্ভবত রবোটই হবে, মানুষ এতটা সুন্দর করে অকারণে হাসতে পারেনা। রোবটদের সেইভাবেই পোগ্রাম করা।

পেমেন্ট করতে যেয়ে দেখে, তার চুল কাটার পরে যে চুলগুলি তারা পেয়েছে তার ওজন হিসাবে তাকে কিছু টাকা ফেরত দিয়েছে। কেননা সেই চুলগুলি তারা বিক্রি করে দিবে।

যাক্ চুলগুলি বড় হবার কারনেই টাকার পরিমানটা কম লাগলো জেনে ভালোই লাগলো।

ফুরফুরা মন নিয়ে সে ফিরলো।